সাতটি সম্ভাব্যের মধ্যে সাতটি জয় করা হয়েছে. শতকরা একশ ভাগ ফল করে রাশিয়ার সিনক্রোনাইজড সাঁতারের দল সাংহাই শহরে বিশ্ব সাঁতার প্রতিযোগিতায় নিজেদের অনুষ্ঠান করতে পেরেছে. একটি মাত্র দলের জন্য এমন রকমের বিশাল বিজয় এর আগে কখনও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে হয় নি. কিন্তু এই রেকর্ডই একমাত্র নয়. চিন থেকে ষোঢ়শতম বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরেছেন দল নেত্রী নাতালিয়া ইশেঙ্কো, তিনি সাংহাইতে সবচেয়ে বড় সম্মানের পদক পেয়েছেন - ছয়টি.

এই প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আগেও বিশ্বে খুব কম লোকই সন্দেহ করেছিল রাশিয়ার সিনক্রোনাইজড সাঁতারে প্রশিক্ষণের প্রভুত্ব সম্বন্ধে. তখন প্রশ্ন ছিল মাত্র একটাই সমস্ত পদক এক দলের হাতে দেবে কি না? কিন্তু প্রথম দিন থেকেই পরিস্কার হয়ে গিয়েছিল যে, এখানে লড়াই হবে ঠিকই, তবে তা "রূপো" ও "ব্রোঞ্জ" পদকের জন্যই, সোনা কোন রকমের বিতর্ক ছাড়াই তোলা ছিল রুশ মেয়েদের জন্য. তাদের প্রত্যেক বারের অনুষ্ঠানের পরেই হল ফেটে গিয়েছিল হাততালিতে.

সাংহাই এর সর্ব সেরা অবশ্যই হয়েছেন নাতালিয়া ইশেঙ্কো. তাঁর করা "ডাইনি" শুধু উপস্থিত জনতাকেই মন্ত্র মুগ্ধ করা রাখে নি, এমনকি বিচারকরাও ছিলেন সম্মোহিত. যত বেশী নম্বর এই রুশ মেয়েকে দেওয়া হয়েছে, তা কেউ পেলে তা হয়েছে খুবই কম বার. তাঁর অনুষ্ঠান ছিল রুশ ব্যালে নাচের মতই, শুধু তাতে একটাই পার্থক্য ছিল, মঞ্চের জায়গায় ছিল জল ভর্তি সুইমিং পুল, এই কথা লেখা হয়েছে স্থানীয় সংবাদ পত্রে. নাতালিয়া শুধু "সম্মোহিত" করেন নি, তিনি জুলিয়েট হয়ে বাধ্য করেছেন আনন্দিত হয়ে উঠতে, শোকে বিহ্বল হতে, হাসতে, আর তারপরে স্ভেতলানা রমাশিনা কে সঙ্গে নিয়ে ডুয়েট অনুষ্ঠানে কাঠের পুতুলের মত অভিনয় করেছেন. আর তারপরে ছিল "ঝড়ের মুখোমুখি" কম্পোজিশনে নিজেই দলের সকলকে নিয়ে ঝঞ্ঝা ও ঘূর্ণি ঝড়ের ভূমিকায় অভিনয়.

কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা না থাকা স্বত্ত্বেও রুশ মেয়েদের জন্য জয় সহজ হয় নি. নাতালিয়া ইশেঙ্কো বলেছেন – "পিছন ফিরে তাকিয়ে, এখনও সম্পূর্ণ ভাবে বাস্তবে যা ঘটেছে, তা উপলব্ধি করতে পারি নি, খুবই বুঝতে কষ্ট হচ্ছে, কি করে আমরা এটা করতে পারলাম. ডুয়েট অনুষ্ঠানের আগে মাথায় উদয় হয়েছিল, ব্যাস আর পারছি না. তাও পরে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলাম, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছিলাম. তার ওপরে সবাই আমাদের কাছ থেকে শুধু বিজয় আশাই করেছিলেন, আর এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মানসিক চাপ", তাই নাতালিয়া যোগ করেছেন – "এই প্রতিযোগিতার সময় নির্ঘন্টও খুব সহজ ছিল না, তাই জেতা ছিল কঠিন, কিন্তু আমরা এটা করতে পেরেছি":

"এই চ্যাম্পিয়নশীপে খুবই কষ্টকর রুটিন ছিল. এই রকম আগে কখনও হয় নি, যে আমরা দিনে তিনবার করে অনুষ্ঠান করেছি ও তিনবার করে হয়েছে নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী অনুষ্ঠান. এটা খুবই কষ্টকর. আমাদের এমন হয়েছিল যে, আমরা মাত্র পাঁচ ঘন্টা করে ঘুমোতে পেরেছি".

কিন্তু দর্শকেরা বুঝতেও পারেন নি, যে, প্রতিযোগিরা কতটা ক্লান্ত. স্টেডিয়াম আনন্দে সবাই শ্বাস রোধ করে দেখেছিল কি করে দশটি মেয়ে একসাথে সবাই সিনক্রোনাইজড ভাবে খুবই জটিল সমস্ত সাপোর্ট, ভল্ট ও জাম্প করে দেখাচ্ছিল. এই ধরনের সকলের একসাথে নিখুঁত করতে পারা এক বছরের পরিশ্রমে করা সম্ভব নয়. একেবারে খুঁত হীণ করতে হলে বেশ কয়েক বছরের অনুশীলনের প্রয়োজন, এই কথা বলেছেন চারবার অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ও সাংহাইতে তের তম বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া আনাস্তাসিয়া দাভিদোভা. প্রত্যেক দিন আমরা জলে অনুশীলন করে থাকি দিনে প্রায় দশ ঘন্টা ধরে. তাই আমরা সাংহাইতে এই জয় অর্জন করতে পেরেছি, তিনি বলেছেন

"আমরা এক ধরনের রেকর্ড করতে পেরেছি. এটা বিশ্বের সিনক্রোনাইজড সুইমিং প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম বার যখন একটা দলই সমস্ত সম্ভাব্য পদক জিতেছে – সাতটি সোনা. এই ঘটনার জন্যেই এই বারের প্রতিযোগিতা সকলের মনে থেকে যাবে, আর জানা নেই, কবে আবার এই রকমের রেকর্ড হবে".

সাংহাইয়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপে সিনক্রোনাইজড সুইমিং দলের অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে. তাঁদের অবদানের জন্যই রাশিয়ার দল পদকের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে. সব কটি সোনা আর এটা সাতটি পদক রয়েছে এই রুশ মেয়েদের কাছে, তার সঙ্গে রয়েছে তিনটি রূপো ও তিনটি ব্রোঞ্জ পদকও. চিনের এখন পদক সংখ্যা সবার চেয়ে বেশী তারা পেয়েছে শটি সোনা, দশটি রূপো ও একটি ব্রোঞ্জ পদক অন্যান্য সাঁতারের প্রতিযোগিতায়. বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশীপ শেষ হবে ৩১ শে জুলাই, সুতরা সাঁতারু দের এখনও উপায় আছে, নিজেদের দলের জন্য পদক জেতার.