রাশিয়া- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দত্তক নেওয়া সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, ভিসা ব্যবস্থা সহজ করার বিষয়ে সহমতে এসেছে ও ইউরোপে আমেরিকার রকেট বিরোধী ব্যবস্থা নিয়ে কথাবার্তা চালু রেখেছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান সের্গেই লাভরভের তিন দিন ব্যাপী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফরের এটি হল প্রধান ফলাফল.

সফরের সম্পূর্ণ কাজকর্ম নিয়ে বলতে গিয়ে মন্ত্রী ফলাফল সংক্রান্ত সাংবাদিক সম্মেলনে বুধবার সন্ধ্যায় ঘোষণা করেছেন:

"এই সফর ছিল খুবই কর্মসূচীতে ভরপুর. হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার সঙ্গে দেখা হয়েছে, আমাদের আলোচনা হয়েছে রাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে. মঙ্গলবারে আমি মার্কিন সেনেটের আন্তর্জাতিক বিষয়ে পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছি, তার সঙ্গেই রুশী আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও, যাঁদের বহু আগ্রহ জনক প্রকল্প রয়েছে, আমাদের দুই দেশের মানুষদের আরও ঘনিষ্ঠা করার জন্য. মঙ্গলবারেই আমার "রেডিও রাশিয়ার" ওয়াশিংটন স্টুডিওতে, যেখান থেকে ইংরাজী ভাষায় প্রচার করা হয়ে থাকে, সেখানে সাক্ষাত্কার ছিল".

দত্তক নেওয়া নিয়ে এখানে আনুষ্ঠানিক ভাবে স্বাক্ষরিত চুক্তি খুবই কম সময়ের মধ্যে তৈরী করী হয়েছিল – এক বছর, এক মাস ও দুই দিনের মধ্যে. একই ধরনের চুক্তি মস্কো ও রোমের মধ্যে হয়েছিল চার বছর ধরে. এই দলিল নিয়ে কাজ সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু করা হয়েছিল, যখন, গত বছরের এপ্রিল মাসে, আমেরিকার এক দত্তক নেওয়া মা, তার সাত বছরের বাচ্চা ছেলেকে এক বিমানে চড়িয়ে রাশিয়া পাঠিয়ে দেয়, একটি ছোট চিরকুটে – আমার আর একে দরকার নেই – লিখে. তারপর থেকে আমেরিকায় দত্তক নেওয়া লোকেদের নিয়ে স্ক্যাণ্ডাল আরও বেশী করে শোনা যাচ্ছিল. যেমন, প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল যে, এক আলাস্কা অঞ্চলের মহিলা তার দত্তক নেওয়া রুশ বাচ্চাকে শিক্ষা দিচ্ছিল খুব ঝাল স্যস দিয়ে মুখ ধুতে বাধ্য করে. এই কারণেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র দপ্তরে দত্তক নেওয়া নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান করতে গিয়ে সের্গেই লাভরভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন:

"এই চুক্তি ভরসা যোগ্য আশ্বাস রয়েছে, যা আমাদের বিশ্বাস করতে দেয় যে, দত্তক নেওয়া লোকেরা মানসিক ভাবে ও মনস্তাত্বিক ভাবে ভারসাম্য রাখবেন. এই দত্তক নিতে চাওয়া লোকেরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রতিনিধিদের পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে পার হতে পেরেছেন ও তাঁরা রাশিয়ার কূটনীতিবিদদের নিজেদের পরিবারে ও দত্তক নেওয়া ছেলে মেয়েদের সময় সুযোগ মত দেখে আসতে দেবেন".

পূর্বাভাস স্বত্ত্বেও রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভিসা সংক্রান্ত সহজ করার চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হয় নি. কিছু খুঁটিনাটি এখনও বাকী রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে সের্গেই লাভরভ আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই চুক্তি এই বছরে ঠিকই কার্যকর হবে, ক্রিসমাসের অনেক আগেই এমনকি ক্যাথলিক ক্রিসমাসের ও আগে. তাঁর সহকর্মী – রাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন আমেরিকার পক্ষের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এই ক্ষেত্রে সহজ করার বিষয়ে আগ্রহের কথা বিশেষ করে বলেছেন:

"ব্যবসায়ীদের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যাঁরা ৩৬ মাস ধরে আমাদের দুই দেশের মধ্যে একটি মাত্র ভিসা ব্যবহার করে বহুবার যাতায়াত করতে পারবেন".

একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে ছাত্রদের জন্যও, আর সরকারি প্রশাসনের কর্মচারীরা পাবেন এক বছরের বহুবার ব্যবহার যোগ্য ভিসা.

বিশ্বের উত্তপ্ত এলাকা গুলি নিয়ে আলোচনায় কোন চাঞ্চল্যকর সংবাদ তৈরী করে নি. আলোচনার মোট ফল নিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সের্গেই লাভরভ মনে করিয়ে দিয়েছেন য়ে, লিবিয়া হচ্ছে একটি সেই রকমের প্রশ্ন, যেখানে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সব সময়ে এক জায়গায় থাকে না. তিনি নির্দিষ্ট করে বলেছেন যে, এটা রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত কি ভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তার বিষয়ে. কিন্তু মস্কো ও ওয়াশিংটন এক বিষয়ে একমত – লিবিয়াতে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শুরু করা দরকার. মন্ত্রী একই সঙ্গে সমর্থন করে বলেছেন য়ে, রাশিয়া সিরিয়াতে প্রশাসন ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে আলোচনার পথ করে দেওয়া নিয়ে সহায়তা করবে. আর আমেরিকার সাংবাদিকের প্রশ্নে – "যে আপনি কেন সিরিয়ার নেতা আসাদের সমালোচনা করতে চাইছেন না", সের্গেই লাভরভ উত্তর দিয়ে বলেছেন:

"কূটনীতি সেই কারণে নেই যে, শুধুমাত্র কাউকে সমালোচনা করে তাত্ক্ষণিক ভাবে নিজেদের রাজনৈতিক মূল্য বৃদ্ধি করা যাবে বলে. কূটনীতি প্রয়োজন সমস্যার সমাধানে, আর শুধু সমালোচনা দিয়ে, তার সঙ্গে কোন রকমের গঠন মূলক প্রস্তাব আলোচনার জন্য উল্লেখ না করে, আমরা কোথাও কিছুই সমাধান করতে পারবো না, তা যেমন সিরিয়াতে নয়, তেমনই বিশ্বের অন্য কোথাওই নয়".

এই সফরের সময়ে মস্কোতে বারাক ওবামার পরবর্তী সফরের সময় সূচী নির্ধারণ করা সম্ভব হয় নি. কারণ – রকেট বিরোধী ব্যবস্থা সম্বন্ধে বিতর্ক, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইউরোপে করছে. এই সফরের কোন অর্থ হত, যদি দুই দেশের রাষ্ট্রপতিরা উদাহরণ স্বরূপ কোন যৌথ বিবৃতি রকেট বিরোধী ব্যবস্থা সম্বন্ধে দিতে পারতেন. রাষ্ট্রপতি ওবামার সঙ্গে আলোচনার আগে লাভরভ ঘোষণা করেছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রকেট বিরোধী ব্যবস্থা ইউরোপে প্রসার এখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় হয়ে রয়েছে. তাঁর কথামতো, মস্কোর এই ধরনের ব্যাখ্যা যথেষ্ট মনে হচ্ছে না যে, এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের রকেট আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই করা হচ্ছে. ওয়াশিংটনে আপাততঃ রাশিয়ার সঙ্গে একসাথে রকেট বিরোধী ব্যবস্থা তৈরী করার আহ্বান কোন রকমের বোধোদয় এখনও করাতে পারে নি. তবে এটা সত্য যে, লাভরভ যেমন ঘোষণা করেছেন যে, বারাক ওবামা আবারও রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার সমস্যা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন.