বিশ্ব আপাততঃ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিফল্ট পেছিয়ে দেওয়া হয়েছে. মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা মঙ্গলবার ভোর রাতে আইন গ্রহণ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ঋণের সর্ব্বোচ্চ মাত্রা বৃদ্ধি করার ও সরকারি খরচ কমানোর জন্য. সেনেটের সমর্থনের পরে এই দলিল রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার স্বাক্ষরের জন্য উপস্থিত করা হবে. একই সঙ্গে বিশ্বে মোটেও মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ কমে নি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ পত্রের সবচেয়ে বড় খদ্দের চিন ঘোষণা করেছে যে, মূল সমস্যার সমাধান হয় নি, আর, তার অর্থ হল, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন ঝাঁকুনি আসতে চলেছে.

    চিনে মনে করা হয়েছে যে, সরকারি ঋণের সর্ব্বোচ্চ মাত্রা বৃদ্ধি বাধ্য হয়ে নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত. তা বিশ্ব অর্থনীতিকে অপরিবর্তনীয় পতনের হাত থেকে রক্ষা করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেকনিক্যাল ডিফল্টের পরে ঘটতই. কিন্তু সবচেয়ে বাজে পরম্পরায় ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে. এই সমস্যার মূল হিসাবে চিনে দেখা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় ঋণের ক্রমাগত বৃদ্ধি. চিনের অর্থনীতিবিদেরা লক্ষ্য করেছেন যে, বিগত বছর গুলিতে এই ঋণের সর্ব্বোচ্চ মাত্রা খালি বেড়েই চলেছে. বর্তমানে তা ১৪, ৩ লক্ষ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৬, ৭ লক্ষ কোটি ডলার করার পরিকল্পনা হচ্ছে. একই সঙ্গে জানা নেই যে, ওবামা প্রশাসন আশ্বাস দেওয়া স্বত্ত্বেও বাজেটের ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতে পারবে কি না. যদি খরচ কমানোর মাত্রা যথেষ্ট সম্ভব না হয় ও আমেরিকার অর্থনীতি স্থিতিশীল ভাবে না বাড়ে, তাহলে মূল্যবৃদ্ধি ও ডলারের ক্রয় মূল্য কমা বাস্তবে অবশ্যম্ভাবী. এই সবই বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি বাড়িয়েছে, আর চিনের অর্থনীতির জন্য প্রাথমিক ভাবে তা রয়েছে – এই কথা "রেডিও রাশিয়া" কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের কর্মী দিমিত্রি মসিয়াকভ:

    "চিনের সরকার একাধিকবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে. চিন বহুবার বলেছে যে, তারা নিজেদের বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয়কে নানা ভাবে ছড়িয়ে রাখতে চায় ও বিনিয়োগকেও ছড়াতে চায়. এই প্রসঙ্গে বেইজিং লক্ষ্য করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের অর্থনীতির মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ যোগ রয়েছে. বাস্তবে চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক স্পনসরের ভূমিকা নিয়েছে, তারা বিশ্বে সবচেয়ে বেশী ডলারে সঞ্চিত বিদেশী মুদ্রার তহবিল তৈরী করেছে. স্বাভাবিক ভাবেই, চিনের জন্য ডলারের যে কোন রকমের গতিই বেদনা দায়ক হতে পারে, বিশেষ করে যদি ডলারের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাসের কথা হয়. চিনের সঞ্চয় চোখের সামনে ক্ষয়ে যাবে".

    তাই বহু চৈনিক অর্থনীতি বিদই এখন দেশের সরকারকে আহ্বান করেছেন সেই রাজনীতি খতিয়ে দেখার, যা দেশের বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয়ের সঙ্গে জড়িত. আর যদি সম্পূর্ণ ভাবে ডলারের থেকে আলাদা হওয়া সম্ভব নাও হয়, তাহলেও, অন্ততঃ ডলারে আর সঞ্চয়ের কোনও প্রয়োজন নেই. বিনিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ বাজার ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্ণধার ইগর কোস্তিকভ রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন যে, এটা সত্য যে, চিনের সরকারের কাছে নড়াচড়া করার জায়গাও খুব বেশী নেই. ডলার থেকে আলাদা হওয়া নিয়ে ঘোষণা একটি রাজনৈতিক খেলার অংশ ছাড়া আর কিছু নয়, যা আমেরিকার ইউয়ানের উপরে চাপ কমানোর জন্য করা হয়েছে. তিনি বলেছেন:

    "এই ধরনের সংবাদ পাঠিয়ে, চিন চাইছে ইউয়ানের সমস্যা নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী সমাধান করতে. সস্তা ইউয়ান থাকার ফলে চিনের অর্থনীতিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ও পশ্চিম ইউরোপের অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে উন্নত করার সম্ভাবনা হচ্ছে. তাই বাস্তবে তাদের বিদেশী মুদ্রার নীতিতে কেন পরিবর্তন করার চেষ্টা হচ্ছে, তা সম্ভব নয়. কয়েকটা ছোট খাট পদক্ষেপ নেওয়া হলেও হতে পারে, কিন্তু চিনের সঞ্চয়ের মধ্যে বিরাট পরিমানে ডলারের অস্ত্র থাকায় তা বড় মাপে করা সম্ভব হবে না. কিন্তু চিন মার্কিন প্রশাসনকে চাপ দিয়েই চলবে, যাতে, তারা চিনের উপর থেকে চাপ কমায় ও ইউয়ানের অবিলম্বে দাম বাড়াতে বাধ্য করে".

0    এখান থেকেই – যথেষ্ট কড়া কথাবার্তা বর্তমানে চিনে চলছে. আমেরিকার রাজনীতিবিদদের অবস্থান, যা আজ চিনের সংবাদ মাধ্যমে দায়িত্ব হীণ ও বিপজ্জনক বলা হয়েছে. ওয়াশিংটন থেকে পাওয়া শেষ খবর নিয়ে আলোচনা করে, চিনের বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে লক্ষ্য করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় ঋণের সমস্যা মার্কিন মুলুকে ডেমোক্র্যাট ও রিপাব্লিকান দলের লোকেদের মধ্যে দরাদরির বিষয় হয়েছে, যা একেক সময়ে হুমকির মতও শুনিয়েছে. বেইজিং শহরে ভয় পেয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় ঋণের সমস্যা ভবিষ্যতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তীক্ষ্ণ আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘর্ষের কারণ হতে চলেছে, আর ঋণ দাতা দেশ গুলির স্বার্থ, বিশে, করে চিনের স্বার্থ এই ক্ষেত্রে আমেরিকার রাজনৈতিক নেতৃত্ব একেবারেই আমল দিতে চাইবে না.