ভারতবর্ষ আরও বেশী করে শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে অতিক্রম করে এগিয়ে গিয়েছে. ভারতের সঙ্গে পারমানবিক শক্তি শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহযোগিতা চুক্তি রাশিয়া, আমেরিকা, ফ্রান্স সহ আরও অন্যান্য দেশ স্বাক্ষর করেছে. আর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের পরেই ১৯৯৮ সালে পারমানবিক বোমা পরীক্ষার জন্য নেওয়া নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক ভাবে এখনও জারী রয়েছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    খনিজ তেল ও গ্যাসের সীমিত পরিমান এই দ্রুত উন্নতিশীল অর্থনীতির দেশ গুলিতে স্থানীয় অর্থনীতির চাহিদা মেটাতে পারমানবিক শক্তির বিষয়েই আগ্রহী করেছে, তাই দিল্লীতে ফুকুসিমা বিপর্যয়ের পরেও বলা হয়েছে যে, দেশ পারমানবিক শক্তি সংক্রান্ত পরিকল্পনা কোন ভাবেই খর্ব করবে না ও আগামী ২০২০ সালের মধ্যে বর্তমানের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশী বিদ্যুত শক্তি অর্থাত্ বিশ হাজার মেগাওয়াট এই দিক থেকেই উত্পাদন করবে.

    পাকিস্তানের পরিকল্পনা এই ক্ষেত্রে খুবই সীমিত. এক সময়ে পাকিস্তান থেকে লিবিয়াতে ও উত্তর কোরিয়াতে পারমানবিক প্রযুক্তি চালানের জন্য স্ক্যাণ্ডাল পারমানবিক ক্ষেত্রে বিশ্বের বহু দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের সহযোগিতার পথ কমিয়ে দিয়েছে. এই দিকে একমাত্র চিনের সঙ্গেই চলছে সফল সহযোগিতা.

    রাশিয়া ভারতের সঙ্গে পারমানবিক শক্তি ক্ষেত্রে খুবই সক্রিয় ভাবে সহযোগিতা করছে. কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে এই বছর শেষ হওয়ার আগেই দুটি রিয়্যাক্টর, প্রতিটি ১০০০ মেগাওয়াটের, চালু হয়ে যাবে. এই দুটি হবে ১৬ টি রিয়্যাক্টরের মধ্যে প্রথম দুটি. যেগুলি আগামী পাঁচ – সাত বছরের মধ্যে ভারতের সঙ্গে এক সাথে তৈরীর পরিকল্পনা রয়েছে.

    রাশিয়ার রসঅ্যাটম সংস্থার প্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো এই প্রসঙ্গে বলেছেন যে, "আমরা যে দেশ গুলির সঙ্গে সহযোগিতা করছি – তাদের মধ্যে কোন একটিও নিজেদের পারমানবিক পরিকল্পনা গুটিয়ে ফেলে নি. আমাদের প্রধান সহযোগী দেশ গুলির মধ্যে – ভারত ও চিন. অন্য ব্যাপার হল যে, আমাদের সহযোগী দেশ গুলিও তাই করছে, যা আমরা করছি. তারাও সমস্ত রকমের পরীক্ষা নিরীক্ষা চালাচ্ছে, সে গুলি যেমন চালু কেন্দ্র গুলিতে করা হচ্ছে, তেমনই নির্মীয়মান নতুন গুলিতেও. আমরা নিশ্চিত হতে চাই যে, সমস্ত প্রকল্প, যেখানেই রাশিয়া দেশের বাইরে কেন্দ্র তৈরী করছে, সেখানে যেন সব হয় একেবারেই নিরাপদ ও ভরসা যোগ্য".

    সের্গেই কিরিয়েঙ্কোর কথামতো, কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রকল্প খুবই বিশিষ্ট তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে. এত রকমের সক্রিয় ও প্রতিক্রিয়াশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশ্বের কোনও পারমানবিক কেন্দ্রে এর আগে কখনও করা হয় নি. নতুন কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি হবে সবচেয়ে কড়া স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী ও এই স্ট্যান্ডার্ড ফুকুসিমা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পরে নেওয়া মানের চেয়েও অনেক বেশী.