রাশিয়ার ভলগা নদীতে ডুবে যাওয়া  ‘বুলগারিয়া’ জাহাজের উপরের অংশ টেনে তোলার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।ডুবে যাওয়া জাহাজটির বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জরিপ সম্পন্ন হয়েছে।সর্বেশেষ তথ্য অনুযায়ি ঐ দুর্ঘটনায় ১১৪ জন নিহত ও ১৫ জন নিঁখোজ রয়েছে।ডুবে যাওয়া জাহাজ থেকে শুধুমাত্র ৭৯ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের নির্দেশ মোতাবেক নিঃশব্দে তদন্তের কাজ এগিয়ে চলছে।ভয়াবহ এই দুর্যোগে জড়িতদের কেউই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।

গত ১০ জুলাই রাশিয়ার তাতারস্থান প্রদেশের ভলগা নদীতে ‘বুলগারিয়া’ জাহাজটি ডুবে যায়।জানা যায়, ঐ সময় আবহাওয়া নৌযান চলাচলের অনুকুলে ছিল না।উপকূল থেকে মাত্র ৩ কিলোমিটার অদুরে কয়েক মিনিটের মধ্যেই জাহাজটি ডুবে যায়।জাহাজের যাত্রী ধারনক্ষমতা ১৫০ জন হলেও সেই দিন মোট ২০৮ জন যাত্রী নিয়ে ‘বুলগারিয়া’ কাজান বন্দরের অভিমুখে রওনা হয়।তদন্ত কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা মূলত যে বিষয়টি বিশেষ নজরে দিচ্ছেন তা হচ্ছে,যানবাহনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অমান্য করা।

‘বুলগারিয়া’ জাহাজ ডুবির এই ট্রাজেডীর স্বীকার হয়েছে অনেক শিশু।সরকারি তথ্য অনুযায়ি,জাহাজে মোট ৬০ জন শিশু ছিল এবং এদের মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।জাহাজটি ডুবে যাওয়া মূহূর্তে এই শিশুরা নিচ তলার সঙ্গিত কক্ষে ছিল যেখানে তাদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান চলছিল।বেঁচে যাওয়া ১০ বছরের বালক দিনার জানায়, ‘জাহাজ উল্টে যাওয়ার সময় আমরা সবাই একদিকে চলে যাই এবং বৃহত আকারের পিয়ানো আমাদের শরীরে ওপর পরে।সবাই চিত্কার করতে থাকে।ঐ সময় এক বয়স্ক ব্যক্তি জানালার কাঁচ ভেঙ্গে শিশুদের বলেন, ‘এখান থেকে লাফ দাও,জাহাজ ডুবে যাচ্ছে’দিনার অবশ্য ভাল সাঁতার জানার কারণেই ঐ দিন বেঁচে যায়

এদিকে রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমীর পুতিন বৃহস্পতিবার কাজান সফরে যান এবং দুর্ঘটনার পরবর্তি কাজের খোঁজখবর নেনতিনি বলেন,সঠিক তদন্তের ফলে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবেপুতিন আরও বলেন,এটি সত্যিই ভয়ানক যে,শুধুমাত্র অসতর্কতা,নিজেদের ক্ষধা মেটানো এবং যান্ত্রিক নিরাপত্তার বিধিনিষেধ অমান্য করার কারণে আমাদেরকে এতগুলো মানুষের প্রানহানির ঘটনা মেনে নিতে হচ্ছেকিভাবে এই কোম্পানী পর্যটন কাজের লাইসেন্স পেয়েছে?জাহাজ ব্যবহারের অনুমতি না পেয়েই কিভাবে তা কাজ করেছে?কে অনুমতি দিয়েছে?বন্দর থেকে জাহাজ ছাড়ার কে অনুমতি দিয়েছে? কোথায় ছিল রসটেকনাদজোড়?,কোথায় ছিল রসট্রান্সনাদজোড়কোথায় এইসব দলিলপত্র?

এদিকে শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ রাষ্ট্রীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও তদন্ত কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে জরুরি বৈঠক করেন।মেদভেদেভ বলেন,এই দুর্ঘটনার সাথে সত্যিকার অর্থে দোষী ব্যক্তিদের কঠোর আইনের মুখমুখি হতে হবে।তিনি বলেন,এই অপরাধের সাথে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তিকে কঠোর শাস্তি ভোগ করতে হবে।শুধুমাত্র যারা কাগজে সই করেছে তারাই নয় বরং প্রতিটি ব্যক্তি যারা এই কাজে অংশ নিয়েছে।আগামী ভবিষ্যতের জন্য যেন সবাই সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে তারই ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।মনে রাখতে হবে যে, ‘বুলগারিয়া’ জাহাজের মত এই ধরনের জাহাজকে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দেওয়া শুধুমাত্র শৃঙ্খলা ভঙ্গ করাই নয় বরং তা একধরনের অপরাধ।

তদন্ত কমিটি ও প্রশাসন রাশিয়ার প্রতিটি বন্দরে অভিযান কার্যক্রম শুরু করেছে।যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে তা হল-জাহাজ ভাড়া নেওয়ার লাইসেন্স এবং পর্যটন সেবা প্রদানের অনুমতি রয়েছে কিনা।বর্তমানে রাশিয়ায়  নদীপথে ভ্রমন পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে এমন জাহাজের সংখ্যা হচ্ছে ১৫০টি।আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে এই সবগুলো জাহাজ পরীক্ষা করা হবে।

 ‘বুলগারিয়া’ জাহাজকে ভলগা নদীর কুইবীশেভ এলাকা থেকে টেনে তোলা হবে।যদিও এর জন্য প্রথমে ১৬ জুলাইকে নির্বাচন করা হলেও পরবর্তিতে তারিখ পরিবর্তন করা হয়।বিশেষজ্ঞরা বলেছেন,আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেই ১৮ জুলাই  ‘বুলগারিয়া’ জাহাজকে টেনে তোলা সম্ভব হবে।