আফগানিস্তানে দেশের রাষ্ট্রপতির ভাইয়ের হত্যা কাণ্ডের পরিস্থিতি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে. জানানো হয়েছে যে, আহমেদ ভালি কারজাইকে গুলি করে হত্যা করেছে তারই দেহ রক্ষী. এই ঘটনার দায়িত্ব নিয়েছে তালিবান আন্দোলন. আর ন্যাটো জোটের প্রতিনিধিরা, প্রয়োজনীয় সমবেদনা জানিয়ে এই জরুরী অবস্থা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে. জোটের সরকারি প্রতিনিধি এই অপরাধকে ন্যাটো জোটের আফগানিস্তানে মিশন সম্পূর্ণ করা প্রয়োজনীয় হওয়ার প্রমাণ বলে নাম দিয়েছেন. একই সময়ে আফগানদের কিছু কম অভিযোগ নেই. অনেকেই যে ভাবে এখান থেকে বাহিনী প্রত্যাহারের তোড়জোড় চলছে, তাতে খুশী নন.

    পশ্চিমের সামরিক বাহিনীর লোকেরা, যারা এখন আফগানিস্তানে রয়েছেন, যদিও দল বেঁধে নয়, তাও এখনই বাক্স পেঁটরা বাঁধতে শুরু করেছেন. অংশতঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সম্মিলিত ভাবে ন্যাটো জোট সেনা আংশিক প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে. ওয়াশিংটন শুধু এই বছরেই দেশে ১০ হাজার সেনা ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চায়, ২০১২ সালে আরও ২৩ হাজার সেনা ঘরে ফিরে যাবেন. ন্যাটো জোটেরও একই ধরনের পরিকল্পনা. জোটের নেতৃত্ব এখনই ঘোষণা করেছে যে, ২০১৪ সালে এই এলাকাতে ন্যাটো জোটের কোনও ঘাঁটি আর থাকবে না. এখনই নেতৃত্ব বিভিন্ন প্রদেশে স্থানীয় লোকেদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে শুরু করেছে. এই সম্বন্ধে বাল্খ রাজ্যের রাজ্যপালের তথ্য সম্পাদক মুনির ফারহদ রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাত্কারে বলেছেন:

    "১৮ই জুলাই আফগানিস্তানের লোকেদের হাতে বাল্খ রাজ্যের নিরাপত্তার দায়িত্ব চলে আসবে. অবশ্যই আমরা এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের জন্য অনেকদিন ধরেই প্রস্তুতি নিয়েছি – কিন্তু এই দায়িত্ব আসবে বিভিন্ন ধাপে. আপাততঃ বিদেশী সেনা বাহিনী আমাদের দরকারে সাহায্য করবে. আমি মনে করি যে, ২০১৪ সাল – এটা সম্পূর্ণ ভাবে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার জন্য বাস্তব সময়. যদি সবই এই রকম করে হতে থাকে, যে ভাবে ভাবা হয়েছে – আর আমরা এটাই আশা করছি – আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র দপ্তর সম্পূর্ণ ভাবে তৈরী হয়ে যাবে, নিজেদের দেশ নিজেরাই রক্ষা করার জন্য".

    খাতায় কলমে আমেরিকা ও তার ইউরোপীয় সহযোগীদের পরিকল্পনাকে মনে হয়েছে অভিযোগের উর্দ্ধে. আর স্থানীয় ভাবে আফগানিস্তানের সরকারি কর্মচারীরা হয় নিজেদের উপরে দায়িত্ব নিতে তৈরী নন, অথবা ক্ষমতা ব্যবহার করে থাকেন নিজেদের স্বার্থে. যেমন, মঙ্গলবারে দেলারাম প্রদেশের প্রশাসনের প্রধানকে ও তার দুই ছেলেকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে কারণ তদন্তে জানা গিয়েছে যে, তারা নিজেরাই শুধু মাদক ব্যবসা করত না, তার সঙ্গে আরও এই ধরনের লোকেদের গোপন রাখার ব্যবস্থাও করত. এই ধরনের পরিস্থিতিতে পশ্চিমের সামরিক বাহিনীর লোকেরা ও তাদের উপদেষ্টাদের উচিত এই দেশের রক্ষা বাহিনীর লোকেদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও নিরাপত্তা রক্ষা করা, এই কথা উল্লেখ করে আফগান পার্লামেন্টের সদস্য শাহ গুল রেজাই বলেছেন:

    "বর্তমানে দুঃখের বিষয় হল, আমাদের দেশ শুধু নিরাপত্তার প্রশ্নেই নয়, অর্থনৈতিক ভাবে ও রাজনৈতিক ভাবে ন্যাটো জোট ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরে নির্ভরশীল. আমাদের দেশের রক্ষা কর্মীরা নিজেদের উপরে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে এখনও তৈরী নয় – প্রসঙ্গতঃ যেমন তা প্রযুক্তিগত বিষয়ে, তেমনই মানসিক ভাবেও. আফগান পার্লামেন্ট বিগত বছর গুলিতে ক্রমাগত দাবী করে এসেছে যাতে সরকার গুলি, যাদের সেনা বাহিনী আজ দেশের মাটিতে রয়েছে, তারা প্রধান জোর দেন এই দেশের রক্ষী বাহিনীর প্রশিক্ষণে, তা যেমন সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে, তেমনই অন্যান্য ক্ষেত্রে. কিন্তু তারা প্রাথমিক ভাবে নিজেদের দেশের সেনাবাহিনীর দেখ ভাল করেছে, যদি আমাদের দেশের সামরিক মন্ত্রণালয়েই কয়েকদিন আগে সন্ত্রাস করা সম্ভব হয়ে থাকে, তবে কি করে বলা যেতে পারে যে, দেশের সামরিক বাহিনী দেশ রক্ষা করতে প্রস্তুত. প্রায় প্রত্যেক দিনই বাস্তবে সমস্ত রাজ্যেই সন্ত্রাসবাদী ক্রিয়াকলাপ চলছে".

    বর্তমানের পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানে বহু লোকই সোভিয়েত সেনা বাহিনীর প্রত্যাহারের সঙ্গে তুলনা করছেন. আর তুলনা করতে গিয়ে রাজনৈতিক পর্যালোচক ওয়াহিদ মুঝা আমেরিকার বা ন্যাটোর পক্ষে করেন নি, তিনি বলেছেন:

    "আফগানিস্তান থেকে যখন সোভিয়েত সেনা বাহিনী চলে গিয়েছিল, তখন আফগান সেনা বাহিনীর কোন রকমের প্রয়োজন বাকী ছিল না, শক্তিশালী ও আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সম্পূর্ণ ভাবে সজ্জিত ছিল. কিন্তু দেখা গেল যে, সমস্ত কিছু স্বত্ত্বেও তারা মোজাহেদ দের বিরুদ্ধে জিততে পারল না, যারা তখন গেরিলা যুদ্ধ চালিয়েছিল. আজও এই ধরনের গেরিলা যুদ্ধ চলছে (তালিবদের পক্ষ থেকে), কিন্তু আমাদের সামরিক বাহিনীর কাছে এখন পর্যাপ্ত অস্ত্র আর রসদ নেই – অন্ততঃ, এখন অবস্থা সোভিয়েত বাহিনী প্রত্যাহারের চেয়েও অনেক খারাপ. আর তাই আফগানিস্তান থেকে চলে যাওয়ার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্নের সমাধান করা উচিত. আর তার পরে যেতেই পারে – কেউ তাদের এখানে আটকাতে চাইবে না".

    ইউরোপের লোকেরা লুকোতে চাইছে না যে, তারা তাদের সেনা বাহিনী যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে নিতে চায়. ওয়াশিংটন বেশী সাবধান হয়েছে, তারা উল্লেখ করেছে যে, এখন অবধি যে সাফল্য পাওয়া গিয়েছে, তা তারা হারাতে চায় না. একই সঙ্গে সামরিক মন্ত্রণালয়ের বহু জেনেরাল লুকোচ্ছেন না যে, বারাক ওবামার পরিকল্পনা ভুল. এখনই নানারকমের প্রস্তাব করা হচ্ছে, যাতে সেনা প্রত্যাহার করা হয় আরও ধীরে. যদিও এটা সত্য যে, তাতেও কেউ আশ্বাস দিচ্ছে না যে, আফগানিস্তানের সেনা বাহিনীর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হতে পারে.