রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ নরওয়ের রাজা ও দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কাছে শোকবার্তা পাঁঠিয়েছেন।নরওয়ের রাজধানী অসলোতে শুক্রবার দুইটি পৃথক বোমা হামলার ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে মেদভেদেভ বলেন, ‘ আমরা দৃঢ়ভাবে এই জঘন্য অপরাধের কারণ খুঁজে বের করব।এ ঘটনার কোন ব্যাখ্যা হতে পারে না.অবশ্যই এর সাথে জড়িতদের সবাইকে সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি দেওয়া উচিত’ ।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটনের হামলার সাথে অসলোর দুইটি হামলার যথেষ্ট মিল রয়েছে।

রাজধানী অসলোর প্রানকেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ কয়েকটি সরকারি ভবনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ৭ জনের সবাই হচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা।এদিকে রাজধানী থেকে অদূরে উটোইয়া দ্বীপে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির যুব সম্মেলনে পুলিশবেশী এক  বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ৮০ জন নিহত  এবং আরও বহু  মানুষ আহত হয়েছে।আহতদের অনেকেরই অবস্থা আশঙ্খাজনক।পুলিশ হামলাকারীকে গ্রেফতার করেছে।তার নাম আন্দ্রেস ব্রেইবিক।তিনি নরওয়ের নাগরিক।

অসলোতে বোমা হামলার পরই বিশ্বের গনমাধ্যমগুলোতে‘উইকিলিকস’ ওয়েবসাইটের উদ্দৃতি দেওয়া হয়েছে।ঐ তথ্য থেকে জানা যায় যে,যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিরা ও গোয়েন্দা বিভাগ নরওয়ের সরকারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পরামর্শ দিয়েছিলেন।তবে অসলো এক্ষেত্রে বিশেষ কোন ব্যবস্থা গ্রহন করে নি।

অসলোতে পৃথক দুইটি বোমা বিস্ফোরণ যা আমাদেরকে লিবিয়ার নেতা মুহাম্মর গাদ্দাফির হুঁশিয়ারি বানীকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।গাদ্দাফি কয়েক দিন পূর্বেও ন্যাটো মিত্র জোটের যে কোন দেশের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছিলেন।

অসলোতে বোমা হামলার বিভিন্ন কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পর্যবেক্ষকরা যে বিষয়বলীর প্রতি বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন তা হচ্ছে-আফগানিস্থানে ন্যাটোভুক্ত যে দেশসমূহ সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে তাদের মধ্যে নরওয়ে  অন্যতম।তাছাড়া কখনই ১ বারের জন্য হলেও নরওয়েতে কোন জঙ্গি হামলার হুঁমকি দেওয়া হয় নি।অসলোর বোমা হামলা সম্পর্কে উত্তর ইউরোপীয় সেন্ট্রারের পরিচালক ইউরি দেরইয়াবিন রেডিও ভয়েস অব রাশিয়াকে বলেছেন, ‘বলাবাহুল্য যে,এটি পরিকল্পিত হামলা এবং এর উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে হত্যা করা।তবে,স্পষ্ট যে,ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার পরও আল-কায়দার কর্মসূচি বেঁচে আছে।তবে কেন নরওয়ে?।কারণ হচ্ছে,ন্যাটো জোটভুক্ত এদেশটি আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া দেশসমূহের একটি।অন্যদিকে রাজধানী থেকে অদূরে   উটোইয়া দ্বীপে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির যুব সম্মেলনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাটির কারণ এখনও অজানা।আটককারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।আটক ব্যক্তির সাথে কি আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়দার যোগসূত্র রয়েছে?।বিষয়টি আপাতত একেবারে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।শুধামাত্র ইসলামিক আন্দোলনকারীই যে হতে হবে ঠিক তেমনটি নয়।আটককারী ঐ ব্যক্তি নরওয়েরই নাগরিক।বর্তমানে তদন্তের কাজ এগিয়ে চলছে।তবে,সব দিক থেকেই এটি অপ্রত্যাশিত একটি ঘটনা।আর এই বোমা হামলা ইউরোপ তথা বিশ্বের এমন একটি স্থানে ঘটেছে যেখানে সর্বদাই শান্তশিষ্ট পরিবেশ থাকে।তাই নরওয়ের মত এমন একটি দেশে এই বোমা হামলা যা সত্যিকার অর্থেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য আবারও একটি হুঁশিয়ারি সংকেত।