মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্রের দেউলিয়া হওয়াঃ রাজনৈতিক খেলা ও বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি

মার্কিনী রাজনীতিবিদেরা এখনো পর্যন্ত তাদের বাজেট সংকট অতিক্রমণের পথে এক পাও অগ্রসর হতে পারেননি. সেনেটে ও কংগ্রেসে এবং হোয়াইট হাউসে গোটা সপ্তাহ ধরে যত শলা পরামর্শ চলেছিল, সব ভেস্তে গেছে.

       মার্কিনীরা ঠিক ২০০৮ সালের মতোই সারা দুনিয়াকে তাদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে বাধ্য করছে. সারা বিশ্ব জুড়ে বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা আঁচ করার চেষ্টা করছেন, যে বিশ্বে কি নতুন আর্থিক সংকট শুরু হতে চলেছে? ভাষ্যকারেরা আবেগের সাথে তর্ক করছেন – তাহলে কি আমেরিকা তার ঋণ শোধ করা বন্ধ করবে? এ প্রসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেওয়া দরকার, যে এই মুহুর্তে আমেরিকার ঋণের পরিমান ১৪ ট্রিলিয়ন ৩০০ বিলিয়ন. এবং কংগ্রেসের খামখেয়ালিপনার জন্যে ওয়াশিংটন আর নতুন করে ধার করতে পারবে না. রিপাবলিক্যান আর ডেমোক্র্যাটরা বিনিদ্র রাত্রিযাপন করছেন এবং আপোষের পথ খুঁজছেন. মুখ্য প্রশ্ন হল – কতখানি এবং কেমন করে বাজেট ঘাটতি কমানো যাবে. কংগ্রেসে রিপাবলিক্যান পার্টির সংসদীয় নেতা জন বেইনার প্রস্তাব দিয়েছেন, যে বাজেট ঘাটতি হ্রাস এবং রাষ্ট্রীয় ঋণের উর্দ্ধসীমা বৃদ্ধি একই অঙ্কের করা হোক – ৯০০ বিলিয়ন ডলার.

-    হ্যাঁ, এই খসড়া বিল আদর্শজনক নয়. কিন্তু আমি কখনোই বলিনি, যে এটা আদর্শজনক. আমাদের পার্টির সদস্যদের মধ্যে কেউই এ বিলকে আদর্শ বলে গণ্য করেনা. কিন্তু এই খসড়া বিল দুই পার্টির বিরোধ মিটিয়ে সংকট অতিক্রমণে সহায়তা করতে পারে.

    খসড়া বিলটিকে যে ঘষামাজা করা দরকার, সেটা বোঝা গেছে শুক্রবার সেনেটে ভোটাভুটি হওয়ার সময়. বিলের স্বপক্ষে ৪১টি ভোট পড়ে, বিপক্ষে ৫৯টি. আর শনিবার রিপাবলিক্যানরা ডেমোক্র্যাটিক দলের সেনেটর হ্যারি রিডের প্রস্তাবিত বিল ভেস্তে দিয়ে যোগ্য প্রতিশোধ নেয়. বারাক ওবামা আরো একবার কংগ্রেসকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যে সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে আর তাঁর সহকারীরা বিনিয়োগকারীদের এই বলে আশ্বস্ত করছেন, যে সবকিছু ঠিকঠাক হবে. হোয়াইট হাউসের তথ্যসচিব  জে কারনি CNN চ্যানেলকে দেওয়া ইন্টারভিউতে বলেছেন – আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, যে শুভবুদ্ধির জয় হবে. কংগ্রেসের অধিকাংশ সদস্যই বুঝতে পারছেন, যে জাতীয় অর্থনীতিকে দেউলিয়া ঘোষণা করার পরিণতি কতখানি ভয়ঙ্কর হতে পারে. আমাদের ইতিহাসে এরকম ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি. বোঝা প্রয়োজন, যে রাষ্ট্রীয় ঋণের উর্দ্ধসীমা বাড়ানোর মানে এই নয়, যে সরকার তার ব্যয় বাড়াবে. এর মানে হচ্ছে – আমরা দেনা শোধ করবো. আমরা আমেরিকার সুখ্যাতিকে মলিন হতে দিতে পারিনা.

      তবে বহু অর্থনীতিবিদের মতে দেউলিয়া ঘোষণা করার কথাবার্তার কোনো তাত্পর্য্য নেই. বাজেট সংকট নিয়ে আলাপ-আলোচনা নির্বাচনের আগে জনমত গড়বার চাল মাত্র. ওয়াল স্ট্রীটের প্রাক্তন অর্থনীতি বিশ্লেষক ও চীন, আইসল্যান্ড, লাটভিয়া প্রমুখ দেশের সরকারের পরামর্শদাতা মাইকেল হাডসনও এই মত পোষণ করেন. তাঁর মতে, এসব হচ্ছে বড়মাপের রাজনৈতিক খেলামাত্র.

      কোনো সংকট নেই, এ একধরনের ফন্দি. মান বাঁচানোর জন্যে হোয়াইট হাউসের দরকার সংকটের প্রেতাত্মা. কারন ওবামা পেন্সন ও চিকিত্সাবীমার খাতে ব্যয় কমাতে বাধ্য হবেন. দেউলিয়া হওয়ার হুমকি জনবিরোধী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়াকে যুক্তিযুক্ত করতে পারে বাজেটে সামাজিক খাতে ব্যয় কমানোর বিনিময়ে রাষ্ট্রীয় ঋণের উর্দ্ধসীমা বাড়ানোর ব্যাপারে পক্ষদ্বয় সমঝোতায় আসবে.

       স্টক-এক্সচেঞ্জেও কোনোরকম বিপদের আশংকা কেউ করছে না.  আমেরিকার অর্থমন্ত্রকের ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর হল – আরও কমপক্ষে ১৫ দিন চলবার মতো অর্থ তাদের তহবিলে আছে. অর্থমন্ত্রকের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, যে সবার আগে রাষ্ট্রীয় দেনা শোধের পেছনে অর্থব্যয় করা হবে. সুতরাং বেতন ও পেন্সনভোগী সাধারন মানুষ বঞ্চিত হবে, যাদের নিয়ে নাকি এত দুশ্চিন্তা রিপাবলিক্যান আর ডেমোক্র্যাটদের.