শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে কয়েকটি সরকারি ভবনে বোমা হামলা এবং উটোইয়া দ্বীপে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির যুব সম্মেলনে অতর্কিত হামলার মূল হোতা অ্যান্ডারস ব্রেইভিকে আটক করা হয়েছে।অ্যান্ডারস  নিজেই এ ঘটনার দায়ভার স্বীকার করেছেন।পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যে অ্যান্ডারস বলেন, ‘আমার হামলাগুলো ছিল ভয়ংকর কিন্তু দরকারী’ ।তিনি হামলার বিষয়ে বিস্তারিত বর্ননা দিতে রাজি হয়েছেন।বিভিন্ন উত্স থেকে পাওয়া সংবাদে ২ জন হামলাকারীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।তবে পুলিশ এখনও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।সরকারি ভবনে বোমা বিম্ফোরণ ও উটেয়া দ্বীপে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৯৭ জনে দাড়িঁয়েছে।এখনও নিঁখোজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন  ।১০০ এরও বেশী আহত ব্যক্তিরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার পর্যন্ত এই অ্যান্ডারস ব্রেইভিকের সম্পর্কে পৃথিবীর কেউই কিছু জানত না।ব্রেইভিক স্ক্যান্ডনেভিয়ার একটি ইন্টারনেট ফোরামে  কঠোর জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করতেন।সুইডিশ সাংবাদিকদের তথ্যমতে, ঐ সাইটের ২২ হাজার ইউজারদের মধ্যে অ্যান্ডারস হচ্ছেন সক্রিয়দের ১ জন।তাছাড়া ৩২ বছর বয়সী এই যুবকের ফেইসবুক ও টুইটারেও নিজের এ্যাকাউন্ট রয়েছে।ব্রেইভিকের নামে যে টুইটার অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছ তাতে একটি মাত্র পোস্ট রয়েছে। পোস্টটিতে ইংরেজ  দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট মিলের একটি উদ্ধৃতি রয়েছে। উদ্ধৃতিটি হলো- `স্রেফ আগ্রহ আছে এমন লক্ষ লোকের ক্ষমতার সমান একজন বিশ্বাসী ব্যক্তির ক্ষমতা’।

এদিকে নরওয়ের গনমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে,ব্রেইভিক এই আক্রমনের কয়েক ঘণ্টা আগেই ইংরেজিতে লেখা ১৫শ পৃষ্ঠার একটি দলিল অনলাইনে প্রকাশ করেন।যার শিরোনাম  ছিল-‘২০৮৩ সালের স্বাধীন ইউরোপের ঘোষণা’।ঐ দলিলে বোমা  তৈরীর বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে বর্ননা দেয়া হয়েছে।

ব্রেইভিক যে শুক্রবারের বোমা হামলার সাথে সরাসরি জড়িত তা জানার পরই সংবাদমাধ্যমগুলোতে তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আসতে থাকে।পুলিশের তথ্য অনুযায়ি,তিনি আর্মিতে প্রশিক্ষন নিয়েছেন এবং গুলি চালানো ক্লাবের সদস্য ছিলেন।বিগত কয়েকটি মাস ব্রেইভিক তার নিজস্ব কোম্পানিতে সময় দিয়েছেন।তার কোম্পানি বাণিজ্যিকভাবে শাকসবজি, তরমুজ, গাজর, মূলা এবং আলু চাষ করে।তাছাড়া  ব্রেইভিকের সম্পর্কে আরও সঠিক তথ্য পেতে যে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তা হল ব্রেইভিকের মানসিক পরিস্থিত।তবে বর্তমানে যে তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে তাতে ব্রেইভিককে মানসিক রোগী হিসাবেই ধরা যেতে পারে।এমনটি বলছিলেন অপরাধী বিষয়ক মনবিজ্ঞানী মিখাইল ভিনাগ্রাদভ।তিনি বলছেন, ‘এই আক্রমন হয়েছে পুরটাই নিজের ইচ্ছায়।এর জন্য দির্ঘদিন ধরেই সে প্রস্তুতি নিয়েছে।নিজের শক্তি ও সংক্লপ রাষ্ট্রকে দেখাতে চেয়েছে।তাকে যে এই হামলায় অন্য কেউ উত্সাহিত করেছে তার সম্ভাবনা খুবই কম’ ।

অন্যদিকে ব্রেইভিকের কট্রোর জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির  পরিচিয় পাওয়া যায় ইউটিউভ থেকে।যেখানে তার এ্যাকাউন্ট থেকে ১২ মিনিটির একটি ভিডিও ক্লিপ আপলোড করেন।ঐ ক্লিপে ইউরোপে অভিবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে আনার আহবান জানানো হয়।এ বিষয়ে মন্তব্য জানিয়েছেন উত্তর ইউরোপ ও ব্লাটিক দেশসমূহ বিষয়ক গবেষনা সেন্টারের পরিচালক লেভ বারোনকভ।তিনি বলছেন, ‘বিদেশীদের সংখ্যা অধিক হারে বেড়ে যাওয়া যা স্বভাবত চাকুরির বাজারে সমস্যা সৃষ্টি করেছে।ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহের চুক্তি অনুযায়ি এসব দেশের নাগরিকরা ইচ্ছে করলেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে জীবিকা অর্জনের জন্য সহজেই যেতে পারেন।অন্যদিকে যে রাষ্ট্র বিদেশীদের কাজের সুযোগ করে দিবে সেই রাষ্ট্রকেই ঐ সব বিদেশীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।ঠিক যেমনটি দেয়া হয় স্থানীয় লোকজনদেরকে।তাছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত নয় এমন সব দেশ থেকে আগত অভিবাসীরা প্রায় বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করেন’ ।

এদিকে ইউটিউভের ভিডিওতে  ব্রেইভিক বলেছেন যে,রাষ্ট্রের নাগরিকের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে মার্কসের পন্থা অবলম্বন করা উচিত।শুক্রবারের পৃথক দুটি হামলাই কিন্তু ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিকে উদ্দেশ্য করে আঘাত হানা হয়েছে।তবে এই বিষয়টিকে লেভ বারোনিকভ অশিক্ষিত ব্যক্তিদের বুদ্ধিমত্তার সাথে তুলনা করেছেন।তিনি বলেছেন, ‘যখন কোন ব্যাক্তি রাজনীতিতে নরওয়ের লেবার পার্টিকে ডানপন্থী  মতবাদ হিসাবে উল্লেখ করেন তাহলে  ঐ ব্যাক্তির কতটুকো জ্ঞানের ভান্ডার রয়েছে স্বভাবতই সে বিষয়ে প্রশ্ন জাগতে পারে’ ।

উল্লেখ করা যাচ্ছে যে,নরওয়ের আইনে  ব্রেইভিককে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত থাকার দায়ে দোষী স্বাভ্যস্ত করা হয়েছে এবং তার সর্বোচ্চ ২১ বছর সাঁজা হতে পারে।