বিগত সময়ে সমস্ত উচ্চ প্রযুক্তি নির্মাণ কোম্পানীরা মানুষের মুখ চেনার প্রোগ্রাম তৈরীর মতো সম্ভাবনাময় প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করছে. এই প্রযুক্তি শুধু কোন ফোটোতেই মুখ চিনতে সাহায্য করে না, বরং বাস্তব সময়ে ফোটো ও ভিডিও ছবি তোলার সময়ে তাদের অনুসরণও করতে পারে.

    প্রযুক্তির যেমন পক্ষের লোক, তেমনই বিপক্ষের লোকেরাও আছেন. একদল বলছেন, যে এই ধরনের প্রযুক্তি – সন্ত্রাসের সঙ্গে মোকাবিলা করার একটা উপায়, অন্যরা বলছেন – মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলানোর ফন্দি. কিন্তু তথ্য প্রযুক্তি শিল্পের বিশাল কোম্পানীরা, আর তারই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান কেন্দ্র রাও সারা বিশ্ব জুড়ে এই ধরনের প্রোগ্রামের সম্পূর্ণ উন্নতির জন্য কাজ করছে. তারা সবাই বুঝেছে যে, এটা খুবই সম্ভাবনাময় বিষয়. উচ্চ প্রযুক্তি বর্তমানে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের নিহতদের খুঁজে বের করতে সাহায্য করে, এমনকি জন্ম সূত্রে পাওয়া রোগ নির্ণয় করতেও সক্ষম. ২০০৭ সালেই ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা কম্পিউটার দিয়ে ত্রৈমাত্রিক ভাবে মুখের আকার তুলে জন্ম সূত্রে পাওয়া রোগ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহার করেছিলেন. তাঁদের কথামতো, মুখের গঠনের মধ্যে ৭০০টিরও বেশী জন্ম সূত্রে পাওয়া রোগের কারণে গড়ন পাল্টানো ধরতে পারা যায়. নতুনতম কম্পিউটার প্রোগ্রাম প্রায় শতকরা ৯০ শতাংশ নিখুঁত ভাবে রোগীদের মধ্যে এই ধরনের গড়নের তফাত ধরতে পারে, যে রকমের ছবি যে কোন তথ্য ভাণ্ডারেই থাকতে পারে. কিন্তু আপাততঃ এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রধান ক্ষেত্রই হল নিরাপত্তা ও অপরাধের মোকাবিলা, এই কথা বলেছেন প্রতিযোগিতা মূলক গুপ্তচর বৃত্তির বিষয়ে বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ইভগেনি ইউশ্যুক রেডিও রাশিয়াকে:

    "মুখ চেনার ব্যবস্থা ইন্টার নেটেই কাজ করে ও তার সাহায্য নেওয়া যেতে পারে অপরাধ বিরোধী কাজ কর্মের ক্ষেত্রে. যেই সমস্ত লোকেরা যারা এখন ফেরারী হয়ে রয়েছে, তাদের ফোটো দেখতে পাওয়া যেতে পারে ফেসবুক, টুইটার, আদনোক্লাসনিকি ইত্যাদি সাইটে. যদি রোবট থাকে, যেটা এই ধরনের মুখ খুঁজে দেখতে পারে, তাহলে সেই সমস্ত লোকদের পাওয়া যাবে, যারা অন্যের নাম দিয়ে অথবা বেনামী ভাবে সাইটে রয়েছে. একই ভাবে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে, সেই সমস্ত লোকেদের যারা হারিয়ে গেছে বলে মনে করা হয়েছে, যেমন বাচ্চা দের, যারা ঘর ছেড়ে পালিয়েছে, তারা. কিন্তু যদি সন্ত্রাস বিরোধী কাজকর্মের কথা বলতে হয়, তবে এই ধরনের মাধ্যম বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই শহরের লাগানো নানা ভিডিও ক্যামেরার জন্যই চলতে পারে. কারণ প্রতিক্রিয়া করার মতো গতি এই ক্ষেত্রে যথেষ্ট দ্রুতই হবে".

    রাশিয়ার ইয়ানডেক্স সাইট চার বিলিয়ন ডলারের বেশী ইজরায়েলের কোম্পানী ফেস কে দিয়েছে, যারা মুখ চেনার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে. আর গোগোল একই ধরনের প্রোগ্রাম কিনছে পিটসবার্গ প্যাটার্ন রেজিস্ট্রেশন কোম্পানীর কাছ থেকে কিনছে. এরই মধ্যে রাশিয়ার তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানী যারা এদের থেকে অনেক নীচে, তারাও শীঘ্রই এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার নিয়ে প্রশংসা পেতে চাইতে পারে. দেশে অল্প বয়সী বিজ্ঞানীদের সংখ্যা বাড়ছে, যারা এই ধরনের প্রযুক্তিতে নতুন দিক উদঘাটন করতেই পারে, এই কথা বলেছেন আমাদের রেডিও স্টেশন কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে সেন্ট পিটার্সবার্গের রাষ্ট্রীয় মেকানিকস্, অপটিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলার আলেক্সেই শালকোভস্কি:

    "আমরা বিরাট বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা ও কর্মী প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা নিয়েছি. বিভাগ খুলেছি, যাদের একটি কাজ হল – সেই ধনের বিশেষজ্ঞ তৈরী করা. যারা ছবি চেনার বিষয়ে প্রযুক্তি তৈরী করবে. ছাত্র ও ডক্টরেট যারা করছেন, তারা এই বিষয়ে এখন গবেষণা পত্র তৈরী করছেন. আমাদের সহকারীরা হলেন – রুশ তথ্য প্রযুক্তি ও টেলি যোগাযোগ কোম্পানী, আর তার সঙ্গে বক্তা নির্ণয় প্রযুক্তি".

    আলেক্সেই শালকোভস্কি যা বলেছেন তার মর্মার্থ হল যে, তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিরিশটি উদ্ভাবনী কোম্পানী খোলা হয়েছে, যার মধ্যে ২০টি স্ট্র্যাটেজিক তথ্য প্রযুক্তি গবেষণা নিয়ে কাজ করছে. তাদের মধ্যে কয়েকটি স্কোলকোভো কেন্দ্রের জন্য তৈরী হয়েছে. প্রাথমিক ভাবে – এই গুলি জিনিস ও মুখ চেনার জন্য ত্রৈমাত্রিক প্রযুক্তি.