একই সঙ্গে দুটি সুদূর প্রসারিত মহাকাশ প্রকল্পের কাজ করছে রাশিয়া. এটা – পরবর্তী প্রজন্মের "সইউজ" মহাকাশ যান ও একেবারেই নতুন মহাকাশ ব্যবস্থা রকেট পরিবহনকারী যান "রুশ– এম". এর জন্য উড়ান ক্ষেত্র তৈরী হচ্ছে সুদূর প্রাচ্যে. সেখান থেকেই ভবিষ্যতে চাঁদে পাইলট সমেত মহাকাশ যান পাঠানো হবে.

    নূতন শিল্প – পরিবহন মহাকাশ ব্যবস্থা তৈরীর সিদ্ধান্ত ২০০৬ সালেই নেওয়া হয়েছিল. আর ২০ বছর পরে রাশিয়া শুধু পৃথিবীর কাছের কক্ষ পথেই মহাকাশ যান পাঠাতে পারবে না, চাঁদে এমনকি মঙ্গলেও পারবে. এখন রাশিয়ার রকেট নির্মাতারা শুধু বহুমুখী নতুন প্রজন্মের ২০ টনেরও বেশী মাল বহনে সক্ষম ভারী মহাকাশ যানই বানাচ্ছে না, বরং হাল্কা যানও বানাচ্ছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পাঠানোর জন্য, এই কথা জানিয়ে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থার সহকারী প্রধান আলেকজান্ডার লপাতিন বলেছেন:

    "বর্তমানে "সইউজ – ২" ধরনের রকেট পরিবহন কারী যান উড়ান পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাদের ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে. এই রকেট গুলিতে শুধু রাশিয়ার যন্ত্র ও ব্যবস্থাই ব্যবহার করা হচ্ছে, আর তার সঙ্গে আরও শক্তিশালী ইঞ্জিন ও ডিজিট্যাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যোগ করা হয়েছে. হাল্কা "সইউজ – ২" উড়ান পরীক্ষার জন্যও তৈরী করা হচ্ছে".

    ভারী যানের সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তার জন্য নতুন রকেট নির্মাণ করা হবে. রাশিয়ার কাছে বিরাট ওজন নিয়ে ওড়ার মতো জেনিথ রকেট আছে. এই গুলিই রুশ – এম রকেটের জন্য ব্যবহার করা হবে, এই কথা জানিয়ে মহাকাশ বিজ্ঞানের সংবাদ জার্নালের পর্যবেক্ষক ইগর লিসভ বলেছেন:

    "নতুন রকেট দরকার, যেহেতু ধরে নেওয়া হচ্ছে যে, নতুন যান "সইউজের" চেয়ে অনেক বেশী ভারী হবে, সুতরাং তা আরও বেশী লোক ও মাল নিয়ে যেতে পারবে, আরও আরামেরও হবে. নতুন উড়ান ক্ষেত্রও দরকার, সেই কারণেই "ভস্তোচনি" মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র তৈরী করা হচ্ছে. ১২ থেকে ১৫ টন উড়ান পূর্ব ওজনের মহাকাশ যান তৈরী করা সমস্যা নয়. আর এর জন্য রকেটও তৈরী করা যেতে পারে. তার ওপরে, আসলে "জেনিথ" রকেট থেকে মূল ধারণা নিয়ে তাকে আরও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরী করতে হবে".

    "ভস্তোচনি" মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র আমুর অঞ্চলে নির্মাণ করা শুরু হবে এই বছরের গরম কালে. সেটা মহাকাশ উড়ান ক্ষেত্র "স্ভাবোদনি" (স্বাধীন) থেকে বেশী দূরে নয়, এই ক্ষেত্র ২০০৭ সালে ব্যবহার করা বন্ধ করা হয়েছে. এই জায়গা শুধুশুধুই বাছা হয় নি. নতুন উড়ান ক্ষেত্র "বৈকানুর" এর মতো একই অক্ষ রেখায় রয়েছে, তার ফলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে উড়ান করা যাবে রাশিয়া থেকেই, কাজাখস্থান থেকে যাওয়ার দরকার নেই, আর রাশিয়ার "প্লিসেত্স্ক" মহাকাশ উড়ান কেন্দ্র থেকে এই উড়ান করা সম্ভব নয়. এই ভাবেই রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের জন্য সমস্ত রকমের মহাকাশ কক্ষ পথেই ওড়ার ব্যবস্থা তৈরী হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থার সহকারী প্রধান.সম্ভবতঃ সুদূর প্রাচ্যের মহাকাশ উড়ান ক্ষেত্র থেকে শুধু "রুশ- এম" ই ছাড়া হবে না, বরং "আঙ্গারা" ছাড়াও যেতে পারে. এখানে কম কথা নয় যে, এই নির্মাণ কাজ সমগ্র সুদূর প্রাচ্য অঞ্চলেই উন্নতির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে: সেখানে বেশ কয়েকটি নতুন শিল্প কেন্দ্র তৈরী হবে রকেট নির্মাণ সংক্রান্ত. অক্সিজেন – নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন যৌগ তৈরীর. এই ধরনের প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা নিয়ে রাশিয়া চাঁদে মহাকাশ স্টেশন তৈরী করতে পারে ও আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র থেকে বিরত হতে পারে বলে মনে করে ইগর লিসভ বলেছেন

    "আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থাকবে ২০২০ সাল অবধি. তার পরে সেটাকে ডুবিয়ে দিতেই হবে, কারণ সেটা মানসিক ও শারীরিক ভাবেই (মানুষের ক্ষেত্রে যেমন হয়ে থাকে) বৃদ্ধ হয়ে যাবে. তারপরে কি হবে? হয় মাটি থেকে ৪০০ কিলোমিটার উঁচুতে আরও ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে ঘোরার মতো স্টেশন বানাতে হবে, অথবা কোন আন্তর্গ্রহ অভিযানে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে, অন্ততঃ চাঁদ অবধি যেতে হবে. চাঁদের স্টেশন – এটা কম করে হলে মহাকাশ বিজ্ঞানের উন্নতির কারণ হবে, তার থেমে থাকা হয়ে দাঁড়াবে না".

    নতুন মহাকাশ যানের প্রকল্প, যা বিখ্যাত "সইউজ" মহাকাশ যানের জায়গা নিতে চলেছে, তা গত বছরে স্বীকৃতী পেয়েছে. প্রথম পাইলট বিহীণ পরীক্ষা স্থির হয়েছে করা হবে – ২০১৮ সালে. আর মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে পাইলট নিয়ন্ত্রিত মহাকাশ যানের মডেল "রুশ- এম" রকেটের মডেল সমেত "মাক্স – ২০১১" বিমান মহাকাশ প্রদর্শনীতে উপস্থাপনা করা হতে চলেছে.