আন্দ্রেস ব্রেইভিককে সমর্থন করেছে ফ্রান্সের অতি চরমপন্থী "ন্যাশনাল ফ্রন্টের" কর্মী জাক কুতলা. নিজের ব্লগে সে লিখেছে ব্রেইভিক পশ্চিমের প্রথম রক্ষাকারী ও তাকে নিয়ে আইকন করতে বলেছে. ইতার – তাস সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী এই কথা গুলো এই ভাবে লেখা হয়েছে: "এ পশ্চিমের প্রথম রক্ষাকারী. নরওয়ে দেশের জাতীয়তাবাদী যে কাজ করেছে, তার কারণ – ঐস্লামিক অনুপ্রবেশের সঙ্গে যুদ্ধ. ওর থেকে চলুন আইকন বানাই"! এই লেখার আসলটি ক্ষোভের কাছে নতি স্বীকার করে দ্রুত মুছে দেওয়া হয়েছে, আর কুতলা কে এই দলের নিয়ম শৃঙ্খলা পরিষদের মতে কাজ থেকে ছাঁটাই করা হয়েছে. এই রাজনীতিবিদ নরওয়ের এই সন্ত্রাসবাদীকে সপ্তম শতকে ইউরোপে আরবদের অনুপ্রবেশ রোধ কারী ফ্রাঙ্ক দের ইউরোপের ত্রাতা বলে বিখ্যাত নেতা কার্ল মার্টেল্লোর সঙ্গে তুলনা করেছে. ফরাসী বর্ণ বিদ্বেষ প্রতিরোধ ও বিভিন্ন প্রজাতির মানুষদের মধ্যে মৈত্রী আন্দোলন এর মধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, তারা কুতলার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করবে তার লেখার বিরুদ্ধে. সে নিজে হঠাত্ করেই ঘোষণা করেছে যে, এই মন্তব্য সে ইন্টারনেটে খুঁজে পেয়েছে, আর প্রকাশ করেছে স্রেফ তথ্য হিসাবে, সঙ্গে যোগও করেছে যে, সে সন্ত্রাসবাদ কে সমর্থন করে না.

    শেষ অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী, পুলিশ জানতে পেরেছে যে, ওসলো শহরে বিস্ফোরণের এক ঘন্টা আগে ব্রেইভিক নিজেই অন্ততঃ ১০০০ ই- মেইল পাঠিয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন ঠিকানায় তার নিজের মতবাদের কপি যোগ করে. এর মধ্যে এক তৃতীয়াংশ ব্রিটেনের অতি দক্ষিণ পন্থীরা, অংশতঃ- চরম পন্থী সংগঠন "ইংলিশ ডিফেন্স লীগ", যারা এর মধ্যেই ব্রেইভিককে অচ্ছুত করেছে.

    নিজের মতামত ব্রেইভিক দেড় হাজার পাতার "স্বাধীন ইউরোপের ঘোষণাপত্র" নামে প্রকাশ করেছে, যেখানে সে সাবধান করে দিয়েছে যে, তার সমর্থনে রয়েছে ৮০ জন আত্ম বলিদানে উন্মুখ. তারা সারা বিশ্ব জুড়েই এই ধরনের আক্রমণ করতে পারে. ওসলো শহরে আদালতে প্রথম অধিবেশনেই ব্রেইভিক ঘোষণা করেছে ইউরোপে দুটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে সে সহযোগিতা করেছে. পুলিশ তার ঘোষণার প্রতি প্রয়োজনের অতিরিক্ত মনোযোগ দিয়েছে ও এখন নরওয়ের এই বন্দুক বাজের সমস্ত যোগাযোগই খতিয়ে দেখছে. ব্রেইভিক নিজে কিন্তু তার সমস্ত যোগাযোগকে খুবই যত্ন করে লুকিয়ে রাখছে ও বাস্তবে ইউরোপের সমস্ত চরমপন্থী, নব নাত্সী বাদী, অতি দক্ষিণ পন্থী, আর তার সঙ্গে কম্পিউটার গেমস ওয়ার ক্র্যাফট, ব্লক বাস্টার সিনেমা "দ্য লর্ড অফ রিঙস্", ও টেম্পলারস্ এর প্রতি তার ভালবাসার কথা ঘোষণা করছে. এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, ব্রেইভিক এর মধ্যেই নিজেকে একটা ব্যবস্থার অংশ বলে ভাবতে শুরু করেছে, যাদের স্বার্থ ওর উচিত প্রকাশ করার, এই কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক তথ্য কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেক্সেই মুখিন বলেছেন:

    "এই লোকটি ব্যবহার করেছে বিশ্বের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা এক চালিকা শক্তির উপস্থিতির ধারণা, যা আজকের সারা আধুনিক দুনিয়াকে চালাচ্ছে. এই ধরনের লুকোনো গোপনীয়তার পর্দা তার প্রতি মনোযোগ ও সহমর্মীতা উদ্রেক করতে পারে, কারণ ধীরে হলেও, খুবই সম্ভব যে, তাকে মনে করা হবে কোন একটা অন্তরালে লুকোনো দলের মতামত প্রকাশের লোক বলে, যারা এই সমস্ত প্রক্রিয়ার বেশীর ভাগই নিয়ন্ত্রণ করে ও করতেও চায়".

    বেশ কিছু বিশেষজ্ঞ খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে এই ম্যানিফেস্ট বলে যা প্রকাশ করা হয়েছে, তা দেখতে চান না, আর তারা বরং জোর দিচ্ছেন যে, এই সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড একক পাগলের কাজ. মারবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও রাজনীতিবিদ ডির্ক বের্গ শ্লোস্সার এই রকমের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে বলেছেন:

    "আমি মনে করি যে, এটা চরম কিন্তু একক ঘটনা. এই বেপরোয়া কাজ, যা আন্দ্রেস ব্রেইভিক করেছে, নিজেকে এক অবতার বলে মনে করে, যে নরওয়ে দেশকে অন্য দেশীয় লোকের হাত উদ্ধার করতে চেয়েছে. কিন্তু আমি তাও মনে করি যে, এটা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দূরের একটি একক ঘটনা মাত্র".

    অন্য কথা হল যে, এই একক ঘটনা সুদূর প্রসারী ফল দিতে পারে. রাজনৈতিক তথ্য কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেক্সেই মুখিন মনে করেন যে, ব্রেইভিক বিশেষ করে ভেবে বানানো হয়েছে, যাতে নতুন "সন্ত্রাসবাদী একটা ব্র্যান্ড" লোকের পরিচিতির গণ্ডীতে আনার চেষ্টা করা যায়. এক রকমের "প্রথমে আগে বাড়িয়ে দেওয়া" লোক, কোন এক দলের পক্ষ থেকে, যারা এই নিয়ে যখন উত্তেজনা কমবে, তখনই এরা আত্মপ্রকাশ করবে, তাই তিনি বলেছেন:

    "এক সময়ে, যখন চালু বিষয়ের উপরে একটা ধারণার প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকে, যখন মানুষের প্রাণ গিয়েছে বলে বেদনা ভোঁতা হয়ে আসে, তখন খুব সম্ভবতঃ, এই ব্র্যান্ড ব্যবহার করা হবে একক বা বেশ কিছু অতি চরম পন্থী, অতি দক্ষিণ পন্থী দলের জন্য".

    এখন বেশীর ভাগ পর্যবেক্ষকই নরওয়ে দেশের হত্যা কাণ্ডের সঙ্গে ১৬ বছর আগের ওকলাহোমা শহরে প্রশাসনিক ভবন বিস্ফোরণের তুলনা করছেন. তখন আমেরিকার নাগরিক টিমোথি ম্যাক ওয়ে বিস্ফোরক ভরা এক গাড়ী ফাটিয়েছিল. ফলে মারা গিয়েছিলেন ১৬৮ জন, যাঁদের মধ্যে ১৯ টি শিশু, ৫০০ জন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছিলেন. আর নরওয়ে দেশের সংবাদপত্র ভি জি তে  যেমন উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্রেইভিক নিজের ম্যানিফেস্ট এ আমেরিকার সন্ত্রাসবাদী থিওডর কাচিনস্কির লেখা "ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড ইটস ফিউচার" বইয়ের থেকে মূল অনুচ্ছেদ গুলো কপি করেছে. কাচিনস্কি সমকামী, নারীবাদী, বিকলাঙ্গ দের অধিকার নিয়ে যারা আন্দোলন করছে, পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য যারা লড়াই করছে, যারা রাজনৈতিক ভাবে সঠিক হওয়ার জন্য প্রচেষ্টা করতে বলছে ও আধুনিক প্রযুক্তির স্বপক্ষে কথা বলছে, যার জন্য বড় ধরনের সংস্থার প্রয়োজন হয়ে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে ছিল. ১৯৭৮ থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত কাচিনস্কি পত্র বোমা পাঠিয়েছিল ১৬ টা, তার বিস্ফোরণ থেকে মারা গিয়েছিল তিনজন ও ২৩ জন আহত হয়েছিল. এখন থিওডর কাচিনস্কি চারটি যাবজ্জীবন কারা দণ্ডের মেয়াদ কাটাচ্ছে. এই ভাবেই ব্রেইভিক এর যে আগেও সহমর্মী লোক ছিল ও আছেও, তা বিশেষজ্ঞদের সন্দেহের বিষয় হয় নি. তার আর কোনও অনুগামী আছে কিনা তা সময়ই বলে দেবে. প্রসঙ্গতঃ পরিসংখ্যাণ অনুযায়ী এই ধরনের কাণ্ড সন্ত্রাস বাদীরা যতই ঘোষণা করুক, একক ভাবে কখনোই করা যায় না.