আর দুই সপ্তাহ বাকী জেনেভা শহরের হ্রদে গভীর জলের মীর জল যানগুলির অভিযান শেষ হওয়ার. দুই মাস ধরে রাশিয়ার এই গভীর জলে ডুবে কাজ করার ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষ চালিত যান গুলি, সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্তে অবস্থিত কেন্দ্রীয় ইউরোপের একটি অন্যতম গভীর হ্রদে নেমে কাজ করছিল. এই গবেষণার প্রধান কাজ ছিল – হ্রদের পরিবেশ পরীক্ষা করে দেখা. আর আজ তার প্রাথমিক ফল সম্বন্ধে বলা যেতে পারে.

    রাশিয়ার গভীর জলযান "মীর – ১" ও "মীর – ২" জেনেভার হ্রদে ডেকে আনা হয়েছিল আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রকল্পের আওতায়. তাতে ছয়টি দেশের বিজ্ঞানীরা কাজ করছিলেন, তার মধ্যে ২০ জনেরও বেশী রাশিয়ার বিশেষজ্ঞও ছিলেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর "পি. পি. শিরশভ" নামাঙ্কিত মহাসমুদ্র ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে.

    এতটা বিস্তৃত ভাবে এই হ্রদের মনিটরিং প্রথমবার করা হচ্ছে, যাতে বোঝা সম্ভব হয়, কি করে মানুষের সমাজ এই হ্রদের পরিবেশের উপরে প্রভাব ফেলেছে. বিভিন্ন ধরনের গবেষণা করা হয়েছে – জল পদার্থ বিদ্যা, ভৌগলিক পদার্থ বিদ্যা, জিওলজি, জীব বিদ্যা ও মাইক্রো বায়োলজি, এই কথা বলেছেন অভিযানের নেতা, রাশিয়ার বীর পদক প্রাপ্ত আনাতোলি সাগালেভিচ.

    "বহু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তা এখন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে. বহু পরিমানে নমুনা যোগাড় করা হয়েছে – বৃষ্টি পাতের জলের নমুনা, জলের নমুনা, জলে ভাসমান পদার্থের নমুনা ইত্যাদি, প্রচুর মাপ নেওয়া হয়েছে. এখনই কিছু নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়, তবে সিদ্ধান্ত আপাততঃ একটাই – সব মিলিয়ে এই হ্রদের পরিবেশ স্বাভাবিকই আছে. যে সমস্ত ভুল মানুষ করছে, হ্রদ নিজেই আপাততঃ তা সামলে উঠতে পারছে – সমস্ত রকমের ময়লা আবর্জনা ও দূষণের মোকাবিলা করে".

    গভীর জলের জলযান মীর গুলি – বিজ্ঞানীদের জন্য সত্যিকারের আবিষ্কার. এই গুলি যে কোন জলের তলার জিনিসের সবচেয়ে কাছে এসে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে দেয়. তা ছাড়া এই গুলির গঠনের কারণে এই গুলির ভিতরে বহু বাড়তি যন্ত্রপাতি বসানো সম্ভব হয়. তড়িত্প্রবাহের সম্ভাবনা, তাপ প্রবাহ, শব্দের বেগ, পরিচ্ছন্ন করার যন্ত্র, বেশী পরিমানে জল নিয়ে তার মধ্যে ভেসে থাকা জিনিসের নমুনা নিয়ে রাসায়নিক পরীক্ষা করে দেখা – এই সমস্ত করার জন্য বহু সংখ্যক যন্ত্র এই যানের ভিতরে বসানো রয়েছে. এই গুলি দিয়ে বিশেষজ্ঞরা আশা করেছেন জেনেভার হ্রদের জীবন সম্বন্ধে জানার.

    এই অভিযানের অব্যবহিত পূর্বে পরিবেশ সংক্রান্ত গবেষণা করার আগে মীর যান গুলি কিছু প্রত্ন তত্ত্ব অনুসন্ধান করেছে. ব্যাপারটা হল, জেনেভার হ্রদের তলায় "রোনা" নামের এক স্টীমার ডুবে রয়েছে, যা উনবিংশ শতাব্দীর শেষে অন্য একটি জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লাগার ফলে ডুবে গিয়েছিল. মীর গুলি ৩০০ মিটার গভীরে "রোনা" জাহাজের কাছে গিয়ে পরীক্ষা দেখেছে ও ভিডিও তুলেছে. সেই ভিডিও থেকে বর্তমানে জাহাজের অবস্থা বোঝা গিয়েছে. "সোনা বা হীরা আমরা সেখানে দেখতে পাই নি" – ঠাট্টা করেছেন আনাতোলি সাগালেভিচ.

    জেনেভা হ্রদে কাজ শেষ হওয়ার পরে রাশিয়ার গভীর জলের ডুবো জাহাজ গুলি দাঁড়িয়ে থাকবে না. প্রচুর পরিকল্পনা রয়েছে, কিন্তু আপাততঃ তা বলা হচ্ছে না. প্রসঙ্গতঃ এখন জানা আছে যে, মীর জাহাজ টাইটানিক জাহাজ ডুবির একশ বছর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবে. কারণ বিশেষ খ্যাতি এই রুশ যান গুলি পেয়েছিল জেমস ক্যামেরন পরিচালিত বিখ্যাত টাইটানিক ছবি তোলার সময়ে অংশ নেওয়ার জন্য.