মস্কোর বিমান নির্মাণ ইনস্টিটিউটের ছাত্ররা এক যন্ত্র তৈরী করেছে. সেই যন্ত্র দিয়ে দেওয়াল ফুঁড়ে দেখতে পাওয়া যায়. এই রাডার যুদ্ধ ক্ষেত্রে এর মধ্যেই পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে আর শীগগিরই বিশেষ বাহিনীর অস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে.

সন্ত্রাস বিরোধী কাজ করার ক্ষেত্রে খুবই নিয়মিত পরিস্থিতি – কোন বাড়ীর ভিতরে সন্ত্রাসবাদীরা লুকিয়ে রয়েছে. বিশেষ বাহিনীর যোদ্ধারা অনেক কিছুই দিতে তৈরী হবে শুধু দেখতে পাওয়ার জন্য যে, ঠিক কোথায় শত্রু লুকিয়ে আছে, অন্ধের মত ঝাঁপিয়ে যাতে না পড়তে হয়. সাহায্যের জন্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর লোকেরা রেডিওর মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থার বিশেষজ্ঞদের কাছে পৌঁছেছিলেন.

বিমান বন্দরে যেমন অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা বিমান গুলির প্রতি লক্ষ্য রাখতে পারে, সেই রকমই এই অবস্থান নির্ণয় যন্ত্র অনেক ছোট মাপের চলাফেরাও ধরতে পারে, বলা যায়, মানুষের পাঁজরের বা হৃতপিণ্ডের গতির উপরেও.

যে রাডার দিয়ে শ্বাস প্রশ্বাস ও হৃতপিণ্ডের ওঠা পড়া বোঝা যায়, তা খুবই দ্রুত গতি সম্পন্ন হওয়া দরকার. এই যন্ত্র তার সঙ্কেত পাঠাতে পারে এক সেকেন্ডের এক লক্ষ কোটি ভাগের মত সময়ে.

এই যন্ত্রের নির্ণায়ক খুবই অনুভূতি সম্পন্ন ও যে কোন ধরনের গতিতেই প্রতিক্রিয়া শীল. আক তাই নিজে স্থাণু জায়গায় থাকতে বাধ্য.

সঙ্কেত চিত্র দেওয়ার স্ক্রিনে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে  - একজন লোক দরজা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে ও .... কাছে আসছে.

রেডিও তরঙ্গের জন্য কংক্রীটের আধ মিটার চওড়া দেওয়াল একেবারেই স্বচ্ছ. এমনকি দশ মিটার চওড়া দেওয়ালও কোন বাধা নয়.

সঙ্কেত চিত্র দেওয়ার স্ক্রিনের বদলে ছাত্ররা একটা মনিটর লাগানোর পরিকল্পনা করেছে. যুদ্ধের সময়ে তাতে অনেক বেশী দেখার সুবিধা হবে.

এখন অন্য লোকেদের সঙ্গে দূরত্বও বোঝা সম্ভব, যদি দ্বিতীয় রাডার লাগানো যায়, তাহলে কোন ব্যক্তির যে কোন জায়গায় নিখুঁত অবস্থানও নির্ণয় করা সম্ভব.

এই রাডার এর মধ্যেই যুদ্ধে ব্যবহার করে দেখা হয়েছে, আর এখন ছাত্রদের কাজ হল – এটাকে আরও ছোট আকৃতির করা.

এখন আমরা নতুন প্রজন্মের অ্যান্টেনা ব্যবহার করব, যা এই যন্ত্রের আকৃতি অনেক ছোট করতে সাহায্য করবে, এটাকে হাল্কা করবে.

কিন্তু এই রাডার আবার শান্তিপূর্ণ কাজের লক্ষ্যেও ব্যবহার করা যেতে পারে. এর সাহায্যে গাড়ী চালক, বিমানের পাইলট বা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের কর্মীদের মানসিক চাপ ও ঘুমিয়ে পড়ার মতো অবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব. তাছাড়া, এই যন্ত্র ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রোগীর নাড়ির স্পন্দন ও শ্বাস প্রশ্বাসের প্রতি লক্ষ্যও রাখতে পারে. সুতরাং এই রাডার চিকিত্সকেরাও তাঁদের কাজের জন্য সম্পূর্ণ ভাবেই ব্যবহার করতে পারেন.