চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ পত্রে নিজেদের বিনিয়োগের ভবিষ্যত নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন. তারা আমেরিকার সরকারের কাছ থেকে বিনিয়োগ কারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য "ব্যবস্থা নিতে" দাবী করেছে. রেটিং সংস্থা মুডিস বিশাল বাজেট ঘাটতির পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা সম্বন্ধে রেটিং কম করার সম্ভাবনা ঘোষণা করার পরেই এই ঘোষণা চিন থেকে করা হয়েছে.

    চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ পত্রে (বন্ড) বিনিয়োগ করে রেখেছে প্রায় ১৫ লক্ষ কোটি ডলার – তাদের নিজেদের বিদেশী মুদ্রা তহবিলের প্রায় অর্ধেক. এই বছরের প্রথম পাঁচ মাসে তারা প্রত্যেক বারে আমেরিকার প্রশাসনের ঋণ পত্র কেনা কমিয়েছে, কিন্তু এখনও তারাই রয়েছে সবচেয়ে বড় ঋণ দাতা দেশ হিসাবেই.

    বিনিয়োগ কারীদের আমেরিকার বন্ড কেনার উত্সাহের কারণ একটাই যে, এটাকে বিশ্বের সবচেয়ে ভরসা যোগ্য বিনিয়োগ বলে মনে করা হয়েছে. আর উল্টোটা হল যে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের পক্ষ থেকে এই ঋণের বিনিময়ে প্রাপ্য সুদ ও তা প্রয়োজনে ফেরত নেওয়ার সম্ভাবনা রেটিং সংস্থাদের পক্ষ থেকে সংশয়ের বিষয় বলে মনে করা হয়ে থাকে, তবে বিশ্বের বাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে আশঙ্কা বাড়বেই. এই ধরনের পরিস্থিতিতেই আজ চিন পড়েছে, যখন বহু দশক পরে লাভের জন্য দৌড়ে বিশ্বের নেতৃত্বের "পতাকা" হাতে নেওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুবই বেশী রকমের টাল খেয়েছে.

    এই বছরের এপ্রিল মাসে, যা আগে ভাবা যেত না, তাই ঘটেছে. রেটিং সংস্থা "স্ট্যান্ডার্ড এন্ড পুয়োরস্" সাবধান করে দিয়েছিল যে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা "স্থিতিশীল" থেকে "নেতিবাচক" করবে. কারণ – বাইরের দেশের প্রতি নেওয়া অর্থনৈতিক দায়িত্বের ঝুঁকি খুবই বেশী মাত্রার. এই সংস্থার পদক্ষেপ যতটা হঠাত্ করে নেওয়া হয়েছে, ততটাই তা ছিল পরম্পরা মেনে. বিশেষজ্ঞরা, তাদের মধ্যে চিনের লোকেরাও আছেন, বহু দিন ধরেই আমেরিকার রেটিং সংস্থা গুলিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি খুবই প্রশ্রয়ের দৃষ্টি দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন. বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতই, দাবী করা হয়েছিল যে, মার্কিন সরকারের উপরেও ঋণ ফেরত নেওয়া নিয়ে, একই ধরনের মানদণ্ড ব্যবহার করার. চিনের রেটিং সংস্থা "দাগুনবাও" গত হেমন্তেই এই মানদণ্ড ব্যবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ গ্রহণের বিষয়ে রেটিং কমিয়ে দিয়েছিল. তখন বিশেষজ্ঞরা এর মধ্যে দুই দেশের মধ্যে বজায় থাকা ব্যবসা নিয়ে যুদ্ধের কারণে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখতে পেয়েছিলেন. একই সময়ে রেটিং সংস্থা "মুডিস" গত বৃহস্পতিবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রেটিং কমানোর কথা বলাতে "দাগুনবাও" সংস্থার পূর্বাভাসের ন্যায় সঙ্গত হওয়াটাই আবার করে দেখা গিয়েছে.

    ২রা আগষ্টের আগে যদি মার্কিন কংগ্রেসে সম্ভাব্য সরকারি ঋণের মাত্রা বাড়ানো সম্ভব হয়, তবে আবার করে ডলার ছাপানোর যন্ত্র চালু হবে, যাতে এই ঋণের জন্য সুদ ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়. যদি তা না হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্ম সংক্রান্ত ধার বাকী পড়বে. তবে এটাও সত্যি যে, সম্পূর্ণ রকমের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পতন এর জন্য হবে না, এই বিষয়ে ভরসা জানিয়ে রুশ ব্যবসা পরামর্শ সংবাদ সংস্থার বিশ্লেষণ দপ্তরের প্রধান আলেকজান্ডার ইয়াকভলেভ বলেছেন:

    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের পরিমান এখন সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশী মাত্রা পার হয়ে গিয়েছে. এই বিষয়ে যথেষ্ট বেশী পরিমানে উদ্বেগ রয়েছে সেখানেই ও বিশ্বের সমস্ত দেশের, যারা এই ধরনের বন্ড কিনেছে. একই সঙ্গে আগামী কাল, পরশু অথবা এই বছরে আমরা সাধারন ভাবে হওয়া দেউলিয়া অবস্থা যে দেখবো, তা বলার মতো কোন গুরুত্বপূর্ণ কারণ নেই".

    এই ব্যাপারটা সেই চিনই হতে দেবে না, জাপান ও গ্রেট ব্রিটেনও সঙ্গে আছে – কারণ তাদের কাছেই এই বন্ড সবচেয়ে বেশী. তাদের আছে মোটে দুটো পথ – হয় সব বন্ড নিয়ে আমেরিকাকে বলা ধার ফেরত দিতে একবারে, অথবা, আমেরিকার শেয়ার বাজারে সবচেয়ে বড় মাপের খেলোয়াড় হয়ে থাকা বজায় রাখা. বোঝাই যাচ্ছে যে, স্বাভাবিক ভাবেই তারা দ্বিতীয় পথটাই বেছে নেবে. কিন্তু য়ে কোন অবস্থাতেই তাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতিই থাকবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য. আর তা হল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের স্বার্থকে আগের মতই গড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার দরকার কি আছে, যখন এমনিতেই বিশ্বের বাজারে প্রতিযোগিতা খুবই তীক্ষ্ণ হয়েছে.