নরওয়ে দেশের পুলিশ সেই আন্দ্রেস ব্রেইভিক এর সম্ভাব্য সঙ্গী সাথী দের খুঁজছে, যে রাজধানী ওসলো ও ইউটোয়া দ্বীপে রক্তাক্ত মারণ যজ্ঞের আয়োজন করেছিল. চরম দক্ষিণ পন্থী সংগঠন গুলি বর্তমানে ইউরোপে তাড়াহুড়ো করে ঘোষণা করতে শুরু করেছে যে, তাদের এই হত্যাকারীর সঙ্গে কোন সম্বন্ধই নেই.

আন্দ্রেস ব্রেইভিক অসলো শহরের আদালতে ঘোষণা করেছে যে, সে ইউরোপকে মার্কসবাদী ও মুসলমানদের দখল থেকে উদ্ধার করতে চেয়েছে. সে যে গণ হত্যা করেছে, তা অস্বীকার করে নি, কিন্তু নিজেকে দোষা বলেও স্বীকার করে নি. আদালত তাকে আট সপ্তাহের জন্য হাজতে রাখার আদেশ দিয়েছে. ব্রেইভিক যে অপরাধ করেছে, তা যে ইউরোপের বহু সংস্কৃতি সমন্বয়ের রাজনীতির ফলের সঙ্গেই জড়িত, সেটা বাদ দেওয়া যেতে পারে না, যে নীতির পতনের কথা স্বীকার এর মধ্যেই করেছেন ইউরোপের নেতৃ স্থানীয় দেশের নেতারা, এই রকম মনে করে লোমনোসভের নামাঙ্কিত মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান ভিক্তর কুভালদিন বলেছেন:

"এর বলি কেন নরওয়ে দেশের লোকেরাই হয়েছে? তার মধ্যে আবার যুব সম্প্রদায়, যারা দেশের নেতৃত্বে থাকা দলের সমর্থক. সে এই কাজ করতে চেয়েছে, যাতে সারা বিশ্বকে বাধ্য করা যায় শুনতে যা সে বলতে চেয়েছে. সে সাবধান করে দিচ্ছে তার মতে সেই বিপদের থেকে, যা ইউরোপে আজ বাস্তব: এই বিদেশী দের প্রচুর সংখ্যায় এসে পড়া, সেই সমস্ত মানুষ, যাদের প্রজাতি, গায়ের চামড়ার রঙ, ধর্ম সব আলাদা, যা তার মতে মৃত্যুর মতোই ভয়ঙ্কর".

"ইংল্যান্ড প্রতিরক্ষা লীগ" তাদের সাইটে দুটো ঘোষণা ঝুলিয়েছে, যেগুলিতে খুবই কঠোর ভাবে এই জানোয়ারের সঙ্গে তাদের কোন রকমের যোগাযোগ সম্বন্ধে অস্বীকার করা হয়েছে. "ইউরোপের ইসলাম ধর্ম হওয়া বন্ধ করো" নামের সংগঠন তাদের ফেসবুক সাইটের ফোরামে ব্রেইভিক কে ঢুকতে দেয় নি, তার নব নাত্সী যোগাযোগের জন্য. নরওয়ে দেশের দক্ষিণ পন্থী প্রগতি বাদী দল গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছে, কারণ ব্রেইভিক তাদের দলের সদস্য ছিল বলে. এই সবই আগে থেকে বোঝা গিয়েছিল, এই কথা বলেছেন "রুশ নরওয়ে" সাইটের সংবাদ বিভাগের সম্পাদক পাভেল প্রোখোরভ, তিনি বলেছেন:

"আগে, সব মিলিয়ে, মনে করা হতো যে, চরম দক্ষিণ পন্থী লোকেরা স্বাভাবিক ভাবেই প্রগতি বাদী দলকে সমর্থন করবে, যারা চরম দক্ষিণ পন্থী দের দৃষ্টিকোণ থেকে উন্নয়নের পক্ষে. এখন আবার, আমার মতে, তাদের শুধু টিকে থাকার জন্যেই, নিজেদের ভোটের সময়ের সমর্থকদের টিকিয়ে রাখতে, প্রয়োজন পড়েছে, খুবই আমূলে সংস্কার করা এই ধরনের বদমাশ দের থেকে আলাদা হওয়ার জন্য".

জর্ডনের সংবাদ পত্র "আল- গাদ" এর প্রধান সম্পাদক ফুয়াদ আবু হাজলা বলেছেন যে, ব্রেইভিক যে হত্যা কাণ্ড ঘটিয়েছে, তা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সন্ত্রাসের বহু মুখ, তিনি বলেছেন:

"আরব দুনিয়ার সরকারি মতামত হল – এই সন্ত্রাস কাণ্ডের কোন রকমের শর্ত ছাড়াই নিন্দা করা. সকলেই ভয় পেয়েছিলেন যে, দোষী সাব্যস্ত করা হবে কোন একটা ঐস্লামিক দলকে. ফলে ইউরোপে আরও বেশী করে সেই ধারণাই চেপে বসবে যে, সন্ত্রাসের একটাই মুখ – আর সেটা আরব. নরওয়ে দেশে যা ঘটে গেল, তা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সন্ত্রাসের কোনও জাত হয় না, তার কোন বিশেষ গায়ের রঙ বা ধর্মও নেই".

যদিও অতি দক্ষিণ পন্থী মানসিকতা আজ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে, তবুও এর মনে নয় যে, বহু সংস্কৃতি সমন্বয়ের নীতি দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে. এই ধরনের দৃষ্টিকোণের সমর্থন করে বুডাপেস্ট শহরের সামাজিক ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর পাল তামাশ বলেছেন:

"আমি মনে করি যে, অতি দক্ষিণ পন্থীরা এখন ওজন বাড়াচ্ছে. কিন্তু এখানে কথা হচ্ছে এক পাগলের. কোন সন্দেহ নেই যে, নতুন দক্ষিণ পন্থীরা গতি পেয়েছে ও প্রসারিত হচ্ছে, আর এটা একটা নির্দিষ্ট কথাবার্তার কারণ হয়েছে. তা স্বত্ত্বেও, এই ইউরোপ ছাড়া সেখানে রয়েছে খুবই বিশাল সংখ্যক বহু সংস্কৃতি সমন্বয়ের নীতি মেনে চলা মানুষ. তাই এই নীতির পতন ঘটবে না. আর বিশেষ করে একটি পাগলের কাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হিসাবে".

একই সময়ে পুলিশ খুঁজছে এই "ধ্বজাধারী" ব্রেইভিক এর সাথীদের. কারণ আদালতে সে বলেছে যে, তার সাথে আরও দুটো দল রয়েছে, যারা আঘাত হানার জন্য তৈরী.