সোনার দাম আকাশ ছুঁয়েছে. ইউরোপীয় সংঘের এলাকার স্থিতিশীলতার অভাব ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ঋণ বকেয়া রাখতে হবে এমন পরিস্থিতির অপেক্ষায় হলুদ ধাতুটি ওজনে বাড়ছে. এর আগে ঐতিহাসিক ভাবে রেকর্ড ভাঙা দাম হয়েছে সোনার – এক ট্রয় আউন্স (প্রায় ৩১. ১০৩ গ্রাম)১৬০০ ডলারের বেশী. এই রকমের অবস্থায় খুবই উল্টো পাল্টা ঠেকেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সঞ্চয় ব্যবস্থা (ফেডরল রিজার্ভ সিস্টেম) এর প্রধানের বক্তব্য – যিনি দৃঢ় মত পোষণ করেছেন যে, তাঁর জন্য "সোনা – টাকা নয়".

    বিগত মাসটি সোনার কৃতিত্বে সবচেয়ে ঘটনা বহুল হয়েছে. আর এখানে শুধু ঐতিহাসিক ভাবে সবচেয়ে চড়া বাজার দরের কথাই হচ্ছে না. গত ১১ দিন ধরে একেবারেই না থেমে দাম বাড়ছে – আর এটা খুবই বিরল সূচক, যা শেষবার হয়েছিল ১৯৮০ সালের জুলাই মাসে. তার মধ্যে আবার সোনা গত দশ বছর ধরে একটানা দামে বাড়ছেই – আর এটাও রেকর্ড, যা ১৯২০ সাল থেকে কখনো পুনরাবৃত্তি করে নি. সোনার দাম বাড়ার প্রধান কারণ হল – এই ধাতুর প্রতি কাড়াকাড়ি পড়া চাহিদা. আর তা অদূর ভবিষ্যতে বিশ্ব জোড়া দিক ভুল হওয়া পরিস্থিতিতে কমবে বলে তো মনে হয় না, এই রকম একটি কথা বে কা এস এক্সপ্রেস কোম্পানীর বিশ্লেষক ম্যাক্সিম লবাদা উল্লেখ করে বলেছেন:

    "আমি মনে করি যে, সোনা দামে বাড়তেই থাকবে. কারণ সাধারন সোনা – এক অতুলনীয় সঞ্চয়ের ব্যবস্থা, আর বিশ্বে অস্থিতিশীলতা বাড়ছেই. যদি কিছু একটা খুব ভয়ঙ্কর ঘটে যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বকেয়া হওয়ার মত ঘটনা, তবে এটা সাময়িক ভাবে সমস্ত বাজারকেই টলিয়ে দেবে ও প্রথমে বিনিয়োগকারীরা ছুটবে ডলারে, তারপরে সোনাতে. অর্থাত্ ওঠা নামা হবে খুবই বড় ধরনের. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আর্থিক ব্যবস্থার ক্ষমতা শালীরা কেউই স্পষ্ট ভাবে বোঝাতে পারছেন না, পরিস্থিতি এর পরে কি হবে. আর মানুষ জানে না, কি করে এর পরে বিনিয়োগ ব্যবস্থা কাজ করবে. যা এখন হচ্ছে, এটা শুধু সমস্যাকেই জিইয়ে রাখা হচ্ছে, তার সমাধান হচ্ছে না".

    বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীরা দাম ঠিক করার সম্বন্ধে সম্ভাবনা বাদ দিচ্ছেন না. সোনা এর মধ্যেই যথেষ্ট শক্তিশালী হয়েছে – অর্থনীতিবিদেরা যেমন বলে থাকেন যে, বেশী দাম দিয়ে অনেক কেনা হয়ে গিয়েছে, তার ওপরে ঐতিহাসিক ভাবে সর্ব্বোচ্চ দামের সীমা পার হওয়ার পরে. কিন্তু এখন কথা হচ্ছে দাম স্থিতিশীল জায়গায় পৌঁছনো নিয়ে, তা কমা নিয়ে নয়. সোনা আর দশ বছর আগের মত সস্তা থাকবে না, এই রকম মনে করে অ্যাটন বিনিয়োগ গ্রুপের সিনিয়র বিশ্লেষক দিনুর গালিফানভ বলেছেন:

    "দাম, আমরা যা বাড়তে দেখেছি, তা গত তিরিশ বছরের মধ্য সবচেয়ে বেশী. আর তা যখন এতদিন চলছে, মানুষ তখনই প্রশ্ন করতে শুরু করেছে এটা বাজারে আবার নতুন করে কোন বুদবুদ তৈরী করা হচ্ছে না তো? আর তখন কি হবে, যদি হঠাত্ করেই প্রধান ফ্যাক্টর গুলি পাল্টে যায়? কিন্তু আপাততঃ মূল্যবৃদ্ধি হওয়ার আশংকা সবচেয়ে বেশী. সুতরাং হঠাত্ করে দাম কমে যাওয়ার আশংকা করার দরকার নেই. আর ভবিষ্যতে, যত দ্রুত রাষ্ট্র গুলি তাদের ঋণ ও বিনিয়োগের সমস্যার সমাধান করতে পারবে, তত তাড়াতাড়িই দামের সংশোধন হবে".

    হয়তো একমাত্র ব্যক্তি, যিনি বাজারে সোনা নিয়ে দৌড় খেয়াল করছেন না, - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সঞ্চয় ব্যবস্থার প্রধান. কয়েকদিন আগে, সেনেট প্রতিনিধিদের সামনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর দপ্তর তৈরী আছে অর্থনীতিকে বাড়তি ভাবে অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য, পড়া দরকার – আবার করে ডলার ছেপে বার করে বাজারে ঢালতে ও নতুন মূল্যবৃদ্ধির কারণ ঘটাতে. বেন বের্নানকে কে এই পারস্পরিক যোগাযোগের ব্যাপারটার দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন রিপাব্লিকান দলের অর্থনৈতিক রাজনীতি নিম্ন পরিষদের প্রধান রন পল. কিন্তু রাষ্ট্রের মুদ্রা ব্যবস্থার প্রধান বাস্তবে ঘোষণা করেছেন যে, "সোনা – অর্থ নয়".

    তাঁদের কথার সারাংশ হল – রাষ্ট্রীয় ঋণ পত্র ও সোনা বের্নানকে মনে করেন জমা রাখার বা সঞ্চয়ের মাধ্যম তা কোন রকমের চালু অর্থে ব্যবহার যোগ্য মুদ্রা নয়, যদিও রন পল তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, গত ছয় হাজার বত্সর ধরে সোনা বিনিময় যোগ্যতা হারায় নি, এছাড়া প্রত্যেক দেশের রাষ্ট্রীয় ব্যাঙ্ক ও অন্যান্য ব্যাঙ্ক নিয়মিত সোনা ও হীরা কিনে জমা করে রাখে. বের্নানকে এর উত্তরে জানিয়েছেন যে, এটা একটা ঐতিহ্য মাত্র এবং ডলার গত তিন বছরে তার ক্রয় ক্ষমতা অর্ধেক করে ফেললেও কিছু করার দরকার নেই, নতুন করে ডলার ছাপা ছাড়া.

    আমেরিকার সেনেট সদস্যের কথা থেকে বোঝা গিয়েছে যে, সোনা বর্তমানে পেশাদার বাজারের সীমানা ছাড়িয়ে গ্রাহকের ক্রয় যোগ্য বস্তুতে পরিনত হয়েছে, বহু ব্যাঙ্কই বর্তমানে ছোট মাপের কয়েক গ্রামের সোনা সঞ্চয়ের জন্য বিক্রী করছে. যদিও বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, সোনা কেনা বেচা করে বড়লোক হওয়া আপাততঃ পেশাদারদের পক্ষেই সম্ভব.