বুধবার সন্ধ্যা বেলায় তিনটি বিস্ফোরণ, যা মুম্বাই শহরের বিভিন্ন এলাকায় হয়েছে, তা বিভিন্ন মূল্যায়ণে বলা হয়েছে ১৭ থেকে ২১ জন নিরীহ মানুষের নিহত হওয়ার কারণ হয়েছে, এই সংবাদ খালি ভারতবর্ষই নয়, সারা বিশ্বেও শিহরণ জাগিয়েছে.

    আজ বিশ্বে সর্বত্রই সন্ত্রাসবাদ এক সকলের বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর একজন মানুষও নেই, যে নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে বিপদ মুক্ত বলে ভাবতে পারে. কিন্তু এমনকি সারা বিশ্বের পট চিত্রে মুম্বাই আলাদা হয়ে গিয়েছে এখানের নিয়মিত ও হিংসা পূর্ণ সন্ত্রাসের ফলে.

    কেন মুম্বাই নিজের প্রতি এত সন্ত্রাসবাদীদের নজর কেড়েছে? এর কয়েকটি কারণ আছে. এটা ভারতের অন্যতম বড় শহর, তার স্বীকৃত অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র. এক ভাবে ভারতের ভিজিটিং কার্ড. এখানেই ভারতের বিখ্যাত স্থাপত্য গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া রয়েছে. যদিও বর্তমানে বেশীর ভাগ অতিথিই ভারতে আসেন আকাশ পথে, সমুদ্র পথে নয়, তাও সমুদ্র তীরে এই তোরণ, আজও ভারতীয় অতিথি পরায়ণতার প্রতীক হয়ে রয়েছে. বিশেষ করে মুম্বাই য়ে কোন ভারতীয়ের মনে যে বিশেষ জায়গা নিয়ে আছে, তার জন্যই এখানে ঘটা যে কোন সন্ত্রাসবাদী ঘটনাই প্রতিধ্বনি তোলে. আর এটাই সন্ত্রাসবাদীদের জন্য এই শহরকে সবচেয়ে লোভনীয় করে তুলেছে.

    ১৩ই জুলাইয়ের সন্ত্রাসবাদী হামলা সম্বন্ধে বলতে গিয়ে ২০০৮ সালের তিনটি ভয়ঙ্কর দিনের কথা স্মরণ করেছেন, যখন সন্ত্রাসবাদীরা সারা শহরকেই আতঙ্কে রেখেছিল. তখনকার সন্ত্রাসবাদী আক্রমণে প্রাণ গিয়েছিল ১৬৬ জনের. অন্য একটা বিষয়ও মনে করা যেতে পারে, আরও বেশী রক্তপাতের কারণ হয়েছিল ২০০৬ সালে ট্রেন গুলিতে বিস্ফোরণ – যখন ২০০ লোক মারা গিয়েছিলেন.

    এই সন্ত্রাসবাদী ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কে পি চিদাম্বরম তাঁর কথা ব্যবহারের বিষয়ে খুবই সতর্ক ছিলেন. তিনি বলেছেন, এখনও কে বা কোন শক্তি এই সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড করেছে ও তাদের লক্ষ্য কি তা নির্দিষ্ট করে বলা তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে. তা স্বত্ত্বেও তিনি নির্দেশ করতে ভোলেন নি যে, ভারতের পশ্চিমে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মত সেই সমস্ত দেশ রয়েছে, যেখানেই এই ধরনের উত্তেজনার কেন্দ্র রয়েছে.

    এখন অবধি কোন সন্ত্রাসবাদী দলই নিজেদের উপরে এই কাণ্ডের দায়িত্ব নিতে চায় নি, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি উল্লেখ করেছেন:

    "কোন একটি দলকে অভিযুক্ত করা এখন তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে, আপাততঃ খুঁটিয়ে তদন্ত করা শেষ হয় নি. কিন্তু অনেক পর্যবেক্ষকই এই ধারণা করেছেন যে, প্রধান অভিযুক্তের নাম খুব শীঘ্রই করা হবে – সরকারি ভাবে তদন্ত শেষ করার অনেক আগেই. এখানের সংবাদ মাধ্যমে ইতিমধ্যেই খবর বেরিয়েছে যে, বিস্ফোরকের ধরন "লস্কর এ তৈবা" গোষ্ঠীর দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করে, আর এখান থেকেই পাকিস্তানের বিশেষ গুপ্তচর সংস্থার যোগাযোগ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরী হবে না, যাদের কিছু লোক এই সংগঠনের সঙ্গেই জড়িত. তার উপরে ২০০৮ সালের জোরালো সন্ত্রাসবাদের ঘটনার সূত্র সেই পাকিস্তানেই নিয়ে গিয়েছিল".

    কিন্তু এখানে ভুললে চলবে না যে, এই বিশ্বায়ন হওয়া পৃথিবীতে যে কোন দেশেরই শত্রু হল সন্ত্রাসবাদীরা. আর পাকিস্তান এই ঘটনা গুলি থেকে একই ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেমন হয়ে থাকে অনেক অন্য দেশও, এই কথা উল্লেখ করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

    "মুম্বাইয়ের সন্ত্রাসের ঘটনা গুলি ভারত – পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার আসন্ন পর্যায়ের আগেই ঘটেছে. তাই খুবই সহজে ধারণা করা যায় যে, সন্ত্রাসবাদীদের লক্ষ্য ছিল এই রকমের একটা পরিস্থিতি তৈরী করা, যেখানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভরসা উদ্রেক কারী কোনও আলোচনাই হতে না পারে".

0    তদন্ত থেকে নির্ণয় হবে, কে সত্যি এই বিষয়ে আগ্রহী. আর আপাততঃ দায়িত্বশীল বিশেষজ্ঞরা কোন রকমের দ্রুত ও তার উপরে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন.