এই সপ্তাহে দিল্লীতে আমেরিকা- ভারত স্ট্র্যাটেজিক আলোচনার সূত্রে আরও একবার শুরু হতে চলেছে কথাবার্তা. সোমবার ভারতীয় রাজধানীতে এই কারণে আসছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন. আমেরিকা ও ভারতের সরকারি কর্মীরা প্রসারিত ভাবে আলোচনা করতে বসছেন একসঙ্গে বহু বিষয় নিয় – সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা থেকে শুরু করে দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা হয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ পর্যন্ত. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

     ভারতের দ্রুত উন্নতিশীল অর্থনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতা, তার উচ্চ আন্তর্জাতিক প্রভাব ওয়াশিংটনকে নীতিগত ভাবে তাদের প্রতি সম্পর্ক পাল্টাতে বাধ্য করেছে. বহু বছর ধরে ভারতের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করার পরে ওয়াশিংটন বিগত কয়েক বছরে দিল্লীর সাথে সহযোগিতার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি ব্যবহার নিয়ে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ শুরু করেছে. দ্রুত বাড়ছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক যোগাযোগ. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এমনকি ঘোষণা করা হয়েছে যে, দিল্লীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হওয়ার সম্বন্ধে সম্মতির কথা. তাও বর্তমানের আমেরিকা – ভারত সম্পর্ককে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা বলা যেতে পারছে না. এই দুই দেশের মধ্যে রয়ে গিয়েছে খুবই গভীর বিরোধ, এই কথা উল্লেখ করে মস্কোর রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের  প্রফেসর সের্গেই লুনেভ বলেছেন:

    "প্রথমতঃ এই কারণে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোন দেশকেই নিজেদের সমকক্ষ বলে মেনে নিতে চায় না. ভারতের জন্য স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি সবসময়েই ছিল মূল পথ, আর দিল্লী তার থেকে আলাদা হতে কখনোই চায় না. ভারতবর্ষ, রাশিয়া, চিন, ব্রাজিলের মতই এক মেরু বিশিষ্ট বিশ্ব থেকে কোন খুশীর কারণ দেখতে পায় না. ভারতবর্ষ চেয়েছে বিশ্ব যেন বহু মেরু বিশিষ্ট বা বহু কেন্দ্রিক হয় ও নিজেদের এই রকম একটি কেন্দ্র বিন্দুতে দেখতে চায়. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এটা আগ্রহোদ্দীপক কোন ইচ্ছা নয়. এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে বিরোধের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা.

    এছাড়াও বিতর্কিত রয়েছে বহু প্রশ্ন, যা আমেরিকা ও ভারতের সম্পর্ককে বিষাক্ত করতেই পারে. যেমন, পরিবেশ পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে, বিশ্বের আর্থ- বিনিয়োগ ব্যবস্থার সংশোধনের সমস্যা, তার সঙ্গে দোহা আলোচনার প্রশ্নাবলী.মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বিভিন্ন দেশের দলে রয়েছে, অংশতঃ, উন্নত ও উন্নতিশীল দেশ গুলির মধ্যে, যাদের মধ্যে বিরোধ মেটানো সহজ নয়. ইরান, মায়ানমার, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সংক্রান্ত প্রশ্নেও ভারত এই অঞ্চলের দেশ হওয়াতে, নিজেদের স্বার্থের কথাই আগে ভাববে, আর নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক নীতি অনুযায়ী চলবে. চিনের বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ভারতকে ব্যবহার করার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছাও ভারতের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়. ভারতের জন্য এটা একেবারেই ধারণার অযোগ্য পরিকল্পনা. ভারত চায় বেইজিং এর সঙ্গে স্বাভাবিক সুপ্রতিবেশী সুলভ সম্পর্ক, এই দেশের সঙ্গে থাকা সমস্যা গুলির শান্তিপূর্ণ সমাধান".

    এর সঙ্গে আরও অনেক যুক্তিই দেওয়া যেতে পারতো. এমনকি সামরিক ক্ষেত্রেও, যেখানে সহযোগিতা বৃদ্ধি হচ্ছে যথেষ্ট সাফল্যের সঙ্গেই. দিল্লী আগের মতই উদ্বিগ্ন রয়েছে আমেরিকা থেকে ভারতে নূতন প্রযুক্তি রপ্তানীর বিষয়ে. আজকের দিনে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগের মতই "সহকর্মী" দেশ কিন্তু জোট নয়. স্ট্র্যাটেজিক আলোচনা রয়েছে, কিন্তু স্ট্র্যাটেজিক সহকর্মী – নয়, মনে করেছেন রুশ বিশেষজ্ঞ.