ভারতবর্ষ ও পাকিস্তানের মধ্যে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া নতুন এক গতি পেয়েছে. দিল্লী শহরে এই বছরে প্রথমবার ভারত ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছেন সোমানাহল্লি মালাইয়া কৃষ্ণ ও হিনা রব্বানি খার, যিনি এই উচ্চ পদে শুধু গত সপ্তাহেই আসীনা হয়েছেন. বিষয়টি নিয়ে বিশদ হয়েছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    কেউই দুই দেশের এই পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের বর্তমান আলোচনার থেকে কোনও অত্যন্ত প্রভাব বিস্তার কারী সিদ্ধান্ত আশা করেন নি. ভারত- পাকিস্তানের সম্পর্কের মধ্যে খুবই জটিল সব সমস্যা জমা হয়েছে. তার মধ্যে কয়েকটি এই দুই দেশের ১৯৮৭ সালের জন্ম লগ্ন থেকেই রয়েছে. যেমন, কাশ্মীর সংক্রান্ত সমস্যা. অন্যান্য গুলি একেবারেই কয়েকদিন আগে উদ্ভব হয়েছে, যেমন, দুই দেশের সম্পর্কের প্রচণ্ড অবনতি ২০০৮ সালের মুম্বাই শহরের হামলার পর থেকে.

    এই ধরনের সমস্যা দ্রুত সমাধান করা যায় না. প্রায়ই এর সমাধানে বহু বছর এমনকি দশকও লেগে যায়. হিনা রব্বানী খার ভারতের মাটিতে পা দিয়েই ঘোষণা করেছেন আশা করব এই দুই দেশ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়েছে, কিন্তু ইতিহাসের ভারে নুয়ে না পড়াই ঠিক হবে আমাদের. ইতিহাস অবশ্যই ভারতেও মনে রাখা হয়েছে. তাই এখানেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল যে, মন্ত্রীদের আলোচনা যেন হয়, আর ভারত ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল আলোচনার টেবিলে যেন বসে, এই কথা মনে করে রুশ প্রাচ্য বিশারদ, রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের সহকারী ডিরেক্টর ভিয়াচেস্লাভ বেলোক্রিনিতস্কি বলেছেন:

    "এখানে মূল কথা হল আলোচনার ফলই শুধু নয়, বরং প্রক্রিয়া. আর এই প্রক্রিয়া প্রাথমিক ভাবে ইতিবাচক হতে পারে পাকিস্তানের জন্যই. পাকিস্তানের বর্তমানে খুবই দরকার ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের বিষয়ে একটু হাঁপ ছেড়ে বাঁচার সময়ের. পাকিস্তান সহজ অবস্থায় নেই, তা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভাবেই. তাই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা কমলে তা ইসলামাবাদের জন্য ভালই হবে. পাকিস্তানে যারা এখন ক্ষমতায় রয়েছেন, তারা সত্যই চাইছেন যেতে এই সম্পর্ক স্থিতিশীল হয় ও তা আবার তীক্ষ্ণ না হয়. ভারত তাদের থেকে বড় দেশ, বেশী সাফল্য পেয়েছে উন্নতির বিষয়ে, তাই তারাও যথেষ্ট রকমের চেষ্টা করছে পাকিস্তানের দিকে এগিয়ে যেতে ও এই পরিস্থিতির ভারসাম্য হারাতে দিতে চায় না. পাকিস্তানে পরিস্থিতি খারাপ হলে সমগ্র অঞ্চলের অবস্থাই খারাপ হতে পারে".

    ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসের স্তর যথেষ্ট বেশী. কিন্তু এখানে অগ্রগতি বলা যেতে পারে যে, এমনকি মাত্র কয়েক দিন আগে মুম্বাই শহরে পরপর তিনটি বিস্ফোরণ হওয়া স্বত্ত্বেও ও সেই সমস্ত শক্তি যারা চাইছে না দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভাল হোক, তাদের প্রচেষ্টা স্বত্ত্বেও, দিল্লী ও ইসলামাবাদ আলোচনা করতে বসেছে ও তা বন্ধ হয়ে যেতে দেয় নি, এই কথাই মনে করেছেন রুশ বিশেষজ্ঞ.