নরওয়ে দেশের সন্ত্রাসবাদী আন্দ্রেস ব্রেইভিক, যার জন্য নব্বই জনেরও বেশী নিরপরাধ মানুষের প্রাণ গিয়েছে, সে দাবী করেছে তার বিচার প্রকাশ্য আদালতে করতে আর সেখানে সে এক বিশেষ সামরিক পোষাকে উপস্থিত হতে চায়. কিন্তু নরওয়ে দেশের পুলিশ ব্রেইভিক তার অতি দক্ষিণ পন্থী ধারণা প্রকাশ্যে প্রচার করতে যাতে না পারে, তার জন্য এই দাবী না মানার জন্য ঘোষণা করেছে.

    ব্রেইভিক যে ধারণা নিয়ে তার ঘৃণ্য কাণ্ডের কয়েক ঘন্টা আগে নিজের প্রবন্ধ বলে ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছিল, তা এক কথায় নব নাত্সী বাদ ছাড়া আর কিছু নয়. সে তার কাজ দিয়ে ইউরোপকে আবার উত্তেজিত করতে চায় আগন্তুক অভিবাসী, বিধর্মী, বিশেষত মুসলমান লোকেদের বিরুদ্ধে, এতে নাকি ইউরোপের মঙ্গল হতে পারে. নিজেকে সে মনে করেছে মধ্য যুগীয় নাইট বলে, আর তার প্রথম আক্রমণ হয়েছে নিজের দেশের স্বাভাবিক ও লিবারেল, গণতান্ত্রিক লোকেদের বিরুদ্ধেই, ঠিক যেমন করেছিল ৩০ এর দশকে নাত্সীরা জার্মানীতে ও ফ্যাসিস্টরা ইতালিতে. তাই এই সম্বন্ধে মন্তব্য করে রুশ রাজনীতিবিদ ভিয়াচেস্লাভ নোভিকভ বলেছেন:

    "নব নাত্সী বাদ ও নরওয়ে দেশে যা ঘটেছে, তার যোগ সূত্র পরিস্কার. ও নিজেও তাই, ইউরোপের লিবারেল মার্কস বাদ বিশ্বাসী রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে ওর জেহাদ. অবশ্যই ঐস্লামিক চরমপন্থা এর জন্য মাপ করা যায় না. নিঃসন্দেহে বলা যাতে পারে যে, ইউরোপের কিছু দেশে, স্ক্যান্ডিনেভিয়াতে, লিথুয়ানিয়া, লাতভিয়া, এস্তোনিয়াতে যখন নব নাত্সীবাদের উদ্ভব দেখে প্রশাসন চুপ করে থাকে ও প্রায়শঃই নাত্সী জমানায় করা অপরাধের স্বীকৃতী দিয়ে তাকে, তখনই নরওয়েতে যা ঘটেছে, তার জন্য ভিত্তি তৈরী করে দেওয়া হয়".

    বিগত বছর গুলিতে বহু সংস্কৃতির স্বীকৃতী ও রাজনৈতিক সহ্য করার নীতি ইউরোপে এই ধরনের মানসিকতাকে বাড়তে সাহায্য করেছে, একটা আসা ছিল যে, ইউরোপে এসে একদা অত্যাচারী ও অত্যাচারিত একসাথে নতুন করে বাঁচতে শিখবে, কিন্তু তা ঘটে নি. ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, কিছু অর্থে জার্মানী – সব দেশেই এই রকমের না পছন্দের ভিত্তিতে ঘটেছে গণ হারে গোলমাল, এখন ইউরোপে নতুন এক ধারা শুরু হয়েছে – আভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ, যার সম্বন্ধে আগে থেকেই জানা ছিল, কিন্তু ইচ্ছে করেই চুপ করে থাকা হচ্ছিল, এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর ইউরোপ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি দানিলভ বলেছেন:

    "যে সমস্ত সমস্যা ইউরোপে রয়েছে, এটা শুধু বিনিয়োগ – অর্থনৈতিক সঙ্কটের ফলই নয়. প্রশাসন ও সমাজের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিরোধ রয়েছে, বিভিন্ন প্রজাতি গত দলের মধ্যেও রয়েছে বিরোধ. সাধারণতঃ বলা হয়ে থাকে যে, ইউরোপের বহু সংস্কৃতি এক হওয়ার সঙ্কট বলেই বোঝাবার চেষ্টা হয়ে থাকে. আর এটা আসলে তাই. অন্য কথা হল, এই ধরনের অসন্তোষ কি ধরনের হয়ে যেতে পারে. খুব কষ্টকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে কল্পনা করা যে, ইউরোপে এই ধরনের চরম পন্থী নাত্সী মানসিকতা কি করতে পারে".

    তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে আবার সেই ব্রিটিশ লোকেরাই এই সবের মূলে. যা তারা গত কয়েক শতক ধরে সারা দুনিয়াতে করে বেড়াচ্ছে, কখনও সরকারি ভাবে, কখনও বেসরকারি ভাবে, এবারেও তাই করেছে. ২০০২ সালে ব্রিটেনের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী সে লন্ডনে আরও সাত জনের সঙ্গে দেখা করেছিল ও তখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু করেছিল এই ভয়ঙ্কর কাণ্ডের. স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের গোয়েন্দারা নাকি এখন এই সাত জনকে খুঁজছে. ব্রেইভিক চেয়েছিল জার্মানীর চ্যান্সেলার অ্যাঞ্জেলা মেরকেল ও নরওয়ের প্রাক্তন প্রশাসন প্রধান গ্রু হারলেম ব্রুনটলানকে মারতে, যাকে বলা হয় জাতির মাতা. সুতরাং রাজনীতিবিদ ভিক্তর কুভালদিন তাঁর মন্তব্যে এই কথা উল্লেখ করতে ভোলেন নি:

    "ব্রেইভিক একেবারেই একা নয়. তাঁর নানা ধরনের জোট সঙ্গীও রয়েছে. তার ওপরে আমরা জানি যে, এই ধরনের লোকেরা অভিবাসনের বিপক্ষে ও জাতি বিদ্বেষের কথা প্রচার করে থাকে. তাদের এখন ইউরোপ ও এশিয়াতে সমর্থক জুটছে. এই কথা সহজেই নিজেদের দেশ গুলিতে হওয়া সদ্য বিগত নির্বাচনের ফল দেখলেই টের পাওয়া যাচ্ছে ও তাদের পক্ষ হয়ে কথা বলার সংবাদ মাধ্যম গুলির দিকে তাকালেই টের পাওয়া যাচ্ছে. পৃথিবীর যেখানেই সমাজ হয়ে উঠছে বহু সংস্কৃতি ও বহু ধর্মের মিলিত সমাজ, সেখানেই মাথা চাড়া দিয়েছে নব নাত্সী বাদ ও তাদের পূজারী".

    বলা যেতে পার যে, ইউরোপের সভ্যতা গত সপ্তাহের শেষ থেকে বেঁচে রয়েছে নতুন বাস্তবকে সামনে নিয়ে. অতি দক্ষিণ পন্থী চরমপন্থার সামনে হয়েছে তারা, নরওয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এই ধরনের মার্কস বাদ বিরোধী অতি দক্ষিণ পন্থীরা আল – কায়দা দলের চেয়ে কোন অংশে কম নয়.