দিল্লী ও ইসলামাবাদ থেকে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সোমানাহল্লি মালাইয়া কৃষ্ণ ও হিনা রব্বানি খার এর বৈঠকের পরে ঘোষণা করা হয়েছে যে, দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে "সহযোগিতার যুগ" শুরু হয়েছে. বাস্তবেই কি তা হয়েছে, আর অল্প বয়সী মহিলা মন্ত্রীর মনোহর মহিমা ভারত – পাকিস্তান সম্পর্কের দীর্ঘ দিনের তীক্ষ্ণ সমস্যাকে নরম করতে পারবে কি?  বিষয়টি নিয়ে বিশদ হয়েছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    হিনা রব্বানি খারের মনোহর রূপ ও খোলামেলা আচরণ, ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের মধ্যে বহু দিনের পুরনো ও জটিল সমস্যা গুলি নিয়ে ইতিবাচক লক্ষ্য নিয়ে আলোচনার অভিপ্রায় ভারতে যথেষ্ট মর্যাদার সাথেই মূল্যায়ণ করা হয়েছে. ভারতের সংবাদ মাধ্যম গুলি তাঁর পোষাক, অলঙ্কার নিয়ে আলোচনা করেছে এবং উল্লেখ করেছে যে, পাকিস্তানের মন্ত্রী অন্তর্রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের মধ্যে এবারে গ্ল্যামার নিয়ে এসেছেন.

    দুই পক্ষই ঘোষণা করেছে যে, শান্তি প্রয়াস চালু রাখা হবে ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় সহযোগিতা বৃদ্ধি করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে. বিভাজিত কাশ্মীরে ব্যবসায় বৃদ্ধি ও নাগরিকদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য নির্দিষ্ট রকমের চুক্তি এই প্রথম করা হয়েছে. সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে নিয়ন্ত্রণ রেখা পারাপার করে বাস যাতায়াতের সংখ্যা বাড়ানো হবে. এই বাসে করে "ধর্মীয় তীর্থ যাত্রা ও পর্যটনের জন্যও" যাতায়াত করা যাবে. এর আগে নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হতে দেওয়া হত শুধু বিভক্ত হওয়া কাশ্মীরী পরিবারের সদস্যদের জন্যই. এই সবই অবশ্যই, বিশ্বাস বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে ও এই বিতর্কিত অঞ্চলে পরিস্থিতিকে ভাল করবে.

    কিন্তু এই ধরনের সমঝোতা, তার অর্থবহ হওয়ার সমস্ত গুরুত্ব স্বত্ত্বেও আপাততঃ কাশ্মীরের সমস্যার সমাধানকে খুব একটা কাছে আনতে পারে নি. কাশ্মীরের যেহেতু বেশীর ভাগ লোকই মুসলমান, পাকিস্তান তাই প্রায় অর্ধ শতক আগে নেওয়া রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্ত পালনের জন্য দাবী করে চলেছে. কাশ্মীরে সংখ্যা গরিষ্ঠের দাবী মেনে নিতে হবে, এই কথা সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল. কিন্তু দিল্লী এই ধরনের মূল্যায়ণের সঙ্গে একেবারেই একমত নয়, তারা মনে করে যে, এটা ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীর গঠনের পরে পুরনো হয়ে গিয়েছে. ভারত ঘোষণা করেছে যে, কাশ্মীরের যে অংশ পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তা অধিকৃত অঞ্চল. সম্পূর্ণ কাশ্মীর ভারতের অংশ হওয়া উচিত্.

    সমস্যা সমাধানের জন্য এর আগে নেওয়া সমস্ত প্রচেষ্টাই কোন ফল দিতে পারে নি. কিন্তু দুই পক্ষই, মনে হয়েছে, কোন একটা সমঝোতায় আসার পথ খুঁজছে, পারস্পরিক ভরসা বাড়ানোর চেষ্টা করছে. এটা না হলে সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়, এই কথা মনে করে রুশ ভারত বিশেষজ্ঞা তাতিয়ানা শাউমিয়ান বলেছেন:

    "এত গুলি বছরের বিরোধের পরে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের পথ খুঁজতেই হবে, সেগুলিকে সভ্য একটা কাঠামো দিতে হবে. পাকিস্তানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুবই জটিল, আর ভারতের সঙ্গে বিরোধ তা শুধু আরও জটিলই করবে. ভারতের ও উচিত্ হবে নিজেদের সীমান্তে সুপ্রতিবেশী পাওয়ার, কেন শত্রু দেশকে দেখার চেয়ে. দুই দেশেরই উচিত্ বিরোধের পথ ছেড়ে আলোচনার টেবিলে বসা".

    দুই দেশেই ক্ষমতায় আসছে নতুন প্রজন্ম, যাদের দৃষ্টি ভঙ্গীতে চলে আসা রীতি খুব একটা প্রভাব বিস্তার করে না বিগত তিনটি ভারত – পাকিস্তান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে. কিন্তু সেই বাস্তব থেকেও কোথাও যাওয়ার পথ নেই যে, পাকিস্তানে বহু সংখ্যক ভারত বিরোধী, সন্ত্রাসবাদী ও চরমপন্থী দল কাজ করছে. দিল্লী পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা, আন্তর্বিভাগীয় পরিষেবা সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, তারা ২০০৮ সালে মুম্বাই শহরে জঙ্গী হানার ব্যবস্থা করেছিল. তখন ১৬৬ জন নিহত হয়েছিল. ভারত দাবী করেছিল যে, যাতে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদীদের আদালতে তোলে ও সেই সব চরমপন্থীদের কার্যকলাপ মোকাবিলা করে, যারা ভারতকে জিহাদ ঘোষণা করেছে.

    এটা খুবই জটিল করেছে পরিস্থিতিকে ও ভারত – পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে সম্ভাবনাকেও প্রতিহত করেছে. সম্ভবতঃ, পাকিস্তানের অসামরিক সরকার এটা করতেও চাইতে পারে. কিন্তু সামরিক বাহিনী কি তা করতে দেবে, যারা এখনও সেই দেশে বাস্তবে সবচেয়ে বড় বিচারকের ভূমিকায় রয়েছে, যারা সরকারের নীতি নির্ধারণ করে দেয়? এই প্রশ্নের উত্তর আপাততঃ নেই. আর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক ভরসার অভাব আপাততঃ খুবই বেশী হয়ে আছে.

    তাও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দিল্লী বৈঠকের পরে এই উপমহাদেশে পরিস্থিতি একটু কম উদ্বেগ জনক হয়েছে.