বিশ্বের সমস্ত শেয়ার বাজারেই সূচকের দাম বড় মাপেই পড়েছে. এশিয়া, ইউরোপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সর্বত্রই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে আতঙ্ক ও বিনিয়োগ কারীদের পলায়ন.

    বৃহস্পতিবারে জার্মানী, ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেনের শেয়ার বাজারে শেয়ারের দাম দ্রুত কমতে শুরু করেছিল. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দাম পড়েছিল ২০০৮ সালের সব চেয়ে কম দাম অবধি. ব্রাজিলের বোভেস্পা ইন্ডেক্স শতকরা ছয় শতাংশ কমেছে. টোকিও শহরের শেয়ার বাজার খোলার পরেই নিক্কেই ইন্ডেক্সের পাঁচ পার্সেন্ট হারিয়েছে. চিন ও হংকং এ বিনিয়োগকারীরা খুবই সক্রিয় ভাবে শেয়ার থেকে অব্যাহতি খুঁজছেন. রাশিয়ার আন্তর্ব্যাঙ্ক শেয়ার বাজার ও রুশ ইলেকট্রনিক শেয়ার বাজারে একই ধরনের গতি প্রকৃতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে. শুধু শেয়ার বাজারেই ধ্বস নামে নি, খনিজ তেল, সোনার দামও কমছে. বিনিয়োগ কারীরা বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নতির হার কমে যাওয়ার ভয় যে পেয়েছেন, তা দেখাই যাচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজনেস কনসাল্টিং সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ দপ্তরের প্রধান আলেকজান্ডার ইয়াকভলেভ বলেছেন:

    "এই ধরনের ধ্বসের পিছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে. প্রথমতঃ, আমরা ভুলে যাবো না যে, গত দুই সপ্তাহ ধরে যথেষ্ট স্নায়ু টানটান করে বিশ্বের সমস্ত বাজারই ছিল. এটা ছিল সর্বজন আলোচিত বিখ্যাত মার্কিনি ডিফল্টের কারণে. যদিও বর্তমানে এই কাহিনী চিত্রের সুখী সমাপন সম্পন্ন করা হয়েছে, সমস্যা রয়ে গিয়েছে বহুল ও প্রশস্ত আকারেই. সেগুলিই বাজার গুলির উপরে চেপে বসেছে. সম্ভবতঃ বিনিয়োগকারীরা আর ধৈর্য্য ধরতে পারেন নি, ঠিক করেছেন যে, বিশ্ব অর্থনীতিতে পরিস্থিতি এখন মোটেই সুবিধার নয়. আর আমরা দেখতে পেলাম বেচে দেওয়ার ঢেউ".

    পরিস্থিতি সত্যই আদর্শের চেয়ে দূরে. ইউরোপে ঋণ সংক্রান্ত সঙ্কট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক রাজনীতির অস্পষ্ট ভবিষ্যত, সারা বিশ্ব জুড়েই ব্যবহার ও ভোগের খামতি – এই সবই বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন করেছে. তাঁরা ঠিক করেছেন আর কোন ঝুঁকি না নিয়ে সেই সমস্ত কাগজ থেকে রেহাই পাওয়ার, যার ভবিষ্যত খুবই কুয়াশাচ্ছন্ন. প্রসঙ্গতঃ, বিগত সময়ে শেয়ার যাদের ছিল, তারা এমনিতেই আয় করতে পেরেছেন, এই কথা মনে করেছেন আলেকজান্ডার ইয়াকভলেভ, তিনি তাই যোগ করে বলেছেন:

    "বিগত সময়ে বাজার যথেষ্ট আস্থা যোগ্য ভাবে বেড়েছিল, আমেরিকার শেয়ার মার্কেটের সূচক গুলি, এস অ্যান্ড পি, ডো জোনস খুব একটা খারাপ দাম বাড়া দেখায় নি. খনিজ তেল সঙ্কট পরবর্তী কালে সবচেয়ে বেশী দাম অবধি উঠেছিল. সব মিলিয়ে, গত বছর ছিল খুবই সাফল্যের, যারা দাম বাড়লে খেলেন, তাদের জন্য. আর এখন নেতিবাচক ঘটনার পটভূমিতে, যা বিনিয়োগকারীদের মনে ও চিন্তায় ঢুকেছে, তা হল, বহু খেলোয়াড়ই ঠিক করেছেন এবারে লাভ গুটিয়ে নেওয়ার পালা. তাই আমরা এত বড় মাপের বেচার ঢেউ দেখতে পাচ্ছি".

    প্রসঙ্গতঃ আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, বিশেষজ্ঞ তাই মনে করেন. বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নিরাপদ এমন পরিমানে শেয়ার বা কাঁচামালের দাম পড়ে যাওয়ার জন্য অনেক জায়গা রয়েছে. সম্ভবতঃ, পতন এখনও আরও কিছু কাল ধরে চলবে. কারণ আসল কারণ গুলি – বহু দেশের ঋণ সংক্রান্ত সমস্যা বেশ অনেক দিনের বিষয়. দ্রুত এর সমাধান হবে না. সুতরাং আসন্ন ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের শান্ত মনোভাব দেখতে পাওয়ার আশা নেই.