বিশ্ব জোড়া আবহাওয়ার পরিবর্তনের সমস্যা আন্তর্জাতিক সমাজের নিয়মিত মনোযোগের মধ্যেই থাকা দরকার, কিন্তু রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্য বিষয়ের তালিকায় রাখার দরকার নেই. রাশিয়ার এটা নীতিগত অবস্থান, যা রাষ্ট্রসংঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধির সহকারী আলেকজান্ডার পানকিন ঘোষণা করেছেন. তিনি রাষ্ট্রসংঘের মূল দপ্তরে পরিবেশ সংক্রান্ত প্রকাশ্য বিতর্কে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এই কথা বলেছেন.

    রাশিয়ার কূটনীতিবিদ আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে সমস্যাকে রাজনৈতিক রং চড়াতে বারণ করেছেন. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নিরাপত্তা পরিষদকে এই সমস্যার বিষয়ে যোগ করাতে কোন রকমের বাড়তি মূল্য বাড়বে না, তার বদলে শুধু দেশ গুলির মধ্যে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি করা হবে. রাশিয়া, আলেকজান্ডার পানকিনের কথামতো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই কে প্রাথমিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে থাকে. বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের ঐতিহ্য অনুযায়ী এই ধরনের প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা সম্পূর্ণ ভাবেই উদ্ভূত বিপদের মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়া করতে. এখানে প্রাথমিক ভূমিকা রয়েছে সেই ১৯৯২ সালে নেওয়া রাষ্ট্রসংঘের আবহাওয়া পরিবর্তন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কাঠামো ও পরে গৃহীত কিওটো প্রোটোকল. রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্ত – এটা কূটনীতিবিদের মতে, আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সমস্যা সমাধানে সুদূর প্রসারী নির্দিষ্ট কর্মসূচী নেওয়ার জন্য ও নতুন উদ্ভূত বিপদের বিরুদ্ধে কাজের জন্যেও যথেষ্ট. আলেকজান্ডার পানকিনের সঙ্গে একমত হয়ে বিশ্ব বন্য প্রাণী সংরক্ষণ তহবিলের আবহাওয়া ও শক্তি প্রকল্পের প্রধান আলেক্সেই ককোরিন বলেছেন

    এই প্রশ্নকে রাজনৈতিক করে তোলার সত্যই কোন প্রয়োজন নেই. কারণ আবহাওয়ার পরিবর্তনের ক্ষেত্র ও আবহাওয়া বিজ্ঞান – এটা অবশ্যই বিজ্ঞান. আর বলা উচিত হবে না যে, কেউ আবহাওয়া পরিবর্তনের বিষয়ে বিশ্বাস বা অবিশ্বাস করছে কি না. আর বৈজ্ঞানিক সত্যের উপরে ভিত্তি করে পরিবর্তন ও বিপদকে বুঝতে হবে. যদি বৈজ্ঞানিক তথ্যকে কোন না কোন দিকে স্বার্থের কারণে পাল্টানো হয়, হয় খুব বাড়ানো বা খুব কমানো, তাহলে আমরা  ভাল কিছু দেখতে পাবো না. আমাদের হয় সব নষ্ট হবে অথবা পাবো ক্লাইমেট গেটের মতো স্ক্যাণ্ডাল. উন্নতি তাতে হবে না.

    সহযোগিতা তখনই সম্ভাব্য হয়ে থাকে, যখন সমস্ত পক্ষ আবেগ বিবর্জিত ভাবে সমঝোতায় আসে, এই কথা বিশ্বাস করেন বিশেষজ্ঞ. তাঁর মতে, আবহাওয়া আমেরিকা বিরোধী, রুশ বিরোধী বা চিন বিরোধী আলাদা করে হতে পারে না. তার সামান্য উন্নতির প্রমাণ হিসাবে আলেক্সেই ককোরিন রাষ্ট্রসংঘের কয়েকদিন আগের মেক্সিকোর কানকুন শহরের সম্মেলনকে উল্লেখ করেছেন, যেখানে রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্তের কাঠামোর মধ্যেই সম্মিলিত ভাবে কাজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে. এখানে কথা হয়েছে এক সবুজ আবহাওয়া তহবিলের সৃষ্টি করার, যা সবচেয়ে দুর্বল ও বিপদের সম্মুখীণ দেশ গুলিকে প্রযুক্তি দেবে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কুফল থেকে রক্ষা পেতে. এই অধিবেশনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা একমত হয়েছিলেন যে, প্রাথমিক কাজ হল – তাপমাত্রার বৃদ্ধিকে বিশ্বে অন্ততঃ পক্ষে সেলসিয়াস পরিমাপে দেড় ডিগ্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার. এই আলোচনা আবার করার কথা রয়েছে এই বছরের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরে.

    সেই ১৯৯৭ সালে গৃহীত কিওটো প্রোটোকল অনেক বিতর্কেরই শুরু করেছে. বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেছেন যে, তাতে লাভ হয়েছে কমই, কিন্তু একই সময়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এটা গ্রীন হাউস এফেক্ট সৃষ্টিকারী কার্বন- ডাই অক্সাইড গ্যাসের কোটা  ভাগ করে দেওয়ার জন্য প্রথম সভ্য প্রচেষ্টা. আজ তা পুরানো হয়ে দিয়েছে, কারণ উন্নতিশীল দেশ গুলির থেকে পরিবেশে এই ক্ষতিকর গ্যাসের বর্জনকে সেখানে হিসাবের মধ্যে ধরা হয় নি. নতুন এক দলিল তৈরী করা হচ্ছে. কিন্তু আবারও – এটা রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় নয়. তার ওপরে মস্কোতে যেমন মনে করা হয়েছে, আবহাওয়া পরিবর্তনকে বিশ্বের নিরাপত্তা ও শান্তি রক্ষার সঙ্গে যোগ করার দরকার নেই, রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে যা করার চেষ্টা হয়েছিল.