ভারতের "টাইমস অফ ইন্ডিয়া" খবরের কাগজে প্রকাশ করা হয়েছে যে, ভারতবর্ষ তাদের প্রায় এক হাজার কোটি ডলারের ১২৬টি যুদ্ধ বিমান কেনার বায়নার সঙ্গে আরও ৬৩টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করতেই পারে. এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে, অংশতঃ, সময়মতো রুশ ভারত পঞ্চম প্রজন্মের সামনের সারিতে লড়াই করার উপযুক্ত যুদ্ধ বিমান ব্যবস্থা নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করার উপরে, এই কাগজে উল্লেখ করা হয়েছে ভারতীয় সেনা বাহিনীর উত্স থেকে পাওয়া খবর হিসাবে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    "টাইমস অফ ইন্ডিয়ার টোপ", সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, দুটো উদ্দেশ্য নিয়ে এই কাজ করা হয়েছে: রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য ও নিজেদের জন্য সবচেয়ে লাভজনক শর্ত পাওয়ার জন্য.

    ২০০৭ সালে ভারতে ১২৬ টি যুদ্ধ বিমান কেনার টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিল. রাশিয়া এই প্রতিযোগিতায় নিজেদের পক্ষ থেকে নিয়ে গিয়েছিল মিগ – ৩৫. এই টেন্ডারে একই সঙ্গে অংশ নিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইউরোপীয় সম্মিলিত সংস্থা ও সুইডেন. এপ্রিল মাসে রাশিয়ার আবেদন পত্র, আমেরিকার আবেদন পত্রের মতই প্রতিযোগীদের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল. তারও আগে একই ধরনের হাল হয়েছিল সুইডেনের আবেদন পত্রেরও. তালিকায় রয়ে গিয়েছে ফরাসী ও ইউরোপীয় সম্মিলিত সংস্থা. ভারতের এই ধরনের সিদ্ধান্ত মস্কোর স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর রুসলান পুখভ ব্যাখ্যা করেছেন এই দেশের পক্ষ থেকে ভারতীয় সেনা বাহিনীর জন্য অস্ত্র কেনার বিষয়ে নানা রকমের উত্স থেকে নেওয়ার সম্ভাবনা রাখার উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে বলে. তিনি তাই বলেছেন:

    "ভারতের মতো উদীয়মান ও উচ্চাভিলাষী দেশের পক্ষে সমস্ত ডিম একই ঝুড়িতে রেখে দেওয়া, এমনকি এটা রুশী ঝুড়ি হলেও গ্রহণ যোগ্য নয়. তাই তারা নিজেদের অস্ত্র ক্রয়ের সম্ভাবনাকে নানা দিকে ভাগ করতে চাইছে, যাতে একক সরবরাহকারীর উপরে নির্ভর করতে না হয়".

    অন্য একটি মতে বিশ্বাস করেন রাশিয়ার বিজ্ঞানী সের্গেই অজ্নোবিশ্যেভ. তিনি মনে করেন যে, ভারতের পক্ষ থেকে এই ভাবে রুশ ভারত সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা যে ভাবে উন্নতি করছে, তার সম্বন্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে, তিনি বলেছেন:

    "খুবই উচ্চ রাজনৈতিক স্তরে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছিল, আর তার পরে দেখা গেল যে, জিনিসের দাম বেড়ে গিয়েছে, অস্ত্র সরবরাহের সময় সীমাও পার করে দেওয়া হয়েছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে. আর এটাই নেতিবাচক ভাবে আমাদের সামরিক প্রযুক্তি যোগাযোগের উপরে প্রভাব ফেলেছে".

    রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান ভারতের বিমান বাহিনীর সবচেয়ে টাটকা সামরিক প্রকল্প. গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ভারত ও রাশিয়া চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ভারতীয় ধরনের পঞ্চম প্রজন্মের বিমানের ড্রইং ও টেকনিক্যাল প্রকল্প নিয়ে. ভারতীয় বিমান বাহিনী এই ধরনের যুদ্ধ বিমান ২৫০ – ৩০০ টি কেনার কথা ভেবেছে.

    প্রতিটি বড় সামরিক চুক্তির চারপাশেই সব সময়ে বড় অর্থনৈতিক স্বার্থ ঘুরপাক খায় – তা যেমন ভারতীয়, তেমনই বিদেশী. আর, ইতিহাস যেমন দেখিয়েছে, সব সময়ে সিদ্ধান্ত কেন না কেন অস্ত্রের ফলপ্রসূ হওয়ার উপরেই নির্ভর করে না.

    ফ্রান্স ও ইউরোপের সম্মিলিত সংস্থা যে "রাফাল" ও "ইউরোফাইটার টাইফুন" বিমান এখানে উপস্থাপনা করেছে, সে গুলি ডিজাইন করা হয়েছিল গত শতকের আশির দশকে. ভারতীয় সেনারা তা ব্যবহার করতে চাইছে ২০৫০ সাল অবধি. সেই সময়ের মধ্যে এই ধরনের যে কোন বিমানই প্রাগৈতিহাসিক দেখাবে. গত শতকের আশির দশকের বিমানের উপরে যতই ইচ্ছা থাকুক না কেন ও যতই আধুনিকীকরণ করা হোক না কেন পঞ্চম প্রজন্মের বিমানের সম্পূর্ণ রকমের বদলী করা বাস্তবে সম্ভব নয়. এটা সম্ভবতঃ, ভারতের সামরিক মন্ত্রণালয়ে যেমন বিচার করা হয় নি, যেখান থেকে তথ্য চুঁইয়ে বেরিয়ে পড়েছে ও ছাপা হয়েছে "টাইমস অফ ইন্ডিয়া কাগজে", আর তারাও বিচার করে নি, যারা এই টোপ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল. অথবা সম্ভবতঃ জেনে শুনেই স্থির করা হয়েছে এই বিষয়ে চুপ করে থাকার.