সোমবারে পশ্চিমবঙ্গে এক ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা অনেকেই ঐতিহাসিক নামে অভিহিত করে ফেলেছেন. পক্ষ গুলি, যারা এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, তাদের মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা, যারা গোর্খা প্রজাতির লোকেদের জন্য আলাদা করে গোর্খা ল্যান্ড নামে রাজ্য তৈরীর দাবী করেছিল. এই চুক্তির প্রধান বিষয় হল, গোর্খারা পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের আভ্যন্তরীণ রসদ ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট পরিমানে স্বায়ত্ত শাসন করার অধিকার পাবে, কিন্তু তা স্বত্ত্বেও তারা পশ্চিমবঙ্গ থেকে আলাদা হবে না.

    বেশীর ভাগ গোর্খারা পশ্চিমবঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, কিন্তু তা মুহূর্ত কালের মধ্যেই চরমপন্থী গোর্খা, বাঙ্গালী ও দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি দের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিধ্বনি তুলে ফেলেছে. চরমপন্থী গোর্খা দের চাহিদা আলাদা গোর্খা ল্যান্ড. অন্যান্য বিরোধী পক্ষের নেতারা বলছেন দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদের জয় করতে দেওয়া হল. একই সময়ে যখন পশ্চিমবঙ্গে গোর্খা ল্যান্ড নিয়ে আন্দোলন হচ্ছিল, তখনই অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যে চলছিল তেলেঙ্গানা আন্দোলন.

    বিচ্ছিন্নতাবাদের সমস্যা – এই বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় এক সমস্যা. ভারতের জন্যও, যেখানে বহু প্রজাতির মানুষ বাস করেন ও বহু ভাষায় তারা কথা বলে থাকেন, সেখানে এই সমস্যা খুবই তীক্ষ্ণ হয়েছে, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে রুশ পর্যবেক্ষক বরিস ভলখোনস্কি উল্লেখ করেছেন:

    "এই ধরনের প্রশ্নে কোন রকমের অর্ধেক মীমাংসা করা ঠিক হবে না. সবসময়েই কোন না কোন পক্ষের তাতে মতের বিরোধ থাকবেই. ভারতের প্রতিবেশী দেশ গুলিও এই ধরনের সমস্যায় জর্জরিত. গোর্খারা ভারত ছাড়াও নেপাল ও সিকিম রাজ্যে রয়েছেন, পরে যেন তাদের সঙ্গে জোট বেঁধে আলাদা গোর্খা ল্যান্ড সৃষ্টির আন্দোলন জোরদার না হয়. যদিও বর্তমানের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এই সম্ভাবনাকেও বাদ দেন নি ও আগে এই দলের নেতাকে বলেছেন – হৃদয়ে আপাততঃ পৃথক রাজ্য সৃষ্টির সম্ভাবনাকে গোপন রাখুন.

0    চীনের জন্যে যেমন সিনজিয়ান ও তিব্বতের সমস্যা দখল করা জমি সংরক্ষণের লড়াই, শ্রীলঙ্কার জন্য তামিলদের সঙ্গে আপোষ মীমাংসা না করার ফল হয়েছে তিরিশ বছর চলা গৃহযুদ্ধ, তেমনই সের্বিয়ার জন্য ছিল কোসভা. যার স্বীকৃতী পাওয়ার পর থেকেই বিশ্বে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন জোরদার হয়েছে এবং তার সমাধানের প্রচেষ্টাও হচ্ছে".