রাশিয়া- আমেরিকার বর্তমানের সম্পর্ক উন্নতি করছে. হোয়াইট হাউসের আগের গৃহ কর্তাদের চেয়ে রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার প্রশাসন, যারা ঘোষণা করেছেন সম্পর্ক প্রক্রিয়ায় পুনরুদ্ধারের বিষয়ে, তা নীতিগত ভাবেই পৃথক. এই বিষয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এক একান্ত সাক্ষাত্কারে "রেডিও রাশিয়ার" মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডিওতে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন. মন্ত্রণালয়ের প্রধান আমেরিকার রাজধানীতে স্টুডিও খোলার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন ও তাঁর আস্থা প্রকাশ করে বলেছেন যে, এর ফলে আমেরিকার মানুষেরা রুশ দেশ সম্বন্ধে বেশী করে জানতে পারবে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সফরের সময়ে সের্গেই লাভরভ আমেরিকার রাজনীতিবিদদের সঙ্গে দেখা করেছেন ও ইজরায়েল – প্যালেস্টাইন বিরোধের মীমাংসার জন্য নিকট প্রাচ্য চতুষ্টয়ের (রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাষ্ট্রসংঘ ও ইউরোপীয় সংঘ) মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন. "রেডিও রাশিয়ার"স্টুডিওতে তিনি সবচেয়ে তীক্ষ্ণ আন্তর্জাতিক সমস্যা গুলি নিয়ে বর্ণনা দিয়েছেন ও রুশ – আমেরিকা সম্পর্কের সুক্ষ বিষয় গুলি সম্বন্ধে বলেছেন.

এই গুলিকে ব্যাখ্যা করে লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, দিমিত্রি মেদভেদেভ ও ভ্লাদিমির পুতিনের তাঁদের রাষ্ট্রপতি থাকা কালীণ সময়ে "খুবই ভাল" ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশের সঙ্গে. কিন্তু এই সম্পর্ক গুলি খুব ভাল ছিল শুধু রাষ্ট্রপতি পর্যায়ে, তাই তিনি যোগ করে বলেছেন:

"আরও নীচের পর্যায়ে আমরা নির্দিষ্ট কৃত্রিম "বিরক্তিকর" বিষয়ে সঙ্গে ঠোক্কর খেয়েছি, আর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে শুধু ডেমোক্র্যাট দলের ক্ষমতায় আসার সঙ্গেই. এখন আমাদের আরও অনেক বেশী উন্নত সহযোগিতা, যা শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতিদের ভাল সম্পর্কের সঙ্গেই জড়িত নয়. এর প্রমাণ হতে পারে রাষ্ট্রপতি দ্বয়ের পরিষদের কাজকর্ম, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রসচিব ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের অংশগ্রহণের ফলে প্রায় ২০টি কার্যকরী পরিষদে আজ হচ্ছে. নূতন প্রশাসনের নূতন ভাবে নেওয়া পথ একই সঙ্গে সাহায্য করেছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্রসজ্জা সংক্রান্ত তৃতীয় চুক্তি স্বাক্ষরে ও তার অবশেষে মার্কিন কংগ্রেসে গৃহীত হওয়াতে".

বোঝাই যাচ্ছে যে, এখানে কথা হয়েছে ঐক্যবদ্ধ ইউরোপীয় রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিষয়ে রাশিয়ার অংশগ্রহণ নিয়েও. এই আলোচনায় আপাততঃ বিশেষ কোন সাফল্যই আসে নি. লাভরভ যেমন মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০০৯ সালের জুলাই মাসেই দুই দেশের রাষ্ট্রপতিরা ঘোষণা করেছিলেন যে, এই বিষয়ে একসাথে কাজ করা হবে. আলোচনা আজও চলছে রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের সঙ্গে. কিন্তু সমস্যা হয়েছে যে, যদিও আলোচনা এখনও শেষ হয় নি, ন্যাটো জোট ইতিমধ্যেই রকেট বিরোধী ব্যবস্থার কিছু মৌল আমেরিকার পরিকল্পনা অনুযায়ী স্থাপন করা শুরু করেছে.

নিকট প্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্বন্ধে বলতে গিয়ে ও উত্তর আফ্রিকার অবস্থা সম্বন্ধে উল্লেখ করে, মন্ত্রী কিছু পশ্চিমের বিশেষজ্ঞদের ধারণাকে নাকচ করে দিয়েছেন, তাঁরা ধারণা করেছিলেন যে, রাশিয়া নিশ্চয়ই লিবিয়াতে মুহম্মর গাদ্দাফিকে সহায়তা করছে. লাভরভ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, যখন গাদ্দাফি তাঁর নিজের দেশের জনগনের উপরে বোমা বর্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, রাশিয়া সেই মূহুর্তে তাঁর কাজের সমালোচনা করেছে ও রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭০ নম্বর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিল, যা অনতিবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা ও লিবিয়াকে কোন রকমের অস্ত্র সরবরাহ করা থেকে বিরত করার জন্য নেওয়া হয়েছিল. কিন্তু পরবর্তী ১৯৭৩ নম্বর সিদ্ধান্তে যখন সেই দেশের উপরে আকাশ পথ উড়ান শূণ্য করার জন্য নেওয়া হয়েছিল, তখন রাশিয়া তা সমর্থন করতে পারেনি, উল্লেখ করেছেন লাভরভ. প্রাথমিক ভাবে এই কারণে যে, তার ফলে যে কোন দেশের পক্ষে যে কোন রকমের কাজ করা সম্ভব হয়েছে নিজেদের লক্ষ্য সাধনের জন্য. আর তা শেষ হয়েছে সেই দেশের ভূমিতে অবস্থিত নির্দিষ্ট লক্ষ্যে বোমা বর্ষণের মধ্য দিয়ে, এই কথা উল্লেখ করে ওয়াশিংটন শহরের স্টুডিওতে আসা অতিথি বলেছেন:

"রাশিয়া বিশেষ করে জানতে চায় কতটা অবধি শক্তি প্রয়োগ করা হবে. দুঃখের বিষয় হল, আমাদের সঙ্গে আলোচনাতে বসা সহকর্মীরা তাদের সিদ্ধান্তে আমাদের প্রস্তাবিত এই অনুচ্ছেদের আলোচনা করতে চান নি ও তার প্রাথমিক রূপকেই ভোট দেওয়ার জন্য উপস্থিত করেছিলেন. রাশিয়া এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্যকে সমর্থন করেছে, তবে তার বাস্তবায়নের পথ কে নয়. আমরা আমাদের ভেটো দেওয়ার অধিকার ব্যবহার করি নি এবং চিন, জার্মানী, ভারত ও ব্রাজিলের সঙ্গে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছি. দুঃখের কথা হল, এখন আমরা দেখতেই পাচ্ছি যে, আমাদের আশঙ্কার ভিত্তি ছিল".

লিবিয়ার পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের জন্য আলোচনা চলবে, কিন্তু গাদ্দাফির তাতে কোনও জায়গা নেই বলে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী.

অন্য একটি উতপ্ত দেশ সিরিয়াতে পরিস্থিতি অন্য রকমের. লাভরভ মনে করেন যে, সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের উচিত হবে দেশের প্রশাসনের প্রস্তাবিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে গঠন মূলক আলোচনা করার চেষ্টা করা. প্রশাসন ও বিরোধী পক্ষের আলোচনায় সিরিয়াতে সমস্যা সমাধানের উপায় রয়েছে বলে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান বিশ্বাস করেন.