রাশিয়াতে এই বছরে দানা শষ্যের ফসল উঠবে পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রায় ৯ কোটি টনের বেশী. এই সম্বন্ধে দেশের মন্ত্রীসভায় প্রথম সহকারী প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর জুবকভ ঘোষণা করেছেন. বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, ২০১০ সালের গরমে খরার পরে এই বছরে কৃষি শিল্প আবার পুনর্বহাল হতে পারে. কিন্তু বিশেষজ্ঞরা যোগ করেছেন যে, রাশিয়ার পক্ষে খুবই সহজ হবে না বিশ্বের শষ্য বাজারে ফিরে আসার, যে অবস্থান রাশিয়া রপ্তানী বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে হারিয়েছে.

রাশিয়ার প্রশাসন ও কৃষি শিল্পে নিযুক্ত লোকেদের অবশ্য আশা করার কারণ রয়েছে. এই বছরে সমস্ত রকমের আবহাওয়া সংক্রান্ত গরমিল স্বত্ত্বেও প্রচুর ফসল হতে চলেছে. নতুন পূর্বাভাস – ৯ কোটি টন. এই সংখ্যা প্রশাসনের অধিবেশনে উল্লেখ করেছেন সহকারী প্রধানমন্ত্রী ভিক্তর জুবকভ. এর আগে এর থেকে কিছুটা কম পরিমানের কথা বলা হয়েছিল – সাড়ে আট কোটি টন. দেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের খবর অনুযায়ী ১২ই জুলাইয়ের মধ্যে ৭৫ লক্ষ টন শষ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে. বিশেষ করে জুবকভ উল্লেখ করেছেন যে, এই বছরে বাক হুইট ও বার্লি হয়েছে অনেক. গত বছরে খরা ও দাবানলের কারণে কম ফসল হওয়ার জন্য এই দুটিই সবচেয়ে বেশী হারে দামে বেড়েছিল. জুবকভের মতে ফসল বেশী হওয়াতে এই বছরে দাম ধরে রাখা সম্ভব হবে.

আর্কাদি জ্লোচেভস্কি, রাশিয়ার দানাশষ্য সংঘের সভাপতি, এই ফসল নিয়ে আশাব্যঞ্জক পূর্বাভাসের সঙ্গে একমত. কিন্তু অন্য দিক থেকে, তাঁর মতে, এর ফলে ফসলের দাম খুবই কমে যাবে. আর এর ফলে চাষের কাজে থাকা লোকেদের জন্য এটা নির্দিষ্ট সমস্যারই সৃষ্টি করবে. এই কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন:

"ফসল খুব ভাল হয়েছে, মুখ্য হল এটা তোলা. আমাদের দুঃখের বিষয় হল যে, যথেষ্ট যন্ত্রপাতি নেই, একটা কম্বাইন দিয়ে ৩৩০ হেক্টর জমিতে কাজ করতে হয়ে থাকে. প্রসঙ্গতঃ আমাদের সহকর্মীরা আমেরিকা ও ইউরোপে ১৫০ হেক্টরের বেশী একটা কম্বাইন দিয়ে কাজ করে না. এবারে মাঠে একেবারে গাছের গোড়া থেকে ফসল প্রচুর, কিন্তু সেটা তো তুলতেও হবে. আশা করব যে, আবহাওয়া এবারে আমাদের নিরাশ করবে না. দাম ইতিমধ্যেই কমতে শুরু করেছে. স্বাভাবিক ভাবেই এটা এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় সমস্যা, কারণ দাম এর মধ্যেই যতটা মেনে নেওয়া যেতে পারে, তার থেকেও নীচে নেমে গিয়েছে তৃতীয় শ্রেনীর গমের দাম ৬ হাজার রুবলের কম প্রতি টনে. আর এই ৬ হাজার রুবলের স্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ".

দানা শষ্যের প্রচুর ফলন রপ্তানিকে বাড়াবে, বলে খবর দিয়েছেন ভিক্তর জুবকভ. রাশিয়ার শুল্ক দপ্তরে এর মধ্যেই ৬৫ লক্ষ টনের বিদেশে রপ্তানীর আবেদন পত্র জমা পড়েছে. নিষেধাজ্ঞা থাকার সময়ে যা ক্ষতি হয়েছে, তা কোম্পানী গুলি পূরণ করতে চাইছে. গত বছরের আগষ্ট মাস থেকে এই বছরের ১লা জুলাই অবধি দেশী কোম্পানী গুলি শষ্য চালান দিতে পারে নি. এখন আগের জায়গা বিশ্বের বাজারে ফিরে পেতে খুব একটা সহজ কাজ হবে না, এই রকমের সাবধান বাণী দিয়ে খাদ্য দ্রব্যের কোম্পানী ইউনি - গ্রেইন এর জেনারেল ডিরেক্টর আলেক্সেই দ্যুমুলেন বলেছেন:

"এর জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ জোর খাটাতে হবে আর দুঃখের বিষয় হল সময়ও দিতে হবে. কারণ আজ আমাদের বিশ্বের বাজারে ফেরা আসলে খুব ভাল হচ্ছে না. বিশ্বের শষ্যের ভারসাম্য নষ্ট হয় নি, কোন রকমের ঘাটতিও বাজারে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না, খুব একটা ভাল সময় নয় ফেরার জন্য – এটা একটা শষ্যের ঋতুর শেষ ও আরেকটার শুরু. ঐতিহ্য মেনে যে সমস্ত বাজারে আমরা শষ্য রপ্তানী করতাম, এটা প্রাথমিক ভাবে মিশর, তারা আমাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আগেই এই বছরের জন্য ফ্রান্সের সাথে চুক্তি করে ফেলেছে".

প্রসঙ্গতঃ আপাততঃ রাশিয়ার কৃষি শিল্প ২০১০ সালের পতনের পরে সম্পূর্ণ ভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে নি. ২০০৯ সালের চেয়ে কমই হবে এই ৯ কোটি টন শষ্য, যখন দেশের কৃষিতে ফসল তোলা সম্ভব হয়েছিল ৯ কোটি ৭০ টন. সরকার গ্রামকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে, আর এখন বেশ কয়েকটা বড় নির্দিষ্ট লক্ষ্য সমেত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার কাজ হচ্ছে. কিন্তু তত্কালীণ ফল, বিশেষজ্ঞদের মতে আশা করা ঠিক হবে না.