মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে একটি উল্লেখ যোগ্য দিন – ২০ শে জুলাই. ১৯৬৯ সালে এই দিনে পাইলট চালিত "অ্যাপেলো – ১১" মহাকাশ যান প্রথম মানবেতিহাসে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করেছিল ও মানুষ প্রথম চাঁদের পিঠে পা দিয়েছিল. আর তার কিছু বছর পরে ১৯৭৬ সালে মঙ্গল পৃষ্ঠে নেমেছিল আমেরিকার স্বয়ংক্রিয় মহাকাশ কেন্দ্র "ভাইকিং – ১". এই ঘটনা গ্রহের পৃষ্ঠ পরীক্ষার সক্রিয়তা বৃদ্ধি করেছিল. এখন বিশেষজ্ঞরা পর্যালোচনা করে দেখছেন মঙ্গল গ্রহে পাইলট চালিত মহাকাশ যান পাঠানোর সম্ভাবনা কতখানি.

    ১৯৬০ সালেই সোভিয়েত দেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলের উদ্দেশ্য বেশ কয়েকটি যান পাঠিয়েছিল, যেগুলি সেখানের জমির নানা ধরনের বিশেষত্ব পরীক্ষা করে দেখেছিল: সৌর প্রবাহের ঘনত্ব, মাধ্যাকর্ষণ বা চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতা (সেখানে দেখা গিয়েছিল তা নেই, তাপমাত্রা ও আবহাওয়া পরিমণ্ডলের গঠন. স্পষ্ট করে বোঝা গিয়েছিল যে, সেখানে বিশেষ মহাকাশ যাত্রীর পোষাক বা স্কাফান্দার ছাড়া বাঁচা যাবে না. অক্সিজেন নেই, আবহাওয়ার চাপ পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে ৩৫ কিলোমিটার উচ্চতায় চাপের মতই. এটা সেই সমস্ত লোকেদের ঘোর ভাঙিয়েছিল, যারা ভাবছিলেন যে, মঙ্গল গ্রহে উন্নত ধরনের জীব বাস করে ও যারা না কি বিভিন্ন "খাল খনন" করে থাকে.

    মঙ্গল গ্রহের আরও খুঁটিয়ে পরীক্ষা করার নতুন অধ্যায় ভাইকিং দের সঙ্গেই যুক্ত, যেগুলি সেখানের মাটি পরীক্ষা করে দেখেছিল জীবাণু আছে কি না দেখতে. বৈজ্ঞানিক সমাজে সেই সময়ে করা আবিষ্কার গুলি এখনও বিতর্কের কারণ হয়ে রয়েছে. বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক মনে করেন যে, তাঁরা এখানে যে জীবনের অস্তিত্ব রয়েছে তা প্রমাণ করতে পেরেছেন. শুরু হওয়া নতুন সহস্রাব্দ বেশ কিছু দিগন্ত উদঘাটনের উপযুক্ত আবিষ্কার দেখেছে, যা এই রক্তিম গ্রহের সঙ্গেই জড়িত, পাওয়া গিয়েছে তরল জলের সম্ভাব্য উপস্থিতির পরোক্ষ প্রমাণ. আর এই বছরের নভেম্বর মাসে "মঙ্গল গ্রহের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগার" নামে এক মহাকাশ যান নাসা থেকে পাঠানো হচ্ছে. তার মধ্যে এক রুশ যন্ত্র বসানো হয়েছে, যা জল খুঁজতে সাহায্য করবে. সেই নভেম্বর মাসেই যাত্রা শুরু করবে রুশ মহাকাশ যান "ফোবোস – গ্রুন্ত", যা তিন বছর পরে পৃথিবীতে মঙ্গল গ্রহের এই উপগ্রহের মাটির উদাহরণ নিয়ে আসবে. বর্তমানে মঙ্গল গ্রহ সম্বন্ধে আগ্রহ এমনি নয়, এই কথা মনে করেছেন মহাকাশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক বিষয়ের সম্পাদক আলেকজান্ডার জাখারভ:

    "আগ্রহ হওয়া খুবই স্বাভাবিক, কারণ এটা পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ, যেখানে জীবনের সম্ভাবনা রয়েছে, আর অন্যতম গ্রহ, যার উপরে মানুষ দাঁড়াতে পারে. তাই প্রসারের দিক অবশ্যই হবে মঙ্গলের দিকে. এটা বিশেষ হিসাবের মধ্যে পড়ে, কারণ সেখানের পরিস্থিতি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের, যদিও, আবহাওয়ার ঘনত্ব ও তাপমাত্রার তফাত অনেকটাই".

    পরবর্তী কালে এই গ্রহের উপরে গবেষণা আমাদের বুঝতে সাহায্য করবে, কি করে গ্রহের বিবর্তন হয়ে থাকে ও সৌর মন্ডলের পরিবর্তন কি করে হয়েছে, ভবিষ্যতে তার কি হবে. কেন মঙ্গল গ্রহের জল হারিয়ে গিয়েছে ও সেখানে যে বহু কোটি বছর আগে মহাসমুদ্র ছিল, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিকদের মধ্যে কোন সন্দেহ নেই. বিশ্বের আবহাওয়ার কি ভাবে পরিবর্তন হবে. মঙ্গল গ্রহের মত শুকনো ও ঠাণ্ডা হবে, না কি শুক্রের মতো প্রচণ্ড তাপিত ও ঝলসানো গরম হবে.

    তাই হঠাত্ করেই সবাই মঙ্গল গ্রহে পাইলট চালিত যান পাঠানোর কথা বলতে শুরু করেন নি – এই গ্রহকে চেনার নতুন অধ্যায়ে ও তার প্রথম ব্যবহারের কথা. একটা মোটামুটি সময়ের কথা বলা হচ্ছে – ২০৩৫ সাল. এই অভিযানের কাজের অংশ হিসাবে "মঙ্গল যাত্রী" ছয় জন মানুষের ৫২০ দিন ধরে জগত বিচ্ছিন্ন ভাবে থাকার পরীক্ষার কথা বলা যেতে পারে, যারা আসলে এই গ্রহে যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় দিন ধরে আলাদা থাকার অভ্যাস করে দেখছেন. এই ধরনের পরীক্ষা মস্কোর বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটে "মঙ্গল – ৫০০" নামে করে দেখা হচ্ছে, বর্তমানে এই ছয় জন মঙ্গলের দিকের থেকে "ফিরে" পৃথিবীর দিকে ঘরে চলেছেন ও হেমন্তে "পৌঁছবেন". "মঙ্গল – ৫০০" পরীক্ষায় মডেল করা হয়েছে মহাকাশের সমস্ত কিছুরই, শুধু দুটি বাস্তব যাত্রার এড়ানো যায় না এমন মারাত্মক জিনিস ছাড়া. একটি মহাকাশের তেজস্ক্রিয় রশ্মির আঘাত ও ভর শূণ্যতা. এই ধরনের যাত্রার সবচেয়ে বড় বাধা হবে তেজস্ক্রিয় বিকীরণ, তাই আলেকজান্ডার জাখারভ যোগ করেছেন:

    "কি করে তার সমাধান করা যাবে, তা নিয়ে এখনই ধারণা রয়েছে. কিন্তু সমস্যা হল, তা এই অভিযান খুবই জটিল করে তোলে. যদিও আশাবাদীরা বলছেন যে, পাইলট চালিত যানের প্রধান প্রযুক্তিগত সমাধান গুলি যদিও এখনও সম্পূর্ণ পাওয়া যায় নি, তাও তা সমাধানের খুবই কাছে, তেজস্ক্রিয়তার প্রশ্ন এখনও খোলা রয়েছে".

    মহাকাশের বিকীরণ – এটা হল খুবই শক্তি সম্পন্ন আয়ন হওয়া কণা, যা খুবই কম সংখ্যায় পাওয়া যেতে পারে খুবই শক্তিশালী রিয়্যাক্টরে. রাশিয়ার যন্ত্রে এখন জৈব উদাহরণের উপরে এর পরীক্ষা করা দেখা হচ্ছে. বিশেষ করে বৈজ্ঞানিকেরা আশা করেছেন ফোবোস – গ্রুন্ত অভিযানের উপরে. আন্তর্গ্রহ স্টেশনে ব্যাকটেরিয়া সমেত ক্যাপসুল পাঠানো হবে, সেটা মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোস অবধি যাবে ও ফিরে আসবে. যদিও বিকীরণ এক কোষ বিশিষ্ট জীব ও মানুষের উপরে ভিন্ন ধরনের প্রভাব ফেলে, তাও মঙ্গলে অভিযানের জন্য বিকীরণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ভাল ব্যবস্থা তৈরী করতে সাহায্য করবে. প্রসঙ্গতঃ সোভিয়েত দেশে ১৯৬০ -১৯৭০ সালে এই ধরনের যাত্রা প্রযুক্তিগত ভাবে সম্ভাব্য হয়েছিল ও তৈরীও করা হয়েছিল, তবে পরে তা বাতিল করে দেওয়া হয়.

    সোভিয়েত দেশে তখন আরও একটি ঝুঁকি পূর্ণ ধারণা ছিল – মঙ্গল থেকে মাটি নিয়ে পৃথিবীতে স্বয়ংক্রিয় যানে করে আসা. কিন্তু তা বাস্তবে করা হয় নি, কারণ ভয় পাওয়া হয়েছিল যে, যদি প্যারাশ্যুট না খোলার কারণে যান পৃথিবীর মাটিতে ভেঙে পড়ে, তাহলে মঙ্গলের অচেনা ব্যাকটেরিয়া বিশ্বে প্রসারিত হয়ে সমস্ত জীব জগতকেই ধ্বংস করতে পারে. এখন, যখন মাটির উদাহরণের কথা বলা হচ্ছে, তখন মনে করা হয়েছে, য়ে, তা নিয়ে আসবে মানুষ নিজেই.