অভিবাসনের প্রক্রিয়া গুলিকে থামানো সম্ভব নয়. শুধুমাত্র গত ২৫ বছরেই বিশ্বে অভিবাসিত লোকেদের সংখ্যা হয়েছে দ্বিগুণ. আগামী দশ বছরে এর সংখ্যা আরও বাড়বে দ্বিগুণ, এক দিকে এটা অবশ্যই সেই সমস্ত দেশের জন্য লাভজনক, যেখান থেকে চলে যাওয়া হচ্ছে, আবার অন্য দিকে যে সমস্ত দেশে এই চলে যাওয়া লোকেরা আসছেন তাদের ও লাভ হচ্ছে, যেমন হচ্ছে অভিবাসিত লোকেদের. আবার অন্য দিক থেকে এর ফলে উদ্ভূত ঝুঁকি থেকে চোখ বন্ধ করে রাখাও উচিত্ হবে না, যা এই প্রক্রিয়া নিজের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে.

    অভিবাসনের জন্য জনগনের কাজের সম্ভাবনাও বাড়ছে, দেশ গুলির সার্বিক জাতীয় আয়ও বাড়ছে, দারিদ্রের মাত্রাও কমছে. উচ্চ প্রশিক্ষিত বিদেশী বিশেষজ্ঞরা অর্থনীতিকে ফলপ্রসূ করে তুলছে, বিনিয়োগের ধারাকে উত্সাহিত করে. তাঁরা নতুন জিনিস ও পরিষেবা উদ্ভাবন করছেন, যার ফলে কোম্পানী গুলির লাভ ও তাদের কর্মচারীদের রোজগারও বাড়ছে. অভিবাসিত লোকেরাই সেই ধরনের বিশ্বায়িত কোম্পানী তৈরী করতে পেরেছেন, যেমন, গোগোল ও ইনটেল. স্বল্প শিক্ষিত অভিবাসিত লোকেরা সেই সমস্ত কাজের জায়গা গুলিতেই রয়েছেন, যে গুলি স্থানীয় জনগন মনে করেন কম আগ্রহের. তাঁরা বাড়ীর কাজের লোক, ধাই, মজুরি শ্রমিক, জমাদার, নির্মাণের কাজে লেগে রয়েছেন. "এটা একটা সমগ্র বিশ্ব জোড়া প্রক্রিয়া, যা থামানো সম্ভব আর সম্ভব নয়", - এই কথা উল্লেখ করে "একবিংশ শতাব্দীর অভিবাসন" তহবিলের সভাপতি ভিয়াচেস্লাভ পস্তাভনিন বলেছেন:

    "শুধু উত্তর থেকে দক্ষিণেই অভিবাসন প্রক্রিয়া চলছে না, যা আগে হয়ে তাকত, গরীব দেশ থেকে ধনী দেশে, বরং বলতে পারেন, দক্ষিণ থেকে দক্ষিণেই চলতে শুরু করেছে, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া থেকে নিকট প্রাচ্য ও আফ্রিকাতে. অর্থাত্ অভিবাসন সব দিকে সমস্ত পথেই চলছে. সারা বিশ্বই এক চলমান অবস্থায় পৌঁছেছে. তাই এটা হচ্ছে".

    বর্তমানে রাশিয়াতে প্রায় এক কোটি অভিবাসিত লোক বাস করছেন, তাঁরা বেশীর ভাগই প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের লোকজন, প্রাক্তন দক্ষিণের রাজ্যের মানুষ. তাঁদের দেশের অর্থনীতি ও জন সংখ্যায় অনুদান তাঁদের জন্য করা খরচার অনেক বেশী, যা এই অভিবাসন কাজের জন্য খরচ করা হয়ে থাকে, বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করে থাকেন. তাঁরা যে সমস্ত দেশ থেকে এসেছেন, সেই সব দেশের অর্থনৈতিক লাভও উল্লেখ যোগ্য. ২০০৯ সালে কাজ করতে অভিবাসনে আসা লোকেরা, যারা রাশিয়াতে রয়েছেন, তারা নিজেদের দেশে ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার পাঠিয়েছে, যা রাশিয়ার সার্বিক জাতীয় আয়ের শতকরা দুই ভাগ.

    কিন্তু অভিবাসন বাড়ার ফলে উদ্ভূত ঝুঁকির দিকে চোখ বন্ধ করে থাকাও উচিত্ নয়. বেশী পরিমানে আগন্তুক সমাজের নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরী করছে. কিছু দিন আগের ইতালির লাম্পেডুজা দ্বীপে উত্তর আফ্রিকা থেকে পালিয়ে আসা লোকেরা কি সমস্যা তৈরী করেছিল বা কিছু আগে প্যারিসের শহরতলিতে দ্বিতীয় প্রজন্মের নাগরিকত্ব পাওয়া অভিবাসিত লোকেরা কি করেছিল, তা সকলেরই মনে রয়েছে.

    স্থানীয় জনতার সঙ্গে  সমাকলন প্রক্রিয়া ধীরে হওয়ার কারণেও বা একেবারেই না হওয়ার কারণে সমস্যা বাড়ছেই. নতুন জায়গায় নিজেদের নিরাপদ অনুভব করতে না পেরে অভিবাসিত লোকেরা নিজেদের প্রজাতি গত দলের মধ্যেই আবদ্ধ থাকছে, আর বে আইনি অভিবাসন তৈরী করছে অপরাধের জগত.

    প্রত্যেক দেশের কাজ হল – সেই রকম কাজ করা, যাতে অভিবাসন দেশের উপকারেই লাগে. এই জন্য উচিত হবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগত মানুষদের ছড়িয়ে দেওয়া. বিদেশী কাজ করতে চাওয়া লোকেদের পথ আটকাতে গেলে, তা শুধু দুর্নীতি ও অপরাধকেই বাড়াবে – এই কথা রুশ বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন. একটাই সত্য যে – অভিবাসন ছাড়া চলবে না. ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপীয় সংঘের অনুমান অনুযায়ী ১০ কোটি প্রবাসী লোক দরকার পড়বে, আর রাশিয়াতে ২০২৫ সালের মধ্যে – ২ কোটি.