রাশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলির সংস্থা আসিয়ানের আলোচনা সক্রিয় ভাবেই উন্নতি করছে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার কূটনীতিবিদদের প্রধান সের্গেই লাভরভ রাশিয়া ও আসিয়ান সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে. তা স্বত্ত্বেও বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ভাবে সহযোগিতার সম্ভাবনাকে একেবারেই যথেষ্ট রকমের ব্যবহার করা সম্ভব হয়ে ওঠে নি.

    আসিয়ান সংস্থায় রাশিয়ার মতোই ধীরে ঘোড়াতে লাগাম পরানোর কাজ করা হয়ে থাকে, অথচ চলার সময়ে চলা হয় দ্রুত গতিতে, এই কথা গত বারে লক্ষ্য করেছিলেন মন্ত্রী, তিনি মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন আসিয়ান গবেষণা কেন্দ্র উদঘাটন করতে. এটা ছিল গত ১৫ বছরের ক্রমাগত চলে আসা আলোচনার একটি ফল মাত্র. এবারের রাশিয়া ও আসিয়ান সংস্থার দশ সদস্য দেশের আলোচনাও এই বিতর্কেই রয়ে গিয়েছে যে, কি করে "সম্পূর্ণ ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সহযোগিতার বৃদ্ধি করা আরও বেশী সম্ভব হতে পারে". মস্কো যেমন প্রস্তাব করেছে পরিবহন, মহাকাশ গবেষণা, ন্যানো ও জৈব প্রযুক্তি বিষয়ে, খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে, শিক্ষা, জ্বালানী শক্তি, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস ও নিরসনে ও অন্যান্য বিষয়, যা এশিয়ার দেশ গুলির জন্যে বেশী ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তা নিয়ে সহযোগিতা করতে. তাছাড়া, মস্কো চায় বিশাল সাইবেরিয়া ও সুদূর প্রাচ্যের এলাকা গুলি উন্নয়ন করতে, যেখানে খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার অপরিসীম. আর এখানে বিদেশী লগ্নির প্রয়োজন খুবই বেশী. কিন্তু নির্দিষ্ট ফল এখনও পাওয়া যায় নি.

    বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের হোঁচট খাওয়া অগ্রগতিকে মনে করেছেন সেই কারণে, যে আসিয়ান সংস্থার দেশ গুলিতে, অর্থাত্ ব্রুনেই, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মায়ানমার, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন দেশের এখন "স্বকীয় পরিচয় খোঁজার বিষয়ে এক সঙ্কট কালের উপস্থিতি" হয়েছে. বেশ কিছু বিশ্লেষক মনে করেছেন যে, এই সংস্থা – যে কোন ধরনের রাজনৈতিক প্রশ্নে আলোচনার জন্য একটা স্থিতিশীল মঞ্চ. অন্যরা প্রমাণ করছেন যে, এমনকি আঞ্চলিক ভাবে নিরাপত্তা নিয়ে সম্মেলনও কোন রকমের ফল দেয় না. যেমন – গত কালের উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা নিয়ে ছয় পক্ষের আলোচনা আবার শুরু করার জন্য আহ্বান. এই আহ্বান বাস্তবে সিওল উপেক্ষাই করেছে, তারা মনে করেছে যে, আগে পিয়ংইয়ং কে তাদের পারমানবিক পরিকল্পনা বন্ধ করতে হবে.

    তা স্বত্ত্বেও রাশিয়ার প্রস্তাবে নিজেদের আগ্রহ আসিয়ান সংস্থা গোপন করে নি, এই কথা বৈঠকের শেষে বলেছেন সের্গেই লাভরভ:

    "আসিয়ান সংস্থার দেশ গুলির গভীর ভাবে সহযোগিতার ইচ্ছা শুধু খনিজ তেল ও গ্যাসের বিষয়েই নয়, শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি বিকাশের ক্ষেত্রেও রয়েছে; পরিবহন ও নিযন্ত্রণ বিষয়ে প্রকল্প গুলি নিয়ে, যা এই বছরের ইরকুতস্ক ও খাবারভস্ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আলোচনা করা হবে. সুতরাং পরিকল্পনা আমাদের দেশ গুলির যথেষ্ট গুরুত্ব সহ ও আগ্রহও অনেকটাই".

    রাশিয়া আসিয়ান সংস্থার দেশ গুলির থেকে শতকরা ৪ ভাগের বেশী জিনিস আমদানী রপ্তানী করে না – এটা বছরে এক হাজার কোটি ডলারের সামান্য বেশী. এই দেশ গুলির সম্মিলিত জাতীয় উত্পাদন প্রায় ১৫ লক্ষ কোটি ডলার, আর জনসংখ্যা পঞ্চাশ কোটির সামান্য বেশী. চিনের সঙ্গে আসিয়ান সংস্থার দেশ গুলির কারবার ৪৫ লক্ষ কোটি ডলারের মতো. ফলে উন্নতির কথা বলতে গিয়ে রাশিয়ার কূটনীতিবিদেরা রাশিয়ার ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অল্প বয়সী সঙ্গীত শিল্পীদের প্রাথমিক সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার এই সংস্থা ও রাশিয়ার সম্পর্কের জয়ন্তী বর্ষের অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ নিয়েই কথা বলতে পছন্দ করেছেন.

    এই সংস্থার নড়তে চড়তে বারোমাস ও শ্লথ গতির কথা তাদের নেতৃত্বই স্বীকার করেছেন. আসিয়ান সংস্থার সাধারন সম্পাদক সুরিন ফিতসুভান ইন্দোনেশিয়ার সম্মেলনের আগে উল্লেখ করেছিলেন যে, আসিয়ান সংস্থার সদস্য দেশ গুলির এই অঞ্চলে ২০১৫ সালের আগে ইউরোপীয় সংঘের মতোই ঐক্যবদ্ধ অর্থনৈতিক এলাকা তৈরী করার প্রয়োজন রয়েছে. "এশিয়ার শেনজেন" তৈরী করার পরিকল্পনা খাতায় কলমেই হয়তো থেকে যাবে, কারণ এই সব দেশের ভিসা সংক্রান্ত আইনের ক্ষেত্রে অনতিক্রম্য ব্যবধানের জন্য.

    তা স্বত্ত্বেও মস্কোতে আসিয়ান সংস্থার সাথে একসাথে দ্রুত চলার আশা একেবারে ত্যাগ করা হয় নি, আর প্রত্যেক বছরে আলোচনার তহবিলে বাত্সরিক চাঁদা দেড় মিলিয়ন ডলার করা হয়েছে. তার উপরে রাশিয়া আহ্বান করেছে আসিয়ান সংস্থাকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কার্যকরী সভাতে অংশগ্রহণ করার জন্য, সেপ্টেম্বর মাসে ইরকুতস্ক শহরে বৈকাল অর্থনৈতিক সম্মেলনে. আরও একটি মস্কোর উদ্যোগ – "জি ২০" দেশ গুলির অর্থনৈতিক বৈঠকে আসিয়ান সংস্থার সভাপতির অংশগ্রহণের প্রস্তাব.