রাশিয়া ও আসিয়ান সংস্থার অন্তর্ভুক্ত দেশ গুলির নিবারণ মূলক কূটনীতি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা উচিত্, একে অপরকে সীমান্ত পার হওয়া অপরাধ, সাইবার অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সহায়তা করা উচিত্. শুক্রবারে এই সমস্ত প্রস্তাব নিয়ে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ.

    রাশিয়া ও আসিয়ান দেশ গুলির মধ্যে কূটনৈতিক সহযোগিতা ১১৯৬ সালেই বিন্যাস করা হয়েছিল. ১৫ বছরে তথাকথিত আলোচনা সহকর্মী হয়ে দেশ গুলি অনেক দূর এগিয়েছে, তৈরী হয়েছে চুক্তি করার উপযুক্ত ভিত্তি ও কার্যকরী ব্যবস্থা গুলি নিয়ে ফলপ্রসূ কাঠামো. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতিরা ২০০৫ ও ২০১০ সালে পূর্ব এশিয়ার শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন. পরবর্তী সম্মেলনে রাশিয়া থাকবে সম্পূর্ণ সদস্য দেশ হিসাবেই. প্রসঙ্গতঃ আসিয়ান রাশিয়ার জন্য শুধু ধারণা বিনিময়ের জায়গাই নয়, এই কথা ইন্দোনেশিয়া থেকে রেডিও রাশিয়ার বিশেষ সংবাদদাতা এলিজাভেতা ইসাকোভা জানিয়েছেন, তিনি এই সম্মেলনের কাজ কর্ম পর্যবেক্ষণ করেছেন, তিনি বলেছেন:

    "আসিয়ান সংস্থার সদস্য দেশ গুলিতে থাকেন প্রায় পঞ্চাশ কোটি মানুষ. এই দেশ গুলির সম্মিলিত জাতীয় উত্পাদন ৭৩ হাজার কোটি ডলারেরও বেশী. এটা এক বিরাট সম্ভাব্য বাজার, যেখানে পারস্পরিক কাজের ব্যবস্থা হয়ে রয়েছে. রাশিয়ার সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে কাজের তালিকায় বহু সংখ্যক বিষয়ই রয়েছে. যেমন, নূতন বিপদ ও আহ্বানের মোকাবিলা, যার মধ্যে সাইবার অপরাধও রয়েছে. মস্কো এর আগেও একাধিক বার রাষ্ট্রসংঘের আওতায় সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে নূতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে. রাশিয়ার কূটনীতিবিদেরা মনে করেন যে, এই দলিলে বর্তমানে সন্ত্রাসবাদকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত্. বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নেটওয়ার্ক জনপ্রিয় হওয়াতে গত ১০ বছরে ইন্টারনেটে সম্ভাব্য থেকে তা এখন সম্পূর্ণ বাস্তব বিপদে পরিনত হয়েছে. কিন্তু আপাততঃ রাশিয়ার ধারণা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বোঝার চেষ্টা করা হচ্ছে না. রাশিয়া এখনই চেষ্টা করছে ইউরোপে নিজেদের সহকর্মীদের সঙ্গে এই প্রশ্নে আলোচনা করতে. কিন্তু যদিও প্রাচীন দুনিয়াতে রাশিয়ার উদ্যোগের প্রতি সম্পর্ক অনেকটাই বক্র, এশিয়াতে খুব পরিস্কার করেই বুঝতে পেরেছে যে, এই সমস্ত দিকে বাস্তবে পারস্পরিক ভাবে কাজ না করলে আমাদের সম্মিলিত ভবিষ্যতের ভাগ্য খুবই কুয়াশাচ্ছাদিত".

    বিশেষজ্ঞরা বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে এই সংগঠনের রাশিয়া সঙ্গে সম্পর্ক ও নিজেদের মধ্যে জোট বাঁধা শুধু অর্থনৈতিক কারণেই হচ্ছে না, বেশী হচ্ছে রাজনৈতিক কারণেই. প্রধান ভাবে আসিয়ান সংস্থার দেশ গুলির প্রয়োজন রাশিয়ার সাহায্য চিনের সঙ্গে সম্পর্ককে এক উপযুক্ত কাঠামো দেওয়ার জন্য, এই কথা উল্লেখ করে মস্কোর রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আসিয়ান কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভিক্তর সুমস্কি বলেছেন:

    "তাঁরা এই কারণে উদ্বিগ্ন যে, তাঁদের এলাকায়, তাঁদের বিশ্বের অঞ্চল চিন – আমেরিকার প্রতিযোগিতার এলাকাতে পরিনত হচ্ছে. আর যদি আমাদের কোন এক রকমের ভারসাম্য রাখার উপযুক্ত পক্ষ বলেও আহ্বান করা হয়ে থাকে, তবে তা কোন ভাবেই চিনের বিরুদ্ধে নির্ভর করার জন্য নয়. আমাদের সেই রকমের শক্তি বলেই আহ্বান করা হচ্ছে, যারা একাধিকবার সমর্থন করেছে যে, তারা এই এলাকায় শান্তির পক্ষে, আর এর মনে হল – এই বিরোধী পক্ষের মধ্যে এক ধরনের মধ্যস্থ করার উপযুক্ত এলাকা বলে. কারণ সেই সমস্ত শক্তি যারা এই এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে, তাদের উপরেই নির্ভর করছে সমগ্র আঞ্চলিক উন্নয়ন ও বিকাশ".

    এখানে যোগ করবো যে, রাশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলির মধ্যে প্রাথমিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও শিল্প সংক্রান্ত প্রকল্প হচ্ছে পারস্পরিক ভাবে মহাকাশ গবেষণা, ন্যানো ও জৈব প্রযুক্তি বিষয়ে, খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা ও শিক্ষার বিষয়ে. বর্তমানে আসিয়ান সংস্থার অন্তর্গত সদস্য দেশ গুলির সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে সাইবেরিয়া ও সুদূর প্রাচ্যের উন্নতি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে.