সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ দেশে বহু দলীয় শাসন সংক্রান্ত নির্দেশ স্বাক্ষর করেছেন. এর অর্থ হল যে, দেশের নেতা বিরোধী পক্ষের একটি প্রধান দাবী মেনে নিয়েছেন, যারা রাজনৈতিক সংশোধন চেয়েছিল. কিন্তু আপাততঃ দেশের পরিস্থিতি সঙ্কট জনক রয়েছে. হামা শহরে সরকারের কাজের নিন্দা করে সারা দেশের বহু শহরেই প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন বহু নাগরিক. হামা শহরে কেন্দ্রীয় অঞ্চল বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের বাহিনী দখল করেছে.

একই সময়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে, কিন্তু শুধু বিজ্ঞপ্তি দিয়েই ক্ষান্ত থাকা হয়েছে. তিন দিনের খুবই উতপ্ত বিতর্কের পরে পক্ষেরা কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত হয়েছে.

বহু দলীয় শাসন সংক্রান্ত আইনের খসড়া ২৪শে জুলাই দেশের প্রশাসন সমর্থন করেছিল. এর বাস্তব অর্থ হল বাথ (আরব সমাজতান্ত্রিক পুনর্জাগরণ দল) দলের একচেটিয়া রাজনৈতিক ক্ষমতা কমানোর জন্য প্রথম পদক্ষেপ, যারা ১৯৬৩ সাল থেকেই ক্ষমতায় রয়েছে. একই সঙ্গে এখনও খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে মনে করলে যে, সিরিয়ার  পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে.

ধারণা করতে ক্ষতি নেই যে, সিরিয়ার বিরোধের সমাধানের স্বপক্ষে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ঘোষণা সহায়তা করবে. বিশেষজ্ঞরা মূল্যায়ণ করেছেন যে, এই দলিল যথেষ্ট ভারসাম্য যুক্ত. বর্তমানের পরিস্থিতিতে অন্য কোন প্রতিক্রিয়ার অর্থ হত বিরোধের আরও সম্ভাব্য বৃদ্ধি ও এই অঞ্চলের জন্য একেবারেই অকল্পনীয় পরিনামের দিকে যাওয়া, এই রকম মনে করে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ও প্রাচ্য বিশারদ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

"এখন যদি সিরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্ত চালু করা হতো, তবে তা প্রশাসনকে খুবই জটিল তীক্ষ্ণ পরিস্থিতিতে নিয়ে যেত. এখানে প্রজাতি ও ধর্ম সংক্রান্ত ভারসাম্য খুবই ভঙ্গুর. দ্রুজ, শিয়া, সুন্নী ও কুর্দ মুসলমান প্রজাতি – একেবারে ফুটন্ত কড়াই. যদি এখন এই প্রশাসনকে ফেলে দেওয়া হয়, তবে সিরিয়ার জন্য তার পরিনাম হবে অভাবনীয়, দেশে মাত্সান্যায় শুরু হবে, আর এটা কেন ফাঁকা আওয়াজ নয়. কারণ সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ – কোন সুযোগ্য পরিবর্ত নয়. তাদের কোন নির্দিষ্ট তত্ত্ব নেই কি করে রাষ্ট্র গঠন হবে. আসাদকে ফেলে দেওয়া হলে, এই এলাকা একেবারেই নিয়ন্ত্রণ শূণ্য হয়ে যাবে, আর তা এই মুহূর্তে কারও প্রয়োজন নেই".

নির্দিষ্ট কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সংঘের বেশ কিছু দেশ দাবী করেছিল - ইতালি দামাস্কাস থেকে নিজেদের রাজদূতকে ফিরিয়ে নিয়েও গিয়েছিল. কিন্তু রাশিয়ার সক্রিয়তা ও অন্যান্য কড়া কাজের বিরোধীদের প্রচেষ্টায় কোন তীক্ষ্ণ পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত হওয়া সম্ভব হয়েছে. ফলে নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ার প্রশাসনকে অবিলম্বে রক্তপাত বন্ধ করতে বলেছে. ঘোষণাতে একই সঙ্গে বিরোধী পক্ষকেও আহ্বান করা হয়েছে "ধৈর্য্য প্রদর্শন" করতে ও "সরকারি ভবন গুলির উপরে আক্রমণ" না করতে.

শেষ ঘটনা এখন সমস্ত রকমের ধারণার ভিত্তি হয়েছে যে, উন্মুক্ত ভাবে বিরোধের শেষ হবে, আর আসাদ, নিষেধাজ্ঞা এড়াতে পেরে, সংশোধনের পথে আসবেন, এই কথা উল্লেখ করে সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

"ঐতিহাসিক সম্ভাবনা অনুযায়ী, আমার মনে হয়েছে যে, আসাদের এখন সমস্ত ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে দেশের পরিস্থিতিকে সামলে নেওয়ার. কারণ বিরোধী পক্ষ বহুধা বিভক্ত, তারা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি নানা অবস্থান থেকে প্রতিবাদ করছে. এখনই এক ধরনের পরিস্থিতি বদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে. তা ঐস্লামিক বিরোধী পক্ষের দেশকে সংশোধনের প্রচেষ্টাকে দমিয়ে দেওয়ার মধ্য রয়েছে. সিরিয়া এই সঙ্কট থেকে নতুন রূপে বেরিয়ে আসবে. সেই রকম নয়, যা আমরা বলতে অভ্যস্ত ছিলাম, একনায়কতন্ত্রী. সংশোধনের পথ শুরু হয়েছে".

বিশেষজ্ঞরা আগেও উল্লেখ করেছিলেন যে, বাশার আসাদ সংশোধনের পথে যেতে তৈরী, কিন্তু এটা হবে এক দীর্ঘ পথ. এখানে পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করছে প্রাক্তন দেশরক্ষীদের প্রভাবশালী লোকেরা, তার উপরে ইউরোপীয় সংঘ, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাশার আসাদকে একঘরে করার ঘোষণা. এই ধরনের পরিস্থিতিতে কাজ করা সহজ নয়. এই সূত্রে রাশিয়া, যারা যথাসম্ভব দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সিরিয়ার সমস্ত নাগরিকদের জন্যই আভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্যের বিষয়ে সমাধান খোঁজার কথা বলেছে, তারাই বিশেষ অর্থবহ হতে পেরেছে.