একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি এশিয়া ইউরোপের মতই ধনী ও উন্নতিশীল হতে পারে. কিন্তু তা হতে পারে যদি বর্তমানের সমস্যা গুলির সমাধান করা সম্ভব হয়, যা এই মহাদেশের উন্নতির পথে অন্তরায় হয়েছে. এই সিদ্ধান্ত এশিয়া উন্নয়ন ব্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞরা তাঁদের তৈরী প্রবন্ধে করেছেন.

তাঁদের হিসাব অনুযায়ী এশিয়া মহাদেশের দেশ গুলির সার্বিক জাতীয় আয় ২০৫০ সালে ২০১০ সালের তুলনায় দশ গুণ বেড়ে যাবে. বিশ্ব অর্থনীতিতে এশিয়ার ভাগ হবে শতকরা পঞ্চাশ. শতাব্দীর মাঝামাঝি জনপ্রতি আয়ের গড় হবে বর্তমানে ইউরোপের আয়ের সমান. এই উন্নতির ক্ষেত্রে অগ্রণী হবে চিন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া.

এশিয়ার যুগকে পিছিয়ে দেতে পারে যে সমস্ত সমস্যা, তার মধ্যে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন ক্রমবর্ধমান সামাজিক উত্তেজনা, যা অসম ধন বন্টনের কারণে হচ্ছে, আর তার সঙ্গে দুর্নীতি. এই সমস্যায় অঞ্চলের বহু দেশই জর্জরিত. পরিবেশ সংরক্ষণের সমস্যাও খুবই তীক্ষ্ণ হয়েছে, দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে আবার এটা জড়িত. এশিয়ার দেশ গুলি বর্তমানে এক দোদুল্যমানতার সামনে দুলছে – এক দিকে তাদের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণ করতে হবে, অন্য দিকে – অর্থনৈতিক উন্নতির পথে অন্তরায় হয়েছে বাস্তবে সীমাবদ্ধ রসদের ভাণ্ডার.

রাশিয়ার প্রশাসনের দপ্তরের প্রাক্তন সহকারী প্রধান আলেক্সেই ভোলিন যেমন মনে করেছেন যে বহু সমস্যাই, যে গুলি নিয়ে এশিয়া ব্যাঙ্কের রিপোর্টে বলা হয়েছে, তা পরিনত করা সম্ভব গুণে. বলা যেতে পারে, জনগনের কম আয়কে যেমন বিনিয়োগকারীদের সস্তা শ্রমের জন্য আকর্ষণ করে, তিনি বলেছেন:

"বেশ কিছু এশিয়ার অর্থনীতির কাছে খনিজ তেল ও গ্যাসের নিজস্ব ভাণ্ডার নেই, আবার এটা এক ধরনের ইতিবাচক ব্যাপারও হতে পারে, - অর্থনীতি কাজ করছে আমদানী কৃত কাঁচামালের ভরসায়, আর এটা বাধ্য করে জ্বালানী সাশ্রয় করে উত্পাদন করায়. এই ভাবে সমস্ত অভাবের বিষয় গুলিকেই, যা প্রায়ই ইউরোপ ও আমেরিকার লোকেরা বলে থাকেন, তাকে আসলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রকমের এশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য এঞ্জিনের মত ব্যবহার করা যেতে পারে".

এশিয়ার অর্থনীতি যেমন ছিল, তেমনই মাত্রার ভারসাম্য না রেখেই হয়ে চলেছে. উল্লেখ করেছেন "রাশিয়ার বিনিয়োগ কর্পোরেশন ব্যাঙ্কের" সভাপতি আন্দ্রেই নিচায়েভ, তিনি বলেছেন:

"এশিয়া সম্বন্ধে অর্থনৈতিক ভাবে কোন সম্পূর্ণ একক হিসাবে বলা যেতেই পারে না. এই মহাদেশের দেশ গুলি একেবারেই আলাদা. একদিকে ভারত, যা শুধু দ্রুত উন্নতিই করছে না, বেশ কিছু দিকে, যেমন প্রোগ্রামিং এর ক্ষেত্রে বর্তমানে বিশ্বের একটি কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে. এটা – চিন, যারা এখনও চলছে অতিক্রম করার উন্নয়নের নীতি নিয়ে, কিন্তু চলছে খুবই সাফল্যের সঙ্গে. সেখানে উচ্চ প্রযুক্তি বিকাশ হচ্ছে, মহাকাশ প্রযুক্তি বিকাশ হচ্ছে, মোটর গাড়ী নির্মাণ চলছে. চিন বর্তমানে বিশ্ব ইলেকট্রনিকস শিল্পের কারখানায় পরিনত হয়েছে, যদিও বর্তমানে তারা চলেছে শুধু জোড়া দেওয়া ও ধার করা প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে. অন্য দিকে, এই অঞ্চলে রয়েছে দরিদ্র ও পেছিয়ে পড়া দেশ গুলিও. শ্রীলঙ্কা অথবা পাপুয়া নিউ গিনি. কিন্তু সব মিলিয়ে বলা যেতেই পারে যে, এই অঞ্চল খুবই শক্তিশালী প্রতিযোগী হওয়ার ক্ষমতা রাখে".

এশিয়ার লোকেরা নিজেরা খুব একটা অতিরিক্ত খুশী নয়. এশিয়া উন্নয়ন ব্যাঙ্কের সভাপতি হারুহিকো কুরোদা এই প্রবন্ধ প্রকাশ উপলক্ষে উল্লেখ করেছেন যে, এশিয়ার উন্নয়ন এটা স্বয়ংক্রিয় চালনায় উড়ান বলে বলা যেতে পারে না. এক্ষেত্রে কেন আত্মবিশ্বাসের ভরসায় থাকা চলে না, বলে তিনি উল্লেখ করেছেন. এই প্রবন্ধের লেখকেরা লক্ষ্য করেছেন যে, স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য দেশ গুলিতে দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করতে হবে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে ব্যবসায়কে সহযোগিতা করতে হবে, উদ্ভাবনী ও নূতন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নয়ন করতে হবে. সামাজিক – অর্থনৈতিক বিপদ গুলিতে মনোনিবেশ করে এই ব্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞরা খুবই কম বলেছেন সামরিক বা রাজনৈতিক ঝুঁকি সম্বন্ধে. কিন্তু কাঁচামালের বিষয়ে সীমাবদ্ধ হওয়া, তা শুধু কার্বন যৌগের ক্ষেত্রেই নয়, এমনকি পানীয় জলের জন্যও, এই এলাকার দেশ গুলির জন্য খুবই গুরুতর সংঘর্ষ, এমনকি যুদ্ধের কারণও হতে পারে. অন্ততঃ এশিয়ার দেশ গুলিতে সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধি বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই বাধ্য করছে "কাঁচামালের জন্য কূটনীতি". এই ভাবে, বিস্তীর্ণ এশিয়া মহাদেশের নিজেদের "স্বর্ণ যুগের" দিকের পথ হয়ে রয়েছে কন্টকাকীর্ণ ও অনেক সময়েই নিরাপদ নয়.