মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ডিফল্ট পেছিয়ে দিয়ে সিয়ান গান (হংকং) অঞ্চলকে ডলারের ভরসা যোগ্যতা নিয়ে আলোচনার মধ্যে ডুবিয়ে দিয়েছে.

    হংকং – সাংহাই ব্যাঙ্ক কর্পোরেশনের প্রধান, যাঁর কাছে হংকং বহু অর্থেই বিশ্বের এক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য বাধ্য, সেই স্টুয়ার্ট গালিভার ঘোষণা করেছেন যে, সিয়ান গানের এখনই উচিত হবে হংকং ডলারের সঙ্গে মার্কিন ডলারের যোগসূত্র ছিন্ন করার, কিন্তু আপাততঃ সেটাকে স্বাধীন ভাবে ছেড়ে দেওয়ার সময় আসে নি, অর্থাত্, উচিত হবে বাজার অনুযায়ী দর ঠিক করার পথে চলার. তাঁর অবস্থান হংকং এর অন্যান্য বড় কোম্পানীর প্রধানেরাও ঠিক মনে করেছেন. সিয়ান গানের ডলারের সঙ্গে আমেরিকার ডলারের যোগ নষ্ট করে ফেলার পরিকল্পনা হচ্ছে না, এই কথা ঘোষণা করেছেন চীনের এই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অর্থ মন্ত্রী জন শাঙ্গ. এটা বিশ্বের প্রতি পুরনো নজরে দেখা, এই কথা উল্লেখ করেছেন এই ব্যাঙ্কের বিশ্লেষকেরা.

    চীনের মহাদেশীয় অংশে ডলারের প্রতি সম্পর্ককে অন্য দিক থেকে দেখার বিষয়ে সব চেয়ে বেশী করে জোরে শোনা যাচ্ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফল্টের আশঙ্কার দিন গুলিতে.

    জাপান ও চিন – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণপত্রের দুটি বৃহত্তম সঞ্চয় কারী দেশ. তাই সেই কারণে তারা বহুলাংশেই আমেরিকার অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করতে বাধ্য. একই অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া. তারই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফল্টের ভয়ে এই সব দেশের স্থানীয় মুদ্রার দর ডলারের তুলনায় প্রচুর বেড়েছে. এর ফলে তাদের রপ্তানীর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা কমেছে. কিন্তু সত্যিকারের বিকল্প ডলারের আপাততঃ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না, আর এটা – মূখ্য সমস্যা, এই কথা মনে করেছেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া বিভাগের প্রধান দিমিত্রি মসিয়াকভ, তিনি বলেছেন:

    "এখনও খুব একটা স্পষ্ট ভাবে সত্যিকারের কোন বিকল্প দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র – বাস্তবে চিনের অন্যান্য এশিয়ার দেশের প্রধান বাণিজ্য সহকর্মী দেশ. যদিও, অবশ্যই, অন্য কিছু সম্ভাবনা থাকতে পারে. এটা বড় পূর্ব এশিয়া প্রকল্প, ইউয়ানের এই অঞ্চল ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সমেত অন্যান্য দেশের জন্য প্রধান সঞ্চয় মুদ্রায় পরিনত হওয়া, বিদেশী মুদিরা সঞ্চয়ের রাজনীতিতে বহুধা বিভক্ত হওয়ার নীতিতে দেশ গুলির সহযোগিতা, ইউরো অঞ্চলের সঙ্গে সহযোগিতা, ডলারের দিকে লক্ষ্য করা এড়িয়ে যাওয়া".

    এশিয়ার দেশ গুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফল্টের আশঙ্কা খুবই বড় আকারে ডলারের প্রতি ভরসা করার উপরে আঘাত হেনেছে. ফল – বিদেশী মুদ্রা সঞ্চয়ের নীতিতে সংশোধন, বিদেশী মুদ্রা সঞ্চয়ে ডলারের পরিমান কমানো, দেশ গুলির স্থানীয় মুদ্রার দর নির্ণয়ে বিদেশী মুদ্রার বিভিন্ন মুদ্রার সমন্বয়ে তৈরী ঝুড়ির দিকে লক্ষ্য করা. এই ক্ষেত্রে প্রথমে এগিয়ে রয়েছে চিন, ভারত ও সিঙ্গাপুর. ব্রিকস দেশ গুলির নেতারা এমনকি নিজেদের দেশ গুলির মধ্যে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় মুদ্রাতেই একে অপরকে ঋণ দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে. সুতরাং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ঋণের চারপাশ জুড়ে সমস্যা যথেষ্ট দামী হতেই পারে.