পাকিস্তান বাধ্য হওয়া উদ্বাস্তু প্লাবনে ঢেকে যাচ্ছে. এক লক্ষ মানুষের বেশী নিজেদের বাড়ী ঘর ছেড়ে কুর্রাম রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছেন. উত্তর পশ্চিমের এই অঞ্চলে প্রায় এক মাস ধরে চলছে সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশন. সেনা বাহিনী হেলিকপ্টার ও কামান ব্যবহার করে ঐস্লামিক চরমপন্থীদের উপরে অগ্নি বর্ষণ করেই চলেছে. তালিবেরা আবার রাস্তা ঘাটে মাইন পাতছে ও স্কুল আর হাসপাতালে গিয়ে লুকাচ্ছে. এর ফলে জনতা গণ হারে বাড়ী ঘর ফেলে পালাচ্ছে.

পাকিস্তানের লেনা বাহিনীর এই প্রথম এত বড় মাপে তালিবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়েছে আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর অ্যাবত্তাবাদে সন্ত্রাস বাদী নম্বর এক কে ধ্বংস করার পর থেকে. তখন ওয়াশিংটনে ইসলামাবাদকে সাহায্য বন্ধ করার আহ্বান উঠেছিল, কারণ তারা, আসলে, সন্ত্রাসের সঙ্গে মোকাবিলার নামে পাঁয়তারা কষছিল.

আমেরিকার চাপে পড়ে পাকিস্তানের সেনা বাহিনী হাক্কানির দল ও তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান দলের তালিবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল. এর মধ্যে প্রায় একশ জঙ্গীকে মারা সম্ভব হয়েছে, কুর্রাম রাজ্যের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের জনপদ গুলির উপরে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে সেনারা, কিন্তু বাধ্য হয়ে ঘর ছেড়ে পালানো লোকেদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে. পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে প্রায় এক লক্ষ মানুষ নিরাশ্রয় হয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে, আর এটা, সব মিলিয়ে কম করে হলেও পাঁচ লক্ষ মানুষের ঘর ছেড়ে পালানো. এই প্রসঙ্গে কার্নেগী কেন্দ্রের পিওতর তোপীচকানভ লক্ষ্য করেছেন কুর্রাম রাজ্যে আরও একটি সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশনের দিকের উপরে, তিনি বলেছেন:

"গত বারের অপারেশনের সময়ে কুর্রাম রাজ্যের এক দল তালিব উদ্বাস্তুদের সঙ্গে মিশে চলে গিয়েছিল. তারা শান্তিপ্রিয় লোকেদের মধ্যে স্রেফ গুলে গিয়েছিল. এর ফলে পাকিস্তানের দক্ষিণের এলাকা গুলিতেও সন্ত্রাস বাদী কার্যকলাপ বেড়ে গিয়েছিল. সুতরাং বড় মাপের অপারেশন, যার ফলে লোকে উদ্বাস্তু হয়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়, তা সব সময়ে ফলপ্রসূ বলে মনে করা যায় না ও তা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতে ইতিবাচক ফলে পরিনত করে না".

উদ্বাস্তু ক্যাম্প গুলিতে সরকারি প্রচেষ্টা স্বত্ত্বেও খুবই কঠিন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, উদ্বাস্তুদের প্রয়োজন দ্রুত ত্রাণের, এই কথা চিন্তা করে স্ট্র্যাটেজিক সমস্যা গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ আনাতোলি ক্লিমেঙ্কো বলেছেন:

"আন্তর্জাতিক সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে ক্যাম্প তৈরী করে উদ্বাস্তুদের সাহায্য করার কাজে. রাষ্ট্রসংঘের তরফ থেকেও রাজনৈতিক ভাবে সহায়তা করার দরকার, আর হতে পারে সাংহাই সহযোগিতা পরিষদের উদ্বাস্তুদের সাহায্য করার দরকার রয়েছে. যাতে পরে তারা নিজেদের বাসস্থানে ফিরে যেতে পারেন. যদি এটা না করা হয়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে বাধ্য".

পাকিস্তান ইরান ও ভারতের সাথে পর্যবেক্ষক দেশের মতো রয়েছে, আর আফগানিস্তান বিশেষ করে নিমন্ত্রিত দেশ হিসাবে রয়েছে. তাদের পক্ষে এই সময়ে উচিত্ হবে পরিস্থিতিকে মঞ্চ হিসাবে ব্যবহার করে সম্মিলিত ভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্থিতিশীলতার ক্রমবর্ধমান বিপদের মোকাবিলা করার. এই ধরনের উদ্যোগ, সম্ভবতঃ, রাশিয়া ও চিনের পক্ষ থেকেও বোধগম্য হতে পারে. যদিও এটা সত্য যে, এই অঞ্চলের দেশ গুলির উচিত্ হবে বর্তমানে আভ্যন্তরীণ বিতর্ক ও বিরোধকে দ্বিতীয় সারিতে সরিয়ে দেওয়ার. কিন্তু পাকিস্তানের পক্ষে মনে হয়, একাকী ভাবে নিজেদের উপরে নতুন উদ্বাস্তুদের ঢেউ সামলানো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে.