বারাক ওবামা তৈরী হয়েছেন রিপাব্লিকান দলের দাবী মেনে নিতে, যাতে দেশকে ডিফল্টের থেকে বাঁচানো যায়. বহু প্রতীক্ষিত সমঝোতার মানে হল – দেশের ঋণের সর্ব্বোচ্চ মাত্রা বাড়ানো হবে, টেকনিক্যাল ডিফল্টের সম্ভাবনা ঘুচতে চলেছে, আর ২ রা আগষ্ট সেই "চরম" সময় আর হচ্ছে না. এই সমঝোতা হয়েছে "ছয় জনের" এক দলের প্রস্তাব অনুযায়ী, যেখানে তিনজন করে ডেমোক্র্যাট ও রিপাব্লিকান দলের সদস্যরা ছিলেন.

রাষ্ট্রপতির প্রশাসন সরকারি ব্যয় কমানোর এক কঠোর পরিকল্পনা মেনে নিয়েছে. ফলে আগামী দশ বছরে বাজেট ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে প্রায় চার লক্ষ কোটি ডলার. এখানে বলা হয়েছে ব্যয় কমানো হবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, সামাজিক বীমা ও বিনামূল্য চিকিত্সার প্রকল্পের ক্ষেত্রে. তার উপরে ওবামা আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্রশাসন ভবিষ্যতেও তথাকথিত নির্দিষ্ট লক্ষ্য সম্মত ব্যয় কমাবে, যার মধ্যে সামরিক খাতে খরচও রয়েছে.

শেষেরটি পেন্টাগনের বোধহয় পছন্দ হবে না. কিন্তু তা মেনে নিতেই হবে. তার ওপরে এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী প্রতিরক্ষা মন্ত্রী উইলিয়াম লিন তাঁর নিজের দপ্তরের ভবিষ্যতের সবচেয়ে মলিন চিত্র দেখিয়েছেন. তাঁর মতে, পেন্টাগন নিজের পছন্দ মতো অর্থ ব্যয় করার সুযোগ হারাবে ও বাধ্য হবে দেশের আর্থ- বিনিয়োগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেতে.

ফলে সম্ভাব্য প্রলয় বুঝি এড়ানো সম্ভব হল এবারের মতো. যদি সমস্ত কিছুই পরিকল্পনা মাফিক চলে, তবে ২০১৪ সালের মধ্যে দেশের রাষ্ট্রীয় ঋণের মাত্রা কমানো সম্ভব হবে. কিন্তু আপাতত কোন বিশদ বর্ণনা এই সম্বন্ধে পাওয়া যায় নি. যেমন জানা যায় নি, তাতে সমস্ত রিপাব্লিকান সদস্য তাঁদের সমর্থন দিচ্ছেন কি না অথবা আলোচনা আবার দীর্ঘসূত্রী হতে চলেছে.

আর যদিও আজ পরিস্থিতি ততটা সঙ্কটের নয়, আমেরিকান অর্থনীতির জন্য বাড়তে থাকা ঋণ মাথা ব্যথার কারণ হয়েই রয়েছে, এই কথা মনে করে ডয়েচে ব্যাঙ্কের বিশ্লেষণ দপ্তরের প্রধান ইয়ারোস্লাভ লিসভোলিক বলেছেন:

"মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যা হচ্ছে তাদের রাষ্ট্রীয় ঋণ নিয়ে, তা প্রাথমিক ভাবে আমেরিকার অর্থনীতিরই ক্ষতি করছে, কারণ সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে ও আমেরিকার নাগরিক ও কোম্পানী গুলির জন্য অর্থ ঋণের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে".

আর নিজের থেকে এই ডেমোক্র্যাট ও রিপাব্লিকান দলের মধ্যে বিরোধ বর্তমানে আমেরিকার বিরুদ্ধেই কাজ করছে, তাই বিশেষজ্ঞ যোগ করে বলেছেন:

"সমস্যা তৈরী হচ্ছে আমেরিকার প্রতি বিশ্বের ধারণায়. এর সম্বন্ধে আমেরিকার নেতৃত্বই বলে দিয়েছেন. যদি আমেরিকা চায় যে ভবিষ্যতেও ডলার বিশ্বের সঞ্চয়ের মুদ্রা হয়ে থাকুক, তবে এই ধরনের সঙ্কট নিয়মিত হতে থাকলে চলবে না".

যে জ্বরে বিশ্বের সমস্ত বিনিয়োগ বাজার ভুগছিল, তা অবশ্যই এবারে কমবে, কিন্তু এর একটা রেশ রয়ে যাবে. বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত করেছেন: ডলারের প্রতি আস্থা ধীরে হলেও হারাচ্ছে.