বর্তমানের সিরিয়া ও লিবিয়াতে পরিস্থিতি দাবী করছে আলাদা করে দৃষ্টিকোণের ও সমস্ত বিভঙ্গের কথা চিন্তা করেই কাজ করার, এই কথা ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি. তিনি রাশিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল "রাশিয়া টুডে", রাশিয়ার রেডিও স্টেশন "এখা মস্কভী" (মস্কোর প্রতিধ্বনি) ও জর্জিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল "পিক" আয়োজিত এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসাবে তাঁর মত এই সব দেশ নিয়ে ব্যক্ত করেছেন.

    রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, একই রকমের দেশ বা একই ধরনের পরিস্থিতি হয় না. যদি লিবিয়ার দিকে দেখা হয়, তবে প্রাথমিক ভাবে সবই বোধগম্য: যে মানুষটি চল্লিশ বছর ধরে দেশ চালাচ্ছেন তিনি নিজের দেশের জনতার উপরেই শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন. কোন একটা সময়ে মুহম্মর গাদ্দাফি সবচেয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাঁর বিরোধী দের ধ্বংস করার. অবশ্যই এই ধরনের কাজের সকলেই নিন্দা করেছে. কিন্তু এই প্রশ্ন সমাধান শুধু সামরিক পদ্ধতি দিয়েই সমাধানের অপচেষ্টা রাশিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকেও ঠিক নয়.

    এই পরিস্থিতিতে ভাল কিছু হওয়ার একমাত্র উত্স হল, সব কিছু স্বত্ত্বেও, গাদ্দাফি ও তার বিরোধী পক্ষের মধ্যে লড়াই চললেও, লিবিয়ার অখণ্ডতা এখনও বজায় রয়েছে. একই সময়ে এই ধরনের পরিস্থিতিতে, অন্য কোন দেশে বাস্তবে দেশ বহুধা বিভক্তই হয়েছে. এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

    "লিবিয়া আপাততঃ ভেঙে পড়ে নি. সেখানে এই ধরনের একটা আশঙ্কা রয়েছে, কিন্তু আপাততঃ সবাই (যেমন বিদ্রোহীরা, তেমনই গাদ্দাফি অনুগতরা) জন্মভূমির অখণ্ডতা রক্ষার জন্যই ঘোষণা করছে. আমি এই সব সম্বন্ধে এই জন্যেই বলছি যাতে, দেখানো সম্ভব হয় যে, সমস্ত মডেল একেবারেই আলাদা".

    সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি যেমন মেনে নিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনাও একই ভাবে নাটকীয় হচ্ছে. যদিও বাশার আসাদ গাদ্দাফির মতো বিরোধী পক্ষকে মুছে দেওয়ার মতো কোন আদেশ দেন নি, তবুও সেখানে মানুষ মারা পড়ছেন. বোঝাই যাচ্ছে যে, এই ধরনের পরিস্থিতি খুবই উদ্বিগ্ন করে তোলে. আর এই জন্যই, রাশিয়ার নেতা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বাশার আসাদকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন, যাতে তিনি সিরিয়ার রাজনৈতিক সংশোধন পরম্পরা মেনে করেন. এই কথা উল্লেখ করে, দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন:

    "তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত কথাবার্তায় ও সেই সমস্ত চিঠি, যা আমি তাঁকে পাঠিয়েছি, তাতে আমি একটাই ধারণাকে ধরে রেখেছি: দ্রুত সংশোধনের প্রয়োজন, বিরোধী দের সঙ্গে শান্তি স্থাপন করা দরকার, সামাজিক শান্তি প্রণয়নের দরকার   ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের প্রয়োজন. আমরাও স্বাভাবিক ভাবে এই পরিস্থিতির পরিবর্তনের দিকে তাকিয়ে আছি, তা পরিবর্তিত হচ্ছে, যেমন আমাদেরও কিছু দিক চিহ্নের পরিবর্তন হচ্ছে".

    নিজেদের পক্ষ থেকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর ভরসা প্রকাশ করেছে যে, সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এই দেশের নাগরিকদেরই করণীয় কাজ, যার ভিত্তি হবে সারা সিরিয়ার মধ্যেই বাইরের থেকে কোন অনুপ্রবেশ ছাড়াই আলোচনা. এই অবস্থান রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ঘোষণাতেও প্রতিফলিত হয়েছে. পরিষদ বুধবারে সিরিয়ার প্রশাসনের নিন্দা করেছে বিরোধী মিছিলের উপরে আক্রমণ করার জন্য ও সমস্ত পক্ষকেই হিংসার পথ ত্যাগ করতে আহ্বান জানিয়েছে. এই আহ্বান পরিষদের প্রধানের বিজ্ঞপ্তি হিসাবে প্রকাশিত হয়েছে, যদিও কিছু পশ্চিমের দেশ প্রচেষ্টা করেছিল আরও বেশী করে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করার – নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্ত নেওয়ার. রাষ্ট্রসংঘ একই ভাবে সিরিয়ার প্রশাসনকে আশ্বাস অনুযায়ী সমস্ত রাজনৈতিক সংশোধন করতে আহ্বান জানিয়েছে. আর বৃহস্পতিবারে রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ দেশে সর্বজনীন নির্বাচন ও বহু দলীয় প্রশাসন নিয়ে নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন.