রাশিয়াতে নতুন ধরনের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করা হতে চলেছে. দ্রুত নিউট্রন ও সীসা – বিসমাথ তার পরিবাহক সমেত প্রথম রিয়্যাক্টর (এস ভে বে এর – ১০০) উলিয়ানভস্কে স্থাপন করা হতে চলেছে.

দ্রুত নিউট্রন চালিত রিয়্যাক্টরকে মনে করা হয় সবচেয়ে নিরাপদ. এই ধরনের রিয়্যাক্টর গত শতকের পঞ্চাশের দশকে প্রথম প্রকাশ করা হয়েছিল, কিন্তু বিনিয়োগের অভাবে তা নিয়ে গবেষণা বন্ধ ছিল. বিশ্বে আপাততঃ দুটিই দ্রুত নিউট্রন চালিত রিয়্যাক্টর সমেত পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র রয়েছে, তা স্ভেরদলভস্ক রাজ্যের বেলোইয়ারস্ক কেন্দ্র. তার মধ্যে একটি গত তিরিশ বছরের বেশী সময় ধরে সাফল্যের সঙ্গেই কাজ করছে. আরও একই রকমের কেন্দ্র তৈরী হচ্ছে ভারতে. উলিয়ানভস্কে যে ধরনের রিয়্যাক্টর লাগানো হতে চলেছে, তার বিশেষত্ব হল যে, তাপ পরিবাহকের কাজ করে সীসা – বিসমাথ ধাতব যৌগ, যা কোন রকমের হাইড্রোজেন উত্পাদন করে না ও তার ফলে এখানে সম্পূর্ণ ভাবে রাসায়নিক বিস্ফোরণের পথ বন্ধ. আর এর গঠনের বিশেষত্ব এমন যে, বিপর্যয়ের ফলে তেজস্ক্রিয় পদার্থের বেরিয়ে পড়া একেবারেই বাস্তবে অসম্ভব. এই ধরনের রিয়্যাক্টর দিয়েই রাশিয়ার পারমানবিক শক্তি চালিত ডুবোজাহাজ গুলি তৈরী করা হয়েছে, যেখানে ইউরেনিয়াম – ২৩৮ ও থোরিয়াম – ২৩২ ভারী মৌলের আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়ে তাকে. এছাড়াও অন্যান্য গুণের মধ্যে, দ্রুত নিউট্রন চালিত রিয়্যাক্টর জ্বালানী সাশ্রয় করতে সাহায্য করে থাকে, এই কথা উল্লেখ করে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে যৌথ পারমানবিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের নিউট্রন পদার্থ বিদ্যার পরীক্ষাগারের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার আলেকজান্ডার ভিনোগ্রাদভ বলেছেন:

"এই প্রযুক্তি কয়েক দশক ধরে পরীক্ষা করা হয়েছে. ওই বেলোইয়ারস্ক পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রই বহুকাল ধরে কাজ করছে. এই ধরনের রিয়্যাক্টর দিয়ে তথাকথিত পারমানবিক বৃত্ত আরও সাফল্যের সাথে ব্যবহার করা যায়. অন্য কথায় বলতে হলে, জ্বালানী পদার্থের ভাণ্ডারকে আরও ফলপ্রসূ ভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়. এই ভাবে বলা যেতে পারে যে, দ্রুত নিউট্রন চালিত রিয়্যাক্টর বেশী আগ্রহোদ্দীপক".

উলিয়ানভস্কে লাগানো রিয়্যাক্টর গুলির ধরনের কার্যকরী সময় – ষাট বছর. তা তৈরী করা সম্ভব প্রায় যে কোন ধরনের প্রাকৃতিক পরিস্থিতিতেই সমুদ্র তীরে, উঁচু পাহাড়ের উপরে. তার ওপরে তৈরী করতে সময় লাগে চার বছরের কম সময়. সময়ের সঙ্গে নতুন ধরনের রিয়্যাক্টর সমস্ত পুরনো পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রেই এই ধরনের রিয়্যাক্টর দিয়ে বদল করা হবে. এর একটি মাত্র দুর্বলতা – কম শক্তি সম্পন্ন. উলিয়ানভস্ক রাজ্যে লাগানো রিয়্যাক্টর শুধু এই রাজ্যের গ্রাহক দেরই বিদ্যুত সরবরাহ করতে পারবে, এই কথা উল্লেখ করে উন্মুক্ত রাষ্ট্রীয় সংস্থা অ্যাটমএনের্গোপ্রোজেক্ট এর প্রতিনিধি আন্না কুরবাকোভা বলেছেন:

""এস ভে বে এর – ১০০" ধরনের পরীক্ষা মূলক পারমানবিক রিয়্যাক্টর ১০০ মেগাওয়াট শক্তির গুণিতকে ছোট ও মাঝারি ধরনের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করতে সুবিধা করে দেবে. অংশতঃ, এর ফলে স্বল্প ব্যবহারের এলাকায় সেখানের স্থানীয় বিদ্যুত পরিবহন ব্যবস্থার বাধা নিষেধের মধ্যেই ছোট পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করা সম্ভব হবে".

বর্তমানে ভবিষ্যত নির্মাণের জায়গা দিমিত্রভগ্রাদে, বিশেষজ্ঞরা জমির পরীক্ষা করে দেখছেন. এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র যেন ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় তৈরী না করা হয়. আগামী বছরে প্রস্তুতির কাজ শেষ হবে, আর এই নতুন উদ্ভাবনী মূলক রিয়্যাক্টর চালু করা হতে চলেছে ২০১৮ সালে.