আফগানিস্তানে জোটের সেনাদলের নেতৃত্বের দায়িত্ব এই সপ্তাহের শুরুতে নিয়েছেন আমেরিকার জেনেরাল জন অ্যালেন. তিনি এই পদে নিজের দেশের নাগরিক ডেভিড পেত্রেউসের জায়গা নিয়েছেন. একই সঙ্গে এই দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে নিরাপত্তার দায়ভার তুলে দেওয়া হচ্ছে আফগানিস্তানের সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর হাতে. পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন আপাততঃ এই দেশের স্থানীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর একক ভাবে নিয়ম শৃঙ্খলা বজায় রাখার মতো ক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে বলা তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে.

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষা শক্তি আফগানিস্তান থেকে ২০১৪ সালে চলে যাওয়ার জন্য তৈরী হয়েছে. এই সময়ের মধ্যে আমেরিকার রাজনীতিবিদ নিকোলাই জ্লোবিন এর মতে চলে যাওয়াটা সেই দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির স্বার্থেই করা হচ্ছে, তাই তিনি বলেছেন:

"কোন একটা সঠিক ভাবে তৈরী করা ও সর্ব সম্মতি ক্রমে সমর্থিত পরিকল্পনা নেই. কিন্তু পরিস্কার ধারণা রয়েছে যে, বর্তমানের আমেরিকার স্ট্র্যাটেজি ফলপ্রসূ নয়. আর ২০১৪ সালে ওবামা ঘোষিত সৈন্য প্রত্যাহার, তারা অবশ্যই একই রকম ভাবে গ্রহণ করতে পারেন নি, কারণ সকলেই বুঝতে পারছেন যে, এটা দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্য নিয়েই করা হচ্ছে, যত না আফগানিস্তানের পরিস্থিতির বিচার করে দেখে".

পরিকল্পনা অনুযায়ী ন্যাটো থেকে সেনা প্রত্যাহারের পরে প্রধান ভূমিকা দেশের নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নেবে আফগানিস্তানের পুলিশ বাহিনী. কিন্তু অনেকেই মনে করেন যে, সেই বাহিনী দুর্নীতি পরায়ণ ও স্থানীয় জনসাধারনের মধ্যে তাদের মর্যাদা খুবই খারাপ. বিখ্যাত সামরিক কম্যাণ্ডার আখমাদ- শাহ মাসুদের জন্মভূমি পাঞ্জশের রাজ্যে খুবই উত্সাহের সঙ্গে স্থানীয় পুলিশের হাতে নিরাপত্তা রক্ষার দায়ভার তোলার অপেক্ষা করা হয়েছিল. স্থানীয় লোকেরা এখানের পুলিশ বাহিনীকে সমর্থন করে ও বলে যে, তারা খুবই সঠিক ভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে থাকে: রাস্তায় টহল দেয়, গাড়ী ঘোড়া পরীক্ষা করে দেখে. এটা বোধহয় একমাত্র রাজ্য যেখানে তালিবেরা প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি, এই কথা উল্লেখ করে পাঞ্জশের রাজ্যের পুলিশের প্রধান মোহাম্মেদ কাশেম বলেছেন:

"আমাদের সমস্যা হল – অশান্ত রাজ্য গুলির সঙ্গে আমাদের রাজ্যের সম্মিলিত সীমান্ত এলাকা. আমরা চাই, যাতে স্বরাষ্ট্র দপ্তর পুলিশের সংখ্যা বাড়ায়, আর তাহলে আমরা সীমান্ত বন্ধ করে ভবিষ্যতে ক্ষয় ক্ষতি এড়াতে পারবো ও আফগানিস্তানের শত্রুদের হাত থেকে সীমান্ত পার হওয়া বন্ধ করতে পারবো".

প্রথম রাজ্য যেটিকে আফগানিস্তানের স্থানীয় পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, সেটি হল বামিয়ান. আর এখানে নিজেদের প্রভাব তালিবেরা বেশী করতে পারে নি. সপ্তাহের মাঝামাঝি লস্করগাহ শহরে নিরাপত্তার দায়ভার তুলে দেওয়া হয়েছে গেলমেন্দ রাজ্যের. এটা তালিবদের একটা ঘাঁটি ও আফিম চাষের ও মাদক উত্পাদনের একটা কেন্দ্রীয় এলাকা. আফগানিস্তান থেকে বিদেশী সৈন্যদের ফিরে আসার পরে তালিবদের প্রভাব রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ গুলি ও তার ফলে রাশিয়ার উপরেও বিপদ তৈরী করতে পারে, এই কথা বলেছেন রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার খ্রামচিখিন:

"যদি তালিবেরা আফগানিস্তান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে, তবে তা দ্রুত উত্তরের দিকে প্রসারিত হবে, অর্থাত্ মধ্য এশিয়াতে. আফগানিস্তানের ভিতরে তালিম পেয়ে প্রজাতি গত ভাবে উজবেক ও তাজিক লোকেরা নানা ধরনের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ শুরু করবে. রাশিয়ার স্বার্থ হল এখন সেখানে পশ্চিমের সেনা বাহিনী যতদিন বেশী হয় থাকতে পারায়. কারণ, যেই তারা চলে যাবে, শেষ অবধি আমাদেরই লড়াই করতে হবে, শুধু তা বোধহয় আফগানিস্তানে নয়, মধ্য এশিয়াতে".

জোটের সেনাদলের হ্রাস আফগানিস্তানে সম্ভাব্য মাদক পাচার বৃদ্ধির সঙ্গেও জড়িত. তাই মস্কো একেবারে আন্তরিক ভাবেই এই দেশে স্থিতিশীলতা হোক সেই বিষয়ে আগ্রহী ও এর জন্য কম শক্তি খরচ করছে না. রাশিয়া আফগানিস্তানের বিশেষজ্ঞদের মাদকের সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, আফগানিস্তানের জাতীয় সেনাদলের জন্য প্রযুক্তিগত সাহায্য করছে ও নিরাপত্তা বাহিনীকেও সহায়তা করছে. মস্কো এই দেশের সোভিয়েত দেশের প্রতি এক বিশাল ঋণ মকুব করে দিয়েছে ও বেশ কিছু পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্পে অংশ নিয়েছে – যেমন, সেখানে স্কুল তৈরী করা হচ্ছে ও সারা দেশ জুড়ে বিদ্যুত পরিবহন ব্যবস্থা তৈরী করে দেওয়া হচ্ছে. শুধু আশা করাই বাকী আছে যে, আন্তর্জাতিক সমাজের সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে ভাল ফল পাওয়া যাবে ও আফগানিস্তান বহু দশকের গৃহযুদ্ধের পরে শান্তিপূর্ণ ও বিকাশ শীল দেশে পরিনত হবে.