জার্মানী সংযুক্ত প্রজাতন্ত্রের চ্যান্সেলার অ্যাঞ্জেলা মেরকেল ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নিকোল্যা সারকোজি গ্রীসকে বাঁচানোর জন্য পরিকল্পনা নিয়ে সহমতে এসেছেন. ব্রাসেলস শহরে বৃহস্পতিবারে ইউরোপীয় সংঘের জরুরী বৈঠকে এই নিয়ে আলোচনা হতে চলেছে. গ্রেট ব্রিটেনের "ফাইনান্সিয়াল টাইমস" পত্রিকার খবর অনুযায়ী আগামী দুই বছরে ইউরোপীয় সংঘ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল গ্রীসকে ৭১ বিলিয়ন ইউরো ঋণ দিতে পারে. আরও প্রায় ৫০ বিলিয়ন ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা সংশোধনের ফলে পাওয়া যেতে পারে বলে পরিকল্পনা রয়েছে.

এই শীর্ষ বৈঠকের আগে "ফাইনান্সিয়াল টাইমস" পত্রিকাই খবর দিয়েছে যে, গ্রীসকে বাঁচানোর জন্য ব্যবস্থার মধ্যে এক ধরনের কর বসানো হবে ইউরোপের ব্যাঙ্ক গুলির উপরে. তাত্ক্ষণিক ভাবেই উত্তেজক প্রতিক্রিয়া হয়েছে. জার্মান ব্যাঙ্ক গুলির সংগঠনের প্রধান ক্রিস্টিয়ান ব্র্যান্ড এই ঘটনার নাম দিয়েছেন "রাজনৈতিক অদ্ভূত কাণ্ড" বলে. এই ধরনের সিদ্ধান্ত – প্রমাণ করে দেয় যে, ইউরোপীয় সংঘের নেতৃত্ব ধারণা সংক্রান্ত সঙ্কটে ভুগছে, এই রকম মনে করে "গ্র্যান্ডিস ক্যাপিটাল" বিনিয়োগ কোম্পানীর বিশ্লেষণ দপ্তরের প্রধান দেনিস বারাবানভ বলেছেন:

"ব্যাঙ্কের উপরে কর বসানো, যা করতে চাওয়া হচ্ছে, অথবা এমনকি নাগরিকদের উপরেও নতুন কর বসানো – এই ধরনের প্রস্তাবও করা হতে পারে – এটা দেখিয়ে দিচ্ছে যে, ইউরোপীয় সংঘের প্রশাসনের বাস্তবে গ্রীসকে সহায়তা করার জন্য কোনও উপায়ই নেই. এক দিকে তারা চেষ্টা করছে রেটিং সংস্থা গুলির কাছে ভাল হতে, যারা দেউলিয়া হওয়ার ভয় দেখাচ্ছে কোন রকমের ঋণ শোধকে দূরে ঠেললে. আর অন্য দিকে চাইছে কোন একটা আইন সঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে, যাতে দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা এড়ানো যায়. কিন্তু এই ক্ষেত্রে তারা এর মধ্যে আবার ব্যক্তিগত বিনিয়োগ কারী দেরও ঢোকাতে চায়. এটা ঠিক সিদ্ধান্ত নয়. কারণ তাতে এক বিপদ জনক উদাহরণ তৈরী হবে. সম্ভবতঃ শুধু গ্রীসই নয়, অন্যান্য দেশকেও বাঁচাতে হবে. আর সেই সব ক্ষেত্রে একেবারেই অন্য মাত্রার ঋণের কথা হচ্ছে. তাও সবচেয়ে ভাল সিদ্ধান্ত হতো গ্রীসের ধীরে ধার বকেয়া করার দিকে যাওয়া. আমি মনে করি না যে, ইউরোপের রাজনীতিবিদেরা যতটা ভয় পাচ্ছেন, আসলে সেটা তত খারাপ হবে".

দেউলিয়া করার ধারণা, যদিও অংশতঃ, তাও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সমর্থন পেয়েছে. অন্ততঃ এই ধরনের সম্ভাবনা অস্ট্রিয়ার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রধান এভাল্ড নোভোত্নী বাদ দেন নি. শীর্ষ বৈঠকের আগে তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, এই সম্ভাবনাকে "খুঁটিয়ে দেখা দরকার".

শীর্ষ বৈঠকের ফল হিসাবে সমগ্র ইউরোপের বিনিয়োগ সঙ্কটের সমাধান আসা করা ঠিক হবে না. এই বিষয়ে আগে থেকেই সাবধান করে দিয়েছেন জার্মানীর চ্যান্সেলার অ্যাঞ্জেলা মেরকেল. তাঁর কথামতো, এখানে কথা হচ্ছে শুধু কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের, ইউরোপীয় এলাকায় "নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ার". কিন্তু যদি বাজার এর মধ্যেই গ্রীসের পরিস্থিতি নিয়ে খতিয়ে দেখেছে ও সমস্ত রকমের ঝুঁকিকেই ভবিষ্যতের "হিসাবের মধ্যে নিয়েছে", তবুও এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অক্ষমতা ও সম্মিলিত পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এই সহমতের অভাব ইউরোপীয় সংঘের জন্য খুবই দামী হয়ে যেতে পারে. এখানে শুধু মুদ্রা ব্যবস্থার পতনের সম্ভাবনাই নেই, বরং সমগ্র ইউরোপ প্রকল্পেরই রয়েছে, এই কথা নিরাশাগ্রস্ত হয়ে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা. কারণ যা তৈরী করা হয়েছে রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োগের ফলে, তা অনেক সময়েই করা হয়েছে অর্থনৈতিক নিয়ম লঙ্ঘণ করে, তাই একে বাঁচাতেও হবে রাজনৈতিক ভাবেই. কিন্তু বর্তমানে ইউরোপীয় সংঘের নেতৃত্বের রাজনৈতিক সদিচ্ছাই নেই, এই কথা "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বিজ্ঞান ও রাজনীতি তহবিলের গবেষণা প্রকল্পের প্রধান ও প্রফেসর হানস- হেনিঙ্গ শ্র্যেয়ডার বলেছেন:

"অবশ্যই রাজনীতিবিদদের উপরে দোষ দেওয়া যেতে পারে, যখন এই ধরনের ইউরো মুদ্রা নেওয়ার কথা হয়েছিল. কারণ ঐক্যবদ্ধ মুদ্রা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রয়োজন ছিল বিনিয়োগ নীতিকেও একই রকম করা. আর আজ আমরা ঐক্যবদ্ধ মুদ্রা ব্যবস্থার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি জাতীয় অর্থনৈতিক নীতি. তখনই অর্থনীতিবিদেরা সাবধান করে দিয়েছিলেন যে, এই ভাবে কাজ হতে পারে না. মেরকেল, সারকোজি, বেরলুসকোনি খুব কমই বোঝেন অর্থনীতি বিষয়ে, তাই সময় মতো কাজও করেন নি".

কিন্তু মনে হয়েছে যে, অ্যাঞ্জেলা মেরকেল, যাঁকে এক সময়ে গ্রীস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারার জন্য দোষ দেওয়া হচ্ছিল, আর যিনি বর্তমানে বাস্তবে একাই ইউরো এলাকা বাঁচানোর জন্য দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি তাঁর আগের ছেড়ে রাখা কাজ করার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছেন. শীর্ষ বৈঠকের আগে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, "ঐতিহাসিক কাজ এখন – ইউরো বাঁচানো".