ত্রিপলির অবস্থান ও শত্রুভাবাপন্ন বিরোধীতা।১৫ জুলাই ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হওয়া লিবিয়া সংক্রান্ত কনটাক্ট গ্রুপের বৈঠকে এর নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়।আর এর প্রতিত্তরে লিবিয়ার নেতা মুহাম্মর গাদ্দাফি প্রায় বজ্র গতির বিবৃতি দিয়েছেন।

৩২ জাতি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অংশগ্রহনে ইস্তাম্বুলের বৈঠকে 'লিবিয়া কনটাক্ট গ্রুপ ' লিবিয়ার বিদ্রোহীদেরকে দেশটির জনগণের বৈধ প্রতিনিধি হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।ঠিক যেমনটি ভাবা হয়েছিল যে,ত্রিপলি এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করবে এবং ঘটেছেও তাই।নিজের কর্মীদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষনে লিবিয়ার নেতা মুহাম্মর গাদ্দাফি বলেছেন,আপনাদের এই সিদ্ধান্তের কোন মূল্য নেই.এসবই অন্ত: সারশূণ্য..... ।

এছাড়া ইস্তাম্বুলের ঐ বৈঠকে গৃহিত নথিপত্রে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে,মুহাম্মর গাদ্দাফির আইনগত উপায়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আর নেই।অস্থায়ী সরকার গঠনের পূর্ব পর্যন্ত কনটাক্ট গ্রুপ ' লিবিয়ার বিদ্রোহীদের জাতীয় পরিষদের সাথে কাজ করবে।তারা লিবিয়া বিষয়ে জাতিসংঘের গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা স্বীকার করেন এবং সবধরনের আলোচনার জন্য লিবিয়া বিষয়ক জাতিসংঘের প্রতিনিধি আবদেল ইলাহ মুহাম্মদ আল-হাতিবকে মনোনীত করেন।এদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেন জিউপ্পি বলেছেন,মুসলমানদের পবিত্র রমজান মাসেও লিবিয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হবে।এ বিষয়ে মুহাম্মর গাদ্দাফি তার দেওয়া বক্তব্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টকে সামরিক অপরাধী ও মানসিক রোগী হিসাবে বর্ননা করেছেন।

এবার চীন ইস্তাম্বুলের বৈঠকে যোগ দেয় নি।অন্যদিকে ইস্তাম্বুলে রাশিয়া তদের পর্যবেক্ষন দল পাঠিয়েছে।মস্কোর দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে সে বিষয়ে রেডিও ভয়েস অব রাশিয়ার ওয়াশিংটন কেন্দ্রকে জানিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ।তিনি বলেছেন,‘নতুন লিবিয়ায় গাদ্দাফির স্থান আর নেই।অন্য বাকী সব বিষয় পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে।আমি বেনগাজীর লোকজনদের সাথে কথা বলেছি এবং তারা গাদ্দাফির সাথে আপসে যেতে প্রস্তুত রয়েছে।গাদ্দাফি লিবিয়ার অভ্যন্তরেই কোথাও বাস করতে পারবে.আমাদের অন্য একটি বিষয়ও ভাবতে হচ্ছে তা হল গাদ্দাফি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের নিয়ন্ত্রনে রয়েছেন।এখন  শুধুমাত্র সরকার গঠনের কথাই চিন্তা করলে চলবে না বরং কিভাবে দ্রুত সংঘর্ষ বন্ধ করে লিবিয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনা যায় সেটিও ভাবতে হবে'।

এদিকে সিরিয়ায় গত কয়েকদিন ধরেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে।গত শুক্রবার সিরিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়া বিক্ষোভ আন্দোলন যা বিগত যে কোন সময়ের থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল।বর্তমান প্রেসিডেন্ট বশির আল আসাদের পদত্যাগ চেয়ে ঐ দিন প্রায় ১০ লাখ মানুষ সিরিয়া জুড়ে মিছিল সমাবেশে অংশগ্রহন করে।রাজধানী দামাস্কসহ বিভিন্ন শহরে আন্দোলনকারীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ১০০ এরও বেশী আহত হয়েছে।দেশটির বিভিন্ন শহর এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রনে।সিরিয়ার সঙ্কট সমাধানের পথ সম্পর্কে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ বলেন, 'আমরা সিরিয়ায় শান্তি পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাব তবে তাকে বিচ্ছিন্ন করে নয়।অবশ্যই,প্রেসিডেন্ট আসাদ একাধিক ভুল করেছেন। গাদ্দাফির সাথে তুলনা করলে অবশ্য আসাদ সিরিয়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন।তিনি জরুরি পরিস্থিতি তুলে নিয়েছেন যা কয়েক দশক ধরে সিরিয়ায় জারি ছিল।তিনি বিরোধী দলকে আলোচনায় আসার আহবান জানিয়েছেন।ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং এখনও তা চলছে।অনেক বিরোধী দলের নেতাই এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার সম্মতি জানিয়েছে'।

আজকের দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে,এই আলোচনা পর্বের একটি প্রথম ফলাফলা যেন খুব শিঘ্রই পাওয়া যায়।এর  জন্য সরকারকে হানাহানির পথ থেকে সরে আসতে হবে এবং বিরোধী দলক বিশেষকরে তরুনরা যেন আর্মি ও পুলিশ বাহিনীকে খেপিয়ে না তোলা তারও নিশ্চয়তা দিতে হবে