ইউরোপে রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ইউরোপ্রো) তৈরী করা ইরানের উপর রকেট হামলার জন্য করা হতে পারে. এই ধরনের মত তুরস্কের সংবাদ মাধ্যম গুলিকে সাক্ষাত্কারের সময়ে বলেছেন ন্যাটো জোটে রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি রগোজিন. আঙ্কারা শহরে তিনি তুরস্কের নেতৃত্বের সঙ্গে ন্যাটো জোটের রকেট প্রতিরক্ষা বর্ম নিয়ে সমস্যা সম্বন্ধে আলোচনা করছেন.

রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্পষ্টভাবে কোনও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই নয় – এই ধরনের ধারণা শুধু প্রভাবশালী বিশেষজ্ঞরা রাশিয়াতেই মনে করেন নি, এমনকি পশ্চিমের দেশেও করেছেন. তাঁদের মতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট ইউরোপে তৃতীয় অবস্থানের এলাকা তৈরী করছে যেন বিপদকে বন্ধ করার জন্য, যা তেহরান থেকে আসতে পারে, আর  আসলে ইরানের উপর আক্রমণের জন্যই এই রকেট বিরোধী ব্যবস্থাকে ব্যবহার করতে পারে.

রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করার কাজ চলছে পুরোদমে, রাশিয়ার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ও ইউরোপীয় সংঘের কোন রকমের আলোচনার উপর নির্ভরশীল না হয়েই, উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি রগোজিন. আর তুরস্ক সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল ওয়াশিংটন আঙ্কারার সঙ্গে সেই দেশে আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য রাডার ব্যবস্থা বসাতে চাইছে. রোমানিয়ার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই রকেট উড়ানের পথে আটকানো যায় এমন ব্যবস্থা সমেত ঘাঁটি বুখারেস্ট শহরের কাছে বসানোর জন্য চুক্তি করেছে. এর ঠিক পরেই কৃষ্ণ সাগরে ঢুকেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ জাহাজ "মন্টেরেই", রকেট বিরোধী ব্যবস্থা নিয়ে. ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে নিজেদের তথ্য যোগাড়ের ও অগ্নি বর্ষণের ব্যবস্থাও বসাতে চাইছে. রগোজিনের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যেই পোল্যান্ডে রকেট প্রতিহত করার ব্যবস্থার ঘাঁটিও খোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে. ২০২০ সালের মধ্যে সেখানে নতুন ধরনের রকেট বসানো হতে চলেছে, যা তাদের উড়ানের উচ্চতা ও দূরত্বের সুবিধার কারণে রাশিয়ার স্বার্থেও আঘাত করতে পারবে, এই কথা "রেডিও রাশিয়াকে" সাক্ষাত্কারের সময়ে উল্লেখ করে দিমিত্রি রগোজিন বলেছেন:

"আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ও নিজেদের জোটের স্বার্থে প্রকল্পে উদ্যোগী হয়, তাহলে তারা তার বাস্তবায়নে কোনও আলাদা রকমের ঝুঁকি সেই রকমের বড় রাষ্ট্র, যেমন রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের জন্য যেন তৈরী না করে. আমরা যেন অনুভব না করি যে, তাদের রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের ইউরোপীয় সহযোগী দেশ গুলি তৈরী করছে, তা আমাদের স্ট্র্যাটেজিক ক্ষমতার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়".

আমেরিকার সহকর্মীরা, রগোজিনের কথামতো, নিজেদের রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভিত্তি হিসাবে, ইরানের রকেট পরিকল্পনাকে "শয়তানী" বলে প্রমাণ করতে চাইছে. কিন্তু রাশিয়া তেহরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মধ্যেই রয়েছে ও তাদের রকেট সংক্রান্ত প্রযুক্তি সম্বন্ধে সমস্ত খবরই রাখে – সেই তথ্য বাস্তব, কোন কল্প কাহিনী নয়.

সমস্ত রকমের বিরুদ্ধ মত স্বত্ত্বেও, রাশিয়া নিজেদের সমঝোতা করার প্রস্তাব থেকে নিরস্ত হয় নি. মস্কোতে সব সময়েই তৈরী আছে সহযোগিতার জন্য, যদি তাতে রাশিয়ার স্বার্থের কথাও মনে রাখা হয়, এই কথা উল্লেখ করে রগোজিন বলেছেন:

"বাস্তবে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে রাশিয়াকে এক গুরুত্বপূর্ণ তম সহকর্মী দেশ হিসাবে দেখার প্রস্তাব করেছি, যারা নিজেদের প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা ও ভৌগলিক অবস্থানের জন্য সমস্ত কাজের ক্ষেত্রে এক অবিচ্ছিন্ন অংশ হতে পারে আমাদের মাথার উপরে ইউরোপে রকেট বিরোধী ব্যবস্থা তৈরী করতে. স্বাভাবিক ভাবেই আমরা তৈরী রয়েছি সেই সব ক্ষেত্রে নিজেদের সহকর্মীর মত পেশ করতে, যদি আমরা নিজেরা দেখতে পাই যে, এই ধরনের সহযোগিতা আমাদের জন্য নেতিবাচক হওয়ার চাইতে বেশী ইতিবাচক হবে".

দিমিত্রি রগোজিন যে আলোচনা করছেন, তার ভিত্তি হয়েছে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের এই দেশ গুলির নেতৃত্বের প্রতি রকেট বিরোধী ব্যবস্থার সমস্যা সম্বন্ধে বক্তব্যের উপরে. মস্কোর অবস্থান একাধিকবার প্রকাশ করা হয়েছে বক্তৃতায়: ইউরোপের নিরাপত্তা শুধু রাশিয়ার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ ভাবে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী হলে, তবেই বাস্তবে সম্ভব হতে পারে. সেই ধরনের পদক্ষেপ আরও এই কারণে বাস্তব যে, আজ রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কাছেই রয়েছে.