রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত দিয়ে লিবিয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে দেওয়া যেতে পারে না. আর বাশার আসাদের সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এই দেশের পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে না. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের নিকট প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা দপ্তরের প্রধান সের্গেই ভেরশিনিন. দামাস্কাস শহরের পরিস্থিতি সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা তাঁদের পক্ষ থেকে এই বিশ্বাসই  প্রকাশ করেছেন: পশ্চিম রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া সম্বন্ধে খুবই বেদনা দায়ক বলে পরিচিত ১৯৭৩ নম্বর নিষেধাজ্ঞার মতো কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার "জোর করে" প্রচেষ্টা পরিত্যাগ করবে না.

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের সিরিয়া নিয়ে পরামর্শ এই দিন গুলিতে নিউইয়র্ক শহরে চলছে. অংশতঃ ফ্রান্সের দাবী অনুযায়ী সিরিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে. এই আলোচনার জন্য কারণ হয়েছে হামা শহরের বিগত কয়েক দিনের ঘটনা: বিগত ছুটির দিন গুলিতে সরকারি বাহিনী চেষ্টা করেছিল বিরোধী পক্ষের কবল থেকে শহর উদ্ধার করার, সংঘর্ষে কম করে হলেও ১২০ জনের মৃত্যু হয়েছে.

মস্কো শহরে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতির অনুগত সেনা বাহিনীর কাজকে সমর্থন করা চেষ্টা করা হয় নি. তা স্বত্ত্বেও পররাষ্ট্র দপ্তর বিশেষ করে উল্লেখ করেছে যে, বাশার আসাদ একাধিকবার বিরোধী পক্ষকে আলোচনা করতে আহ্বান করেছেন, কিন্তু জঙ্গীরা আলোচনা এড়াতে চাইছে. সের্গেই ভেরশিনিন বলেছেন, রাশিয়ার সিরিয়ার রাজদূতাবাস এই বিরোধের উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখে চলেছে. মস্কোর অবস্থান আগের মতই রয়েছে: হিংসা চলতে দেওয়া যায় না, তা যেমন নিরপরাধ প্রতিবাদ মিছিলের লোকেদের উপরে নয়, তেমনই সরকারের প্রতিনিধিদের উপরেও নয়.

সিরিয়া সম্বন্ধে লিবিয়ার মতই কোন নিষেধাজ্ঞা সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিপদ সম্বন্ধে সাবধান করে দিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির আফ্রিকা সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি মিখাইল মার্গেলভ. মিখাইল মার্গেলভের কথা অনুযায়ী, এই দেশের উপরে আকাশ বন্ধ করে দেওয়ার অর্থ হবে বিশাল যুদ্ধ শুরু হওয়া. সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ – পরিস্কার ধর্ম নিরপেক্ষ নয়, যদিও তারা প্রশাসনকে গণতান্ত্রিক করার স্লোগানের আড়ালে কাজ করছে. তারা বহুদিন ধরেই রয়েছে. তাদের স্বপক্ষে রয়েছে – রাজনৈতিক দল গুলি – যারা চরমপন্থী "মুসলমান ভাইদের" দলের কাছাকাছি. আরও বেশী করে পরিস্থিতি জটিল করেছে বহু দিনের আলাউই দের মধ্যে আভ্যন্তরীণ বিবাদ, যাদের সঙ্গে বর্তমানের দেশের নেতৃত্বও জড়িত, ও সুন্নী মুসলমান দের মধ্যে, যারা এই দেশের অধিকাংশ জনগন. এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমের তরফ থেকে বিরোধী পক্ষের হয়ে সামরিক অনুপ্রবেশ দেশের গণতান্ত্রিক শক্তি গুলির জন্য আঘাত হয়ে দাঁড়াবে.

ন্যাটো জোট আপাততঃ ঘোষণা করে চলেছে যে, সিরিয়াতে সামরিক অনুপ্রবেশ করা মতো কোন পরিস্থিতি হয় নি. জোটের সাধারন সম্পাদক আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেনের কথামতো, লিবিয়াতে জোট রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করছে ও এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সমর্থনেও তা হচ্ছে. সিরিয়াতে এই ধরনের পরিস্থিতি নেই. একই ধরনের ঘোষণা দিয়ে বক্তৃতা করেছেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উইলিয়াম হেগ. কিন্তু তিনি আবার কথা ঘুরিয়ে বলেছেন যে, "পশ্চিমের দেশ গুলির তরফ থেকে সিরিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে বাড়তি নিষেধাজ্ঞা নেওয়ার প্রয়োজন". ব্রিটেনের মন্ত্রীর এই ঘুরিয়ে কথা বলা, বাইরে থেকে "শান্তিপূর্ণ" লোক দেখানো ন্যাটো জোটের সাধারন সম্পাদকের ঘোষণার চেয়ে, অনেক বেশী সত্যের কাছাকাছি, এই কথা বিশ্বাস করে ভূ রাজনৈতিক সমস্যা একাডেমীর সহ সভাপতি ভ্লাদিমির আনোখিন বলেছেন:

"যদি লিবিয়াতে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত ন্যাটো জোট কি ভাবে ব্যবহার করেছে, তা দেখা হয়, তবে নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত যে কোন দলিল কেই সিরিয়ার বিরুদ্ধেও একই ভাবে ব্যবহার করা হবে. তাই এই পরিস্থিতি থেকে একমাত্র বেরোনোর পথ হল – সিরিয়ার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে নেওয়া যে কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞার বিপক্ষে যাওয়া. আমি মনে করি যে, এই ক্ষেত্রে রাশিয়া একা হবে না".

সব দিক বিচার করে, দেখা যাচ্ছে যে, পশ্চিম সিরিয়ার বিষয়েও এর মধ্যেই তৈরী করা পথ ব্যবহার করে চলতে চাইছে. যখন রাষ্ট্রসংঘে আলোচনা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় সংঘ সিরিয়ার কিছু উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে, তার মধ্যে সেই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীও আছেন. আরও এক গুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা – বর্তমানে তৈরী করা হচ্ছে.

এখানে মনে করিয়ে দিই যে, বাশার আসাদ বেশ কিছু মাস আগেই বিরোধী শক্তির সঙ্গে যুযুধান অবস্থা হওয়ার শুরুতে সমঝোতা করার ও রাজনৈতিক সংশোধনের জন্য তৈরী আছেন বলে জানিয়েছিলেন. প্রথমে তিনি দেশে জরুরী অবস্থা প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন – যা, প্রসঙ্গতঃ, মিটিং করা লোকেদের প্রধান দাবী ছিল. জুলাই মাসের শেষে সিরিয়ার প্রশাসন রাজনৈতিক দলগুলির কাজকর্ম সম্বন্ধে আইনের খসড়াকে সমর্থন করেছিল, আর এই দলিল অনুযায়ী দেশে বহু দলীয় শাসন সম্ভাব্য হয়েছে. সর্বজনীন নির্বাচন নিয়েও আইনের খসড়া গৃহীত হয়েছে সিরিয়ার নাগরিক সভার নির্বাচন এই বছরের শেষে হওয়ার কথা.

মস্কোতে যেমন স্বীকার করা হয়েছে যে, আসাদ তাঁর রাজনৈতিক সংশোধন নিয়ে অবশ্যই দেরী করে ফেলেছেন. কিন্তু যুদ্ধের চেয়ে দেরী করা সংশোধনও ভাল, যা দেখা গিয়েছে লিবিয়াতে, কারণ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতেই পারে.