মস্কো শহরে আজ রাশিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত গির্জার জয়ন্তী উত্সব পালিত হয়েছে – পূণ্যাত্মা ভাসিলি গির্জার ৪৫০ বছর.

এটি এক অনুপম সৌধ যা রেড স্কোয়ারের অলঙ্কার হয়ে রয়েছে – রাশিয়া ও মস্কোর প্রধান চত্বর. মস্কো ক্রেমলিন বা মস্কোর প্রধান কেল্লার দেওয়ালের কাছে ষোঢ়শ শতকে রুশ সম্রাট ইভান গ্রোজনি বা ইভান দ্য টেরিবল্ এই গির্জা নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন যুদ্ধ জয়ের স্মৃতির উদ্দেশ্যে, যা মস্কোর জার বংশ করেছিল.

এক উপকথা রয়েছে যে, এই গির্জার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে ক্রুঢ় সম্রাটের আদেশে দুই স্থপতিকে অন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা আর এই রকমের সুন্দর গির্জা নির্মাণ করতে না পারে. কিন্তু অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন যে, এটা আসলে সত্য নয় – এক রূপকথা মাত্র. গির্জা সম্ভবতঃ একজন স্থপতিই বানিয়েছিলেন ও তিনি এর পরেও দেশের অন্যান্য জায়গায় আরও অনেক গির্জা বানিয়েছিলেন ও সেই সম্বন্ধে বর্ণনা ইতিহাসে পাওয়া গিয়েছে.

১৫৬১ সালে এই গির্জার প্রথম শুদ্ধি করণ অনুষ্ঠান হয়েছিল. এর প্রাথমিক নাম ছিল নির্মিত খ্রীষ্ট জননী পবিত্রতমা মাতা মেরীর ক্যাথেড্রাল যাকে অন্য নামে মানুষে পূণ্যাত্মা সন্ত ভাসিলি গির্জা বলে জানে. এই নাম দেওয়া হয়েছে রুশী পবিত্র গুরু ভাসিলির নামে ও জানা আছে যে, তাঁর খ্যাতি এতই বেশী ছিল যে, তাঁর কবর দেওয়ার সময়ে স্বয়ং সম্রাট ইভান নিজেই সেনা প্রধানদের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে এখানে এনে কবর দিয়েছিলেন.

এক সময়ে এই গির্জার জায়গা দিয়ে এক গভীর কেল্লা রক্ষার পরিখা বয়ে যেত, পরে প্রয়োজন না থাকায়, সেই পরিখা মাটি ফেলে বুজিয়ে দেওয়া হয়েছিল. মস্কোর ক্রেমলিনের প্রধান ফটকের পাশে এই গির্জা রয়েছে. এই ক্রেমলিনে আগে রুশ জারেরা থাকতেন, বর্তমানে তা দেশের প্রধানের সরকারি বাসস্থান.

আজ এই গির্জায় প্রার্থনা করা হয় এবং তাতে যাদুঘর রয়েছে. এটি রাশিয়ার সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নিদর্শন, ইউনেস্কো সংস্থা ঘোষিত বিশ্ব সংস্কৃতির এক উল্লেখ যোগ্য উত্তরাধিকার – একে তার নিজস্ব সৌন্দর্যের জন্যই মস্কো শহরে ভিজিটিং কার্ড বলে মনে করা হয়. বোধহয় এমন একজনও পর্যটককে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি এই গির্জার ছবি মস্কো থেকে সঙ্গে করে নিয়ে যান নি, যেমন, সাধারণতঃ ভারতবর্ষে গিয়ে তাজমহলের ছবি লোকে নিয়ে আসে.

মস্কো শহরে একটি অন্যতম গির্জাই এই পূণ্যাত্মা ভাসিলির গির্জা নয়, এটি একটি প্রাচীনতম গির্জাও বটে. তাই বেশ কয়েক বছর ধরেই এর পুনরুদ্ধারের কাজ করা হয়েছে, যার ফলে আজ এই গির্জা সম্পূর্ণ ভাবে নিজের ৪৫০ বছরের জয়ন্তী পালন করতে পারছে.