মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য হিসাবে বকেয়া পড়তে আর বাকী মাত্র এক সপ্তাহ. রিপাব্লিকান ও ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতারা ওয়াশিংটনে আগের মতই সমঝোতায় আসতে পারে নি ও একে অপরকে দোষ দিচ্ছে রাজনৈতিক চরম পন্থী বলে. এই সময়ের মধ্যেই বিনিয়োগ কারীদের স্নায়ু দৌর্বল্য শুরু হয়ে গিয়েছে – সোনা আরও সমস্ত নতুন দামের উচ্চতায় আরোহণ করছে, ডলারের দাম বিনিময় মুদ্রার বাজারে নড়বড়ে, ফ্রাঁ ও ইয়েন এখন লাভ জনক পরিস্থিতিতে. এর মধ্যেই বারাক ওবামা নিজেই খোলাখুলি ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবার করে বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্ররোচনা দিতে পারে.

সহমতে আসা সম্ভব হচ্ছে না. হোয়াইট হাউস, এক দিকে, আর মার্কিন কংগ্রেস, আর এক দিকে, একে অন্যের উদ্যোগে বাধা দিয়ে চলেছে. ওবামার নেতৃত্বে ডেমোক্র্যাটিক দল আর কংগ্রেসে সংখ্যাধিক্য রিপাব্লিকান দলের মধ্যে কেউ কোন সমঝোতায় আসার সূত্রই নির্ণয় করতে পারছে না. এটার ফল কি হতে পারে – তা সহজ বোধ্য ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি, তিনি বলেছেন:

"এই প্রথম ইতিহাসে আমাদের দেশের ক্রেডিট রেটিং AAA(সবচেয়ে ভরসা যোগ্য)থেকে নেমে যাবে. বিনিয়োগকারীরা সারা বিশ্বেই সন্দেহ করছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ধার দেওয়া কতটা নিরাপদ. সুদের হার মুহূর্ত মধ্যে দ্রুত গতিতে বেড়ে যাবে. একই ব্যাপার হবে গৃহ ঋণের ক্ষেত্রে. আমরা গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্য পতনের ঝুঁকি নিতে চলেছি, যার দায়িত্ব সম্পূর্ণ ভাবে ও পুরোপুরি হবে ওয়াশিংটনের. আমাদের দায়ভারের ক্ষেত্রে বকেয়া রাখা এটা একেবারেই বুদ্ধি বিচার হীণ ও দায়িত্ব হীণ ফল, যা আমাদের বর্তমানের আলোচনা শেষ অবধি দিতে পারে".

কিন্তু বর্তমানের বিতর্ক একেবারেই সরকারি ঋণ নিয়ে করা হচ্ছে না. বাস্তবে, রাজনৈতিক বিরোধ সেই প্রশ্নের চারপাশ ঘিরেই করা হচ্ছে যে, বাজেটের প্রচুর ব্যয়ের বোঝা কে বইবে – ধনীরা, যেমন ওবামা মনে করেছেন, অথবা, দরিদ্ররা, যার জন্য রিপাব্লিকান দলের লোকেরা গলা ফাটাচ্ছেন. আর এটা স্রেফ ভোটের আগের জনপ্রিয়তা রোজগারের ধান্ধা.

রাষ্ট্রপতি ওবামা সরাসরি তাঁর বিরোধী পক্ষের লোকেদের দোষ দিয়েছেন যে, সবচেয়ে ধনী আমেরিকার লোকেরা ও বড় কর্পোরেশন গুলি দেশকে সাহায্য করতে চায় না. সব ধারের বোঝা বোধহয় পড়তে চলেছে সাধারন আমেরিকার পরিবারের উপরেই. আর সেনেটের ডেমোক্র্যাটিক বেশীর ভাগ সদস্যদের নেতা হ্যারি রেইড রিপাব্লিকান দলের লোকেদের কাজকে চরমপন্থা বলেই নাম দিয়েছেন.

তার উত্তরে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি সভার স্পীকার রিপাব্লিকান দলের জন বয়নার আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছেন, ওয়াশিংটনের চরম বাজেট ব্যয়ের দিকে অঙ্গুলী নির্দেশ করে, তিনি বলেছেন:

"বহু লক্ষ লোক এখন কাজ খুঁজছেন, আর ওয়াশিংটনে টাকা খরচ করা হচ্ছে একেবারে ডাইনে বাঁয়ে ছড়িয়ে. যখন আমাদের ব্যবসায়ীরা লাভ ক্ষতির খাতা মেলাতে ব্যস্ত, ওয়াশিংটন সরকারি ঋণের বোঝা বাড়িয়েই চলেছে. রাষ্ট্রপতি ওবামা একটানা সমঝোতায় আসার কথা বলেই চলেছেন, কিন্তু তাঁর জন্য এর অর্থ হল ওয়াশিংটন পরেও খালি খরচ করে চলবে, আর অন্যরা এর জন্য পয়সার যোগান দেবে. আমরা এটা বন্ধ করতে বাধ্য. এখন আমেরিকার জনগনের সমৃদ্ধি বাজীতে লাগানো হয়েছে".

কিন্তু বাজীতে লাগানো হয়েছে শুধু আমেরিকার জনগনের সমৃদ্ধিই নয়, বরং সারা বিশ্বের অর্থনীতিই. আর বিশ্লেষকদের ইতিবাচক মানসিকতা খালি কমেই আসছে. বেশীর ভাগই বিশ্বাস করেন যে, হোয়াইট হাউস সরকারি ঋণের সর্ব্বোচ্চ মাত্রা বাড়াবে. যেমন, বারাক ওবামার বিশেষ নির্দেশ সংবিধান সমস্ত ভাবেই হতে পারে. কিন্তু সমস্যা হল যে, এই সমস্ত গোলমালে আমেরিকার প্রতি বিশ্বাসেরই ভিত টলে গিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্যান্ডার্ড এন্ড পুয়োরস্ কোম্পানীর বিনিয়োগ বিষয়ে পরিকল্পনা দপ্তরের প্রধান স্যাম স্টোভাল বলেছেন:

"আমার মনে হয় বেশীর ভাগ বিনিয়োগকারীরাই বিশ্বাস করেন যে, কংগ্রেস শেষ মুহূর্তে কোন একটা পরিকল্পনাকে সমর্থন করবে. কিন্তু আমরা শেষ মুহূর্তের যত কাছে আসছি, ততই ওয়াল স্ট্রিটের ভরসা কমছে যে, এটা কোন ভাল পরিকল্পনা হতে পারে".

0বিশ্বের বড় রেটিং কোম্পানী গুলি সত্ভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাবধান করে দিয়েছে – তাদের ভরসা যোগ্যতার রেটিং নতুন করে বিচার করা হবে. যদি অবশ্যই কোন আশ্চর্য হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, আর ডেমোক্র্যাট ও রিপাব্লিকানরা সরকারি ঋণ কমানোর বিষয়ে কোনও সমঝোতাতে না আসে. যা, মনে করিয়ে দিই, বর্তমানে ১৪ ট্রিলিয়ন ৩০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী.