টিউনিশিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধিদলের সাথে কর্নেল গাদ্দাফির প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে – লিবিয়াতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রথম. বিশ্বের নেতৃ স্থানে থাকা সংবাদ মাধ্যম গুলির খবরে প্রকাশ যে, কোন রকমের কূটনৈতিক ভাবে চাঞ্চল্যকর সংবাদ এখানে পাওয়া যায় নি.

সম্ভবতঃ, এই ধরনের উল্লেখযোগ্য কেন ফল না থাকায়, সাক্ষাত্কারের তিন দিন বাদেই এই খবর প্রকাশিত হয়েছে. দুই পক্ষই লিবিয়ার ভবিষ্যত নিয়ে কোন রকমের সহমতে আসতে পারে নি. আমেরিকার লোকেরা স্রেফ আরও একবার নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে যে, মুহম্মর গাদ্দাফি ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য. শুধুমাত্র তখনই এখানের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে বলে ওয়াশিংটন মনে করে. ত্রিপোলি এর সঙ্গে একমত নয়, তবে আলোচনা চালিয়ে যেতে তৈরী. লিবিয়ার মন্ত্রীসভার সরকারি প্রতিনিধি মুসা ইব্রাহিম যেমন বলেছেন যে, ত্রিপোলি তৈরী আছে আলোচনার জন্য ও শান্তি স্থাপনের জন্য যে কোন রকমের অবস্থানই মেনে নিতে পারে, তবে প্রধান কথা হল, লিবিয়াও তার নাগরিকদের ভবিষ্যত যেন অন্য কেউ ঠিক করে না দেয়. ওয়াশিংটন থেকে জানানো হয়েছে যে, টিউনিশিয়াতে আলোচনা ছিল মাত্র "এক বারের জন্যই".

 নিরপেক্ষ দেশের এলাকায় এই সাক্ষাত্কার হয়েছে ইস্তাম্বুলে তথাকথিত লিবিয়া সমস্যা নিয়ে যোগাযোগের জন্য চল্লিশ দেশের প্রতিনিধিদের জড় হওয়ার পরেই. তাদের প্রধান সিদ্ধান্ত: লিবিয়ার একমাত্র আইন সঙ্গত প্রশাসন বলে অস্থায়ী জাতীয় সভাকে স্বীকার করা. আলাদা করে বলা হয়েছে যে, গাদ্দাফির প্রশাসন আর আইন সঙ্গত প্রশাসন নয়, আর কর্নেল নিজে সরে যেতে বাধ্য. তুরস্কের উদ্যোগে গ্রহণ করা হয়েছিল সমস্যা সমাধানের জন্য দিক নির্দেশ. তাতে বলা হয়েছে যে, অগ্নি সংবরণের পরে লিবিয়ার সমস্ত রাজনৈতিক শক্তি ও রাজ্যের প্রতিনিধিদের নিয়ে অস্থায়ী প্রশাসন তৈরী করা হবে. সবই ঠিক ছিল, কিন্তু শান্তি স্থাপন করা বোধহয় সম্ভব হবে না, যখন তার প্রধান শর্তই হচ্ছে কর্নেল গাদ্দাফির পদত্যাগ. বোঝাই যাচ্ছে যে, যদি কর্নেল শুধু নিজেরই প্রতিনিধিত্ব করতেন, কিন্তু লিবিয়ার একাংশ তাঁকে সমর্থন করে. তা না হলে, কোন গৃহযুদ্ধ সম্বন্ধেই বা বলা যেতে পারে.

তাই মস্কোর পক্ষে লিবিয়ার আভ্যন্তরীণ বিরোধে কোন এক রাজনৈতিক পক্ষের হয়ে দাঁড়ানো গ্রহণ যোগ্য নয়. এই ধরনের সিদ্ধান্তের অর্থ হল যে, সেই সিদ্ধান্তের পক্ষের লোকেরা রাজনৈতিক ভাবে একঘরে করে জন্য তৈরী, এই ক্ষেত্রে ত্রিপোলির ক্ষমতার যারা প্রতিনিধিত্ব করছে, তাদের. এই বিষয়ে সোমবারে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়া ঐতিহ্য মেনেই, যে কোন ধরনের বিরোধের ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধানে একঘরে করে দেওয়াকে পদ্ধতি বলে মনে করে না ও সমস্ত পক্ষকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আহ্বান করেছে, এই কথা উল্লেখ করে রুশ কূটনীতির কর্তা বলেছেন:

"এই ধারণার উপরে ভিত্তি করে আমরা পররাষ্ট্র দপ্তরের স্তরে ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির আফ্রিকার দেশ গুলির সঙ্গে সহযোগিতা বিষয়ে বিশেষ প্রতিনিধি মিখাইল মার্গেলভের বিভাগীয় পথে একই সঙ্গে ত্রিপোলি ও বেনগাজির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছি, তাদের গঠনমূলক অবস্থান নিতে আহ্বান করেছি, নিজেদের দেশ ও তার লোকেদের ভাগ্যের দায়িত্ব নিতে বলেছি এবং আহ্বান করেছি মধ্যস্থতা কারী রাষ্ট্রসংঘ ও আফ্রিকা সংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী আলোচনা শুরু করতে. এখানে কথা হয়েছে একেবারেই বিষয় নিষ্ঠ ও নির্দিষ্ট আলোচনা, সেই সমস্ত শর্ত মেনে, যাতে সংশোধনের প্রস্তুতি করার জন্য অস্থায়ী পরিকাঠামো তৈরী করা সম্ভব হবে, নতুন আইন প্রণয়ন করা যাবে, যদি প্রয়োজন হয়, তবে নতুন সংবিধান তৈরী করা যাবে ও একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক নির্বাচন করা যাবে, যেখানে লিবিয়ার জনসাধারন তাঁদের স্বাধীন মত জানাতে পারবেন".

এই ভাবে মস্কো বুঝতে দিয়েছে যে, তারা লিবিয়ার আভ্যন্তরীণ আলোচনার স্বপক্ষে রয়েছে. কিন্তু গাদ্দাফির অপসরণ যেন হয়, এই আলোচনার ফলশ্রুতি হিসাবে, তার শর্ত না হয়. এই সম্বন্ধেই বুধবারে সের্গেই লাভরভের লিবিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবদেল আতি আল-ওবৈদির সঙ্গে কথা হবে. রাশিয়া গাদ্দাফির সভ্য পদত্যাগের স্বপক্ষে. আর এখানে নিজেদের ভূমিকা আন্তর্জাতিক সমাজ পালন করতে বাধ্য, এই কথা মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের প্রাচ্য বিশারদ ও বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ইসায়েভ বলেছেন:

"গাদ্দাফির অপসরণ সম্বন্ধে, যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, এটা অনেকটাই নির্ভর করছে তার চরিত্রের শক্তির উপরে. আর তার উপরে যে, আন্তর্জাতিক সমাজ কি ধরনের উদাহরণ উপস্থিত করছে. তিনি খুব ভাল করেই বেশ কিছু সের্বিয়ার সামরিক প্রাক্তন নেতাদের ভাগ্য দেখেছেন. আমি মিলোশেভিচের ভাগ্যের কথা আর তুলছিই না. তিনি ইরাকের স্বৈরতন্ত্রী নেতা সাদ্দাম হুসেইনের পরিণতিও দেখেছেন. আর স্বাভাবিক ভাবেই, সেই ধরনের উদাহরণের পথ ধরতে তিনি কোন মতেই চাইছেন না. এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, যা আমি মনে করি শুধু সমাধান করা সম্ভব রাষ্ট্রসংঘ, ইউরোপীয় সংঘ ও আফ্রিকা সংঘের গ্যারান্টির উপরে নির্ভর করেই. সেই ধরনের প্রভাবশালী ও ভরসা যোগ্য সংগঠনের গ্যারান্টির উপরে, যারা তাঁর ব্যক্তিগত ও কাছের লোকেদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ গ্যারান্টি দিতে পারবে".

একই সময়ে লিবিয়াতে বিরোধী পক্ষ খনিজ তেল রপ্তানীর বন্দর মার্সা -এল -ব্রেগা দখলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে. ত্রিপোলিতে এই প্রচেষ্টা বিফল হয়েছে বলা হয়েছে ও ঘোষণা করা হয়েছে: বিরোধীরা যা চায়, তা শুধু হল তেল. গাদ্দাফির শক্তি এই শহর ততক্ষণ পর্যন্তই রক্ষা করবে, "যতক্ষণ না শেষ আক্রমণ কারী নিহত হয়". যুদ্ধ চলছে, আর মারা যাচ্ছে সাধারন মানুষ. কোন রকমের প্রারম্ভিক শর্ত ছাড়া আলোচনা শুরু করার জন্য এটাই হতে পারে আরও একবার ভাল করে ভেবে দেখার কারণ.