রাশিয়ার শহর ইকাতেরিনবুর্গ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী একস্পো – ২০২০ অনুষ্ঠানের অধিকারের জন্য লড়বে. প্রার্থী পদের জন্য উদ্যোগ সমর্থন করেছেন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ. বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, সাংহাই শহরে ২০১০ সালে এক্সপো প্রদর্শনীতে রাশিয়ার সাফল্যের ফলে  একই ধরনের ফোরাম নিজেদের দেশে পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই রয়েছে.

     রাশিয়ায় এই একস্পো – ২০২০ করার জন্য দুটি শহর দাবী করেছিল – নিঝনি নভগোরদ ও ইকাতেরিনবুর্গ. উরালের রাজধানীর উপরে নির্বাচন শুধুশুধুই হয় নি. এই শহর দেশের একেবারে কেন্দ্র স্থলে., এশিয়া ও ইউরোপের সীমানায়, আর বহু বছর ধরেই দেশের বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও. কিন্তু এই শহর নিজের শিল্প বিকাশের জন্যই বিশেষ করে বিখ্যাত, অংশতঃ ধাতু শিল্পের জন্য. এই শহর ভাল গুণ মান সম্পন্ন ধাতু দিয়ে শুধু দেশের ভিতরেই নয়, বিদেশেও রপ্তানী করে আসছে. ইকাতেরিনবুর্গ শহরে তৈরী ছাত ঢাকার লোহা দিয়ে এক সময়ে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ছাতও ঢাকা হয়েছিল. এই খানে তৈরী ধাতু দিয়েই আমেরিকার স্ট্যাচু অফ লিবার্টির ভিতরের ফ্রেম তৈরী করা হয়েছিল. তাছাড়া ইকাতেরিনবুর্গ দেশের পরিবহন ব্যবস্থারও একটি মূখ্য গ্রন্থি. এই সমস্ত কারণ ও শহরের উন্নতির দ্রুত গতি মিলিয়ে এই শহরের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাকে জোরদার করেছে, এই কথা উল্লেখ করে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া সাক্ষাত্কারে স্ভেরদলভস্ক রাজ্যের প্রশাসনের সহ সভাপতি মিখাইল ম্যাক্সিমভ বলেছেন:

    "রাশিয়ার জয়ের সম্ভাবনা প্রচুর. এই প্রদর্শনীর সমগ্র ইতিহাসে একবারও তা রাশিয়াতে হয় নি. ইকাতেরিনবুর্গ বিগত দুই বছর ধরে যা করা হয়েছে, তার জন্য বর্তমানে একটি শ্রেষ্ঠ পরিকাঠামো যুক্ত শহরের অন্যতম, যেখানে এই ধরনের বিশাল প্রদর্শনী হতেই পারে. যদি বলা যায় যে, আমাদের আগামী বছরের এপ্রিল মাসেই প্রতিযোগিতা পরিষদের কার্যকরী প্রতিনিধি দলকে এখানে আনতে হবে, যারা শহরের সঙ্গে পরিচিত হবেন, তাহলে আমাদের দেখানোর মতো কিছু থাকবে. আমাদের পরিবহনের পরিকাঠামো খুব ভাল ভাবে বিকাশ করা হয়েছে, নতুন বিমান বন্দর রয়েছে, খুব ভাল হোটেলের পরিকাঠামো রয়েছে আর কিছু দিন আগে আমরা নতুন প্রদর্শনীর জন্য কমপ্লেক্স তৈরী করেছি, যা সারা বিশ্বের মান অনুযায়ী".

    কিন্ত মূখ্য হল, এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হলে বিকাশের গতি স্তিমিত করার কোন কারণ থাকবে না, এই কথা মনে করা হয়েছে স্ভেরদলভস্ক রাজ্যের প্রশাসনে. এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি করার জন্য আরও কাজের জায়গা, নতুন সড়ক ও নতুন পরিকাঠামো তৈরী হবে. আর তা এখানে হলে ইকাতেরিনবুর্গে বিনিয়োগকারীরা আসবেন. তাই সরকার ও জনগন জয়ের জন্য খুবই গুরুত্ব দিয়ে তৈরী হচ্ছেন, এই কথা যোগ করে মিখাইল ম্যাক্সিমভ বলেছেন:

    "স্ভেরদলভস্ক রাজ্য ও ইকাতেরিনবুর্গ শহরের জন্য বিগত বছর গুলিতে এটি ছিল একটি অন্যতম প্রতীকী ঘটনা, যখন দেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ইকাতেরিনবুর্গ শহর থেকেই প্রস্তুতি পুস্তিকা তৈরী করায় আস্থা জ্ঞাপন করেছেন. কারণ ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে শহর খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আগামী বহু বছরের জন্যই একেবারে পাল্টে যাবে. এই শহরের জন্য ও অঞ্চলের উত্তরাধিকার হবে বিশাল. জীবনের জন্য নতুন পরিবেশ তৈরী হবে. তাই আমাদের সমস্ত স্তরেই শোনা যাচ্ছে সমর্থনের উল্লাস".

    এখানে যোগ করবো যে, ইকাতেরিনবুর্গের বিশাল প্রদর্শনী করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে. এই নিয়ে পরপর দুই বছর ধরে এখানে রাশিয়ার উদ্ভাবনী শিল্প প্রদর্শনী "ইন্নোপ্রম" হচ্ছে. তার উপরে ২০১৮ সালে শহর বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্যও একটি রাজধানী হতে চলেছে. বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, বিগত সময়ে রাশিয়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে খুবই ইতিবাচক ভাবে প্রকাশ হয়েছে ও আরও স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও অনুষ্ঠান করতে চাইছে, যে কারণে বিশ্ব সমাজের কাছ থেকে এক ধরনের স্বীকৃতিও পাচ্ছে. ২০১২ সালে ভ্লাদিভস্তক শহরে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলন হতে চলেছে. ২০১৪ সালে সোচী শহরে শীত অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে. আর ২০১৮ সালে – বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা.