বর্তমানের রাশিয়াতে অন্যান্য উন্নত দেশগুলিতে, যেখানে সঙ্কটের ফল এখনও টের পাওয়া যাচ্ছে, তাদের তুলনায় সহজে বিনিয়োগ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করেছেন রাশিয়ার ঝুঁকি পূর্ণ বিনিয়োগ বাজারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি পূর্ণ বিনিয়োগ কোম্পানীর বিশেষজ্ঞরা. ঝুঁকি পূর্ণ প্রকল্প গুলি, যেগুলির অর্থনৈতিক ভাবে লাভের সম্ভাবনা প্রচুর, সেই গুলিকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে মস্কোর ব্যবসার জন্য উদ্ভাবনী ফোরামে.

    ভেনচার মার্কেট বা ঝুঁকি পূর্ণ বিনিয়োগের বাজার এমনিতে খুবই সহজ বিষয় – এটা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ঝুঁকি নেওয়ার মতো ব্যাপারে টাকা লাগানো. এটা সেই অর্থে বুদ্ধিমান টাকা, অর্থাত্ যে ব্যবসায় লোকসানের ভয় আছে, তাতে টাকা লাগানোর জন্য বিচার করে দেখা – সে প্রকল্প সাধারণতঃ বিজ্ঞান থেকে উত্পাদনে পৌঁছে দেওয়ার জন্য লেগে থাকে, আবিষ্কার থেকে কার্যকরী প্রতিষ্ঠানে পৌঁছনোর জন্য, এই কথা বলেছেন ইয়ান রিজান্তসেভ, "রাশিয়া ভেনচার কোম্পানীর" বিশ্লেষণ ও বিনিয়োগ বিভাগের ডিরেক্টর, তিনি যোগ করেছেন:

"বিদেশে ভেনচার কোম্পানী হিসাবে বড় মাপের শিল্পোত্পাদনের কারখানাও তৈরী হয়ে যায়, সমগ্র শিল্পই এই কারণে পাল্টে যায়. আমাদের দেশের ভেনচার মার্কেট বেশীর ভাগই সরকারের শক্তি প্রয়োগের ফলে তৈরী হয়েছে, যার ব্যবসায়ীরা কোম্পানী তৈরীর প্রাথমিক স্তরে সরকারি অনুদানের জোরে বড় হওয়ার সুযোগ পায়. অবশ্যই ব্যক্তিগত ও ব্যক্তিগত ও সরকারি সামর্থ্য এক করে ভেনচার ফান্ড ও রয়েছে, সেই গুলিতে তহবিলের পরিমানও অনেক বেশী. এখন রাশিয়াতেই বিনিয়োগ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়েছে, অন্যান্য উন্নত বড় দেশ গুলির চেয়ে, যেখানে এখনও বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের ফল অনুভূত হচ্ছে. বহু বিদেশী কোম্পানী এখন পথ খুঁজছে – এই ক্ষেত্রে রাশিয়ার সাফল্যকে কি করে ব্যবহার করা যায়, কি করে নিজেদের কোম্পানীর জন্য অর্থ ধারে পাওয়া যেতে পারে, কেউ আবার ভাবছেন রাশিয়াতেই পাকাপাকি ভাবে চলে আসার কথা.

    অবশ্যই "রাশিয়া ভেনচার কোম্পানীর" মূল ধনকে ব্যবহার করে তৈরী তহবিল গুলি বাজারের অনেকটাই জুড়ে রয়েছে – রাশিয়ার ভেনচার মার্কেটের অর্ধেকের বেশী হল, হয় এই কোম্পানীর সহায়তাতে তৈরী তহবিল অথবা সেই সমস্ত তহবিল, যে গুলি এই কোম্পানী অভিভাবকত্ব করে.

    একটা চালু ধারণা রয়েছে যে, আমরা বিনিয়োগ করার অব্যবহিত পরেই ফল দেখতে পাবো, কিন্তু ভেনচার মার্কেট এমন যে, এখানে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে বহু বছরের জন্য, আর তার ফল দেখা যেতে পারে ৩ -৫ বা ৭ বছর পরে. কিন্তু এই ফল ব্যাঙ্কের সুদের হারের সঙ্গে একেবারেই তুলনার যোগ্য নয়. বিনিয়োগ কারী খুব বড় ঝুঁকি নিয়েই এগোয়, তাই বড় মাপের আয়ের জন্যও আশা করা হয়ে থাকে, তাই এতটা সময় লেগে যায়.

    আমরা এখানে এই রকমের একটা উদাহরণ দেখতে পারি, যেমন, ফোটোনিকস্, অপটোইলেকট্রনিকস বা লেসার টেকনোলজি.  আমাদের বেশ কয়েকটা কোম্পানী রয়েছে, যেখানে রাশিয়া ভেনচার কোম্পানীর তহবিল থেকে বিনিয়োগ করেছে, যারা খুবই অগ্রগতি হতে পারে এমন সমস্ত প্রকল্প প্রস্তাব করেছে. যেমন, "স্পেকট্রোল্যুকস" নামের কোম্পানী এক সবুজ লেসার রশ্মি তৈরী করার যন্ত্র বার করেছে, যার ক্ষমতা বিরল ধরনের. সবুজ লেসার এই কারণেই দরকার হয়ে থাকে, যাতে মোবাইল ফোন থেকে রঙীণ প্রোজেক্টার তৈরী করা যেতে পারে. যাতে মোবাইল ফোন থেকে দেওয়ালে রঙীণ ছবি দেখানো যেতে পারে. মোবাইল টেলিফোনে এই ধরনের প্রোজেক্টার লাগানো খুব জটিল কাজ. আর এটা করতে হবে খুবই কম দামী সমস্ত যন্ত্রাংশ দিয়ে, অংশতঃ লেসার দিয়ে. এই "স্পেকট্রোল্যুকস" কোম্পানী এই ধরনের কাজ করতে পেরেছে, আর তা হয়েছে খুবই কম দামে. এখন এটার বহু সংখ্যায় উত্পাদনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে. বিশ্বের বহু বড় কোম্পানী এই জিনিস পরীক্ষা করে দেখে সন্তুষ্ট হয়েছে, আর আমরা এখন অপেক্ষা করছি যে, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ উত্পাদন হয়ে দাঁড়াবে. বড় কর্পোরেশন গুলির পক্ষ থেকে স্বীকার করে নেওয়া প্রমাণ করেছে যে, এটা সব চেয়ে ভাল জিনিস. আমি মনে করি এটা উদাহরণের জন্য খুবই ভাল কোম্পানী ও ভাল উদাহরণ.

    অন্যান্য শিল্প ক্ষেত্রের উদাহরণও রয়েছে – যেমন, বিখ্যাত রুশ উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কোম্পানী, যেটি বিগত কয়েক বছর ধরে সমগ্র রুশ দেশের পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাজারের শতকরা ৩৫ -৪০ ভাগ দখল করেছে. সেই রকমের যন্ত্র তৈরী করা হয়েছে, যা একটা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে একটি ট্যাক্সি বা বাস ডিপোর সমস্ত গাড়ীর চলা ফেরার খবর দেয়, এটা যে কোন সংস্থার অনেক গাড়ী থাকলেই তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করে দেয়. এক কেন্দ্রেই পাওয়া যায়, গাড়ী কোথায়, তার সঙ্গে কি হয়েছে, এই সব রকমের খবর. রুশ উদ্ভাবনী প্রযুক্তি কোম্পানী এই কারণে সমস্ত যন্ত্র, তার নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রোগ্রাম ও পরিষেবা বন্টনের ব্যবস্থা নিজেরাই তৈরী করেছে. এই কোম্পানী এতই সাফল্যের সঙ্গে বাড়ছে, যে গত বছরের গরম কালে দেশের ভিতরে শেয়ার বাজারে উপস্থিত হতে পেরেছে. প্রাথমিক শেয়ার বাজারে বিক্রী হয়েছে, তা কিনেছে রুশ ও বিদেশী সব কোম্পানী".

    "রুশ উদ্ভাবনী কোম্পানী" এই কিছু দিন আগেও দুই তিন জন উদ্যোগী লোকের একটা শুরুর পর্যায়েই আবদ্ধ ছিল, তারা এক সময়ে বিনিয়োগ পেয়েছিল ব্যবসার দেবদূতের কাছ থেকে ও তারপরে ভেনচার মার্কেট থেকে বিনিয়োগ ও শেষ অবধি শেয়ার বাজারে উপস্থিত হতে পেরেছে. এই কোম্পানীর অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, এই সম্পূর্ণ বিনিয়োগের শৃঙ্খল – অর্থাত্ ধারণা থেকে শেয়ার বাজারে উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত – তার মানে হল কোম্পানীর মূল ধনের সর্ব্বোচ্চ বৃদ্ধি, রাশিয়াতে এখন কাজ করছে. এই কথাই সমর্থন করে বলেছেন বিনিয়োগ বিভাগের ডিরেক্টর ইয়ান রিজান্তসেভ.