রাশিয়া-আসিয়ানঃ বড়মাপের কর্মকান্ডের পরিপ্রেক্ষিত

এ সপ্তাহে গত কয়েকদিন ধরে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে আসিয়ান অধিবেশনের আওতায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান হয়েছে, যেমনঃ রাশিয়া-আসিয়ানের মন্ত্রীদের বৈঠক, পূর্ব এশিয়ার রাষ্ট্রমন্ত্রীদের শীর্ষ সাক্ষাত্কার. পূর্ব এশিয়ার শীর্ষসাক্ষাতে পরামর্শসভায় এই প্রথম পূর্ণাধিকারী সদস্য হিসাবে অংশ নেয় মস্কো ও ওয়াশিংটন. বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও হয়েছে.

    আসিয়ান ভুক্ত দেশগুলির সাথে বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধিদল বিগত সব সামিটের ফলাফল পর্যালোচনা করেন. আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল অর্থনীতি, শক্তিসম্পদ, প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, আর ভাবীদিনের সম্ভাব্য হুমকি ও চ্যালেঞ্জ. পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ ঘোষণা করেছেন, যে রাশিয়ার দেওয়া প্রস্তাবাবলীর প্রতি আগ্রহ আসিয়ান গোপন করেনি.

    ২০০৫ সালে প্রথম শীর্ষসাক্ষাতের পর থেকে বিগত সময়ের মধ্যে আসিয়ান অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির সাথে রাশিয়ার পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমান ৪০০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০১০ সালে ১২৫০ কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে. এবং সেটা ঘটেছে যখন বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের কারনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আয়তন যথেষ্ট হ্রাস পেয়েছে. সের্গেই লাভরোভের মতে, আসিয়ানের সাথে বাণিজ্য সম্প্রসারনের পরিপ্রেক্ষিত সুদূরপরিহিত.

    আসিয়ানের সাথে সহযোগিতার গুরুত্বপুর্ণ দিক হল – এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চলমান প্রক্রিয়াবলীতে রাশিয়াকে যুক্ত করা. মস্কো APEC এর অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে কাজ করে, ২০১২ সালে এর আয়োজক হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ঐ বছরেরই সেপ্টেম্বরে ভ্লাদিভস্তোকে এই সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবে. আর ২০১০ সালে রাশিয়া আমেরিকার সঙ্গে একসাথে পুর্ব এশিয় শীর্ষবৈঠকের সদস্যপদ লাভ করে. এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৬ টি দেশ এই সংস্থার সদস্য. সদ্যসমাপ্ত মন্ত্রীবর্গের পরামর্শসভায় চলতি বছরের নভেম্বরে সাক্ষাত্কারের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে রাষ্ট্রপতিদ্বয় মেদভেদেভ এবং ওবামা অংশ নেবেন.

     রাশিয়া আর আসিয়ানের মধ্যে সক্রিয় সহযোগিতার সূচনা হয় ১৯৯৬ সালে. বিশেষজ্ঞদের অভিমত হল - বর্তমানে স্বয়ং আসিয়ান আরও সংহত হওয়ার এবং রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক আরও মজবুত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ততখানি অর্থনৈতিক গুরুত্ব নেই, যতখানি রাজনৈতিক. আসিয়ান অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির মুলতঃ চীনের সাথে আদর্শ সম্পর্ক গড়ে তোলবাপ জন্য রাশিয়ার সহায়তা একান্তভাবে প্রয়োজন, বলছেন মস্কো ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশিপ ইনস্টিটিউটের আসিয়ান সেন্টারের অধ্যক্ষ ভিক্তর সুমস্কিঃ

    ওরা শংকিত এই কারনে, যে ওদের এলাকায় চীন ও আমেরিকার মধ্যে প্রতিদ্বন্দীতা ক্রমশঃ বাড়ছে. তাই রাশিয়াকে ওরা আমন্ত্রণ জানাতে চায় শক্তির ভারসাম্য রক্ষার জন্য নয়, আর সেজন্যেই যে রাশিয়া একাধিকবার প্রমাণ করেছে, যে সে এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার পক্ষে.

    বহুলাংশে রাশিয়ার বদান্যতায় বালি দ্বীপে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে নিরাপত্তা বিষয়ক প্রশ্নে রীতিমতো অগ্রগতি অর্জ্জন করা গেছে. ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আসিয়ানের ব৪তমান সভাপতি সেকথাই বলেছেন. তার মতে পারমানবিক শক্তিধারী দেশগুলির সাথে বৈঠকের সময় এশিয়ার দেশগুলি এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে বাস্তবে পারমানবিক শক্তিমুক্ত এলাকায় পরিণত করার ব্যাপারে পারস্পরিক বোঝাপড়া অর্জ্জন করা সম্ভব হয়েছে. এই প্রক্রিয়ার অন্যতম উপাদান হল – কোনোরকম পুর্বসর্ত ছাড়াই সিওল ও পিয়ং-ইয়ং এর আলোচনায় বসার সম্মতিদান. আর সব শুরু হয় রাশিয়া-আসিয়ান মন্ত্রী বৈঠকের জমিতে লাভরোভের উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাক ঈ চুনের সাক্ষাত্কার দিয়ে.